kalerkantho


মুশফিক-মেহেদির দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মুশফিক-মেহেদির দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ

মেহেদি হাসান মিরাজকে অভিবাদন মুশফিকুর রহিমের। এই দুজনের অবিচ্ছিন্ন ৮৭ রানের জুটিতে হায়দরাবাদ টেস্টে কালকের বিকেলটা ছিল শুধু বাংলাদেশের। ছবি : মীর ফরিদ, হায়দরাবাদ থেকে

প্রথম দিনটাই যেন ফিরে এলো তৃতীয় দিনে। শুরু আর শেষে ভীষণ অমিল নিয়ে।

পার্থক্য বলতে, বাংলাদেশের কালকের শুরুটা দুঃস্বপ্নের মতো হলেও শেষটা স্বপ্ন উসকে দেওয়ার মতো। ভারতের বিপক্ষে হায়দরাবাদ টেস্ট বাঁচানোর স্বপ্ন!

প্রতি সেশন পর বিশেষজ্ঞদের আলোচনার সময় টিভি পর্দায় ভেসে আসে একটি পাইচার্ট। ওই সেশনে কোন দলের আধিপত্য ছিল, সে সম্পর্কিত। কাল লাঞ্চের সময়ের সেই পাইচার্টে বাংলাদেশের অবস্থা নিদারুণ করুণ। টেস্টের সাত সেশনের সাতটিতেই যে জয় ভারতের! মধ্যাহ্ন ভোজ থেকে চা বিরতি—এই সেশনে বাংলাদেশ তুলেছে ১২১ রান, ভারত তুলে নেয় ২ উইকেট। অর্থাৎ, সেখানে দুই দল সমানে সমান। আর শেষ সেশনে প্রথমবারের মতো তা হয় কেবলই মুশফিকুর রহিমের দলের। ওই সেশনে না হয় মোটে ৭৬ রান যোগ হয় স্কোরবোর্ডে, কিন্তু ৩০ ওভার খেলে কোনো উইকেট হারায়নি বাংলাদেশ। স্বপ্নের জায়গাটা সেখানেই।

আগেই পর্বতসম স্কোর করে রেখেছে ভারত। তাদের ৬৮৭ রানের জবাবে বাংলাদেশের রান ৬ উইকেটে ৩২২। এখনো পিছিয়ে ৩৬৫ রানে। ফলোঅন এড়াতেই চাই আরো ১৬৬ রান। তাতে কী? মুশফিক আর মেহেদি হাসান মিরাজ অবিচ্ছিন্ন সপ্তম উইকেট জুটিতে এরই মধ্যে জুড়ে দিয়েছেন ৮৭ রান। ৮১ রানে অপরাজিত অধিনায়ক নিশ্চয়ই সতীর্থ সাকিব আল হাসানের ভুলের পুনরাবৃত্তি করবেন না। আবার নিজের প্রথম চার টেস্টে ব্যাটিং ভুলের প্রায়শ্চিত্তে এরই মধ্যে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন মেহেদি। তিনিও নিশ্চয়ই ঐতিহাসিক টেস্টটা স্মরণীয় করে রাখতে চাইবেন। তাহলেই হয়তো ওই ৩৬৫ রানে পিছিয়ে থাকা, ফলোঅন এড়ানোর ১৬৬ রানের চাহিদা সব তুচ্ছ হয়ে যাবে আজ।

শেষ বিকেলে মুশফিক-মেহেদির এমন বীরত্ব বাংলাদেশের সমর্থকদের হাহাকার উসকে দিচ্ছে আরো। ইস্, সাকিব যদি অমনভাবে আত্মাহুতি না দিতেন! ১০৯ রানে ৪ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর অধিনায়কের সঙ্গে মিলে ১০৭ রানে জুটি গড়েন তিনি। বিপর্যয় সামলে দলকে দেন স্থিতাবস্থা। কিন্তু নিজের স্থিরতা যে এলো না সাকিবের! ব্যক্তিগত ৮২ রানের সময় সেঞ্চুরিকে পায়ে দলে রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে অহেতুক উড়িয়ে মারতে গিয়ে একরকম ‘আত্মহত্যা’ই করেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে ফ্ল্যাশব্যাকে ফিরে আসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চট্টগ্রাম কিংবা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়েলিংটন। আর কত ভুল করলে তা থেকে শিক্ষা নেবেন সাকিব!

মুশফিক অবশ্য লড়ে যাচ্ছেন বীরের মতো। ভাগ্যও রয়েছে তাঁর পাশে। নইলে ১৮ রানের সময় টিভি আম্পায়ার তো তাঁকে আউট দিতেই পারতেন। দিনের একেবারে শেষ ওভারে ইশান্ত শর্মার বলে ডান হাতে ব্যথা পান। শুশ্রূষা নিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে পরের বলে চার মেরে পৌঁছে যান দারুণ এক মাইলফলকে। হাবিবুল বাশার, তামিম ইকবাল ও সাকিবের পর বাংলাদেশের চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে তিন হাজার রান পূর্ণ করেন মুশফিক।

দিনের শেষটা এমন আলোকিত হলেও শুরুটা অন্ধকারাচ্ছন্ন। মাত্র তৃতীয় ওভারেই মমিনুল হকের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউট তামিম (২৪)। দারুণ বোলিং করা ভুবনেশ্বর কুমারের এলবিডাব্লিউর শিকার মমিনুল (১২)। ওদিকে ইশান্ত শর্মার বলে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েও টিকতে পারেননি মাহমুদ উল্লাহ (২৮)। আগের দিন বিকেলের সৌম্য সরকারের সঙ্গে কাল সকালের এই তিন উইকেটে বাংলাদেশের ক্রিকেটাকাশে তখন রীতিমতো মেঘের ঘটঘটা।

সাকিব, মুশফিক, মেহেদির ব্যাটিংয়ে পরে সেই মেঘ কিছুটা কেটেছে বটে। তবে সূর্যের হাসি ফোটাতে এখনো পাড়ি দিতে হবে বহু দূরের পথ।


মন্তব্য