kalerkantho


কোহলির ডাবলে রানচূড়ায় ভারত

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



কোহলির ডাবলে রানচূড়ায় ভারত

একজন সাফল্যের হাসিতে উজ্জ্বল হলেন তো আরেকজন ডুবলেন ব্যর্থতার গ্লানিতে। বলা হচ্ছে হায়দরাবাদ টেস্টের দুই অধিনায়কের কথা।

এমনিতেই উঁচুদরের বোলিংকেও কচুকাটা করতে জানা বিরাট কোহলি নির্বিষ ও বাজে বোলিংয়ের ফায়দা লুটবেন না কেন! দুই হাত ভরে নিয়ে তাই ভারত অধিনায়ক করলেন তাঁর ক্যারিয়ারের চতুর্থ ডাবল সেঞ্চুরি। যে চারটিই আবার অধিনায়ক হিসেবে টানা চার সিরিজে।

হায়দরাবাদ টেস্টের দ্বিতীয় দিন তিনি ও তাঁর দলকে ঘিরে সাফল্য চক্রাকারে ঘুরলেও পুরো বিপরীত অবস্থা মুশফিকুর রহিম এবং বাংলাদেশের। আগের দিন নিশ্চিত রানআউট থেকে ৩৫ রানে বেঁচে যাওয়া মুরালি বিজয় করেছিলেন সেঞ্চুরি। গতকাল ঋদ্ধিমান সাহা ‘জীবন’ পেলেন আরো কমে, দিলেন মুশফিক। তাইজুল ইসলামের বলে উইকেট ছেড়ে অনেক দূর বেরিয়ে গিয়েও মুশফিকের স্টাম্পিং করার ব্যর্থতায় বেঁচে যান ৪ রানে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভারতের উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যানও তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। সেঞ্চুরি না পেলেও কাছাকাছি যাওয়া আজিঙ্কা রাহানের ৮২ রানের ইনিংসটি অধিনায়কের সঙ্গে ২২২ রানের পার্টনারশিপ তো গড়ে দিয়ে গেছে। এর সঙ্গে ২৩৯ বলে ডাবল সেঞ্চুরিতে পৌঁছানো কোহলির ২০৪ রানের ইনিংসে পূর্বাভাস যা ছিল, হয়েছেও তা-ই।

চা বিরতির ৪৫ মিনিট পর যখন ইনিংস ঘোষণা করলেন কোহলি, তখন বাংলাদেশের সামনে ৬ উইকেটে ৬৮৭ রানের ‘এভারেস্ট’ উঠে গেছে!

বাংলাদেশের বিপক্ষে যদিও এটিই সর্বোচ্চ নয়। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার ৭৩০ রানই বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বোচ্চ টেস্ট ইনিংস হয়ে আছে। এর পরেই আছে হায়দরাবাদে ভারতের ইনিংসটি। ঢাকার ওই টেস্টের মতো হায়দরাবাদেও বাংলাদেশের ইনিংস ব্যবধানে হারের সম্ভাবনা দ্বিতীয় দিন শেষেই উড়িয়ে দেওয়ার মতো অবস্থা নেই। বরং ভারতের প্রথম ইনিংসের সময়ই বাংলাদেশের ফিল্ডারদের শরীরী ভাষা বুঝিয়ে দিয়েছে যে তাঁদের মনোবল ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। ভারত একটু আগেই ইনিংস ঘোষণা করে দেওয়ায় দ্বিতীয় দিন ১৪ ওভার ব্যাটিং করতে পেরেছে বাংলাদেশ। তাতে সৌম্য সরকারের (১৫) উইকেটটি হারিয়ে ৪১ রান নিয়ে দিন শেষ করেছে সফরকারীরা। আজ তামিম ইকবাল (২৪*) ও মমিনুল হকসহ (১*) দলের অন্য শীর্ষ ব্যাটসম্যানদের সামনে তাই বন্ধুর পথ পাড়ি দেওয়ার চ্যালেঞ্জই।

কোহলি আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তের শিকার না হলে সেই চ্যালেঞ্জ আরো দুঃসাধ্য হয়ে উঠত নিশ্চিত। তাইজুলের বলে এলবিডাব্লিউ হলেও টিভি রিপ্লে দেখে মনে হয়েছে রিভিউ নিলে বেঁচেও যেতে পারতেন ডাবল সেঞ্চুরির পথে স্যার ডন ব্র্যাডম্যান ও রাহুল দ্রাবিড়ের রেকর্ড ভাঙা কোহলি। টানা তিন সিরিজে ডাবল সেঞ্চুরি আছে ওই দুজনের। কোহলি তাঁদের ছাড়িয়ে গেলেন টানা চার সিরিজের ডাবল সেঞ্চুরিতে। শেষ পর্যন্ত ২৪৬ বলে ২৪ বাউন্ডারিতে কোহলি ২০৪ রানে বিদায় নেওয়ার পর বাংলাদেশের বাজে বোলিংয়ে ফায়দা লুটেছেন সেঞ্চুরিয়ান ঋদ্ধিমান (১০৬*) এবং দ্রুত রান তোলা রবীন্দ্র জাদেজাও (৭৮ বলে দুই ছক্কা ও ৪ বাউন্ডারিতে অপরাজিত ৬০ রান)। অবশ্য সেঞ্চুরি আছে বাংলাদেশেরও। অন্তত ১০ ওভার বোলিং করেছেন, সফরকারীদের এমন পাঁচ বোলারের সবাই-ই রান খরচে সেঞ্চুরি করেছেন। এঁদের বাজে বোলিংয়ের মধ্যেও যা একটু ভালো করেছেন, তা ওই তাইজুলই। ৪৭ ওভার হাত ঘুরিয়ে ৬টি মেডেনসহ ১৫৬ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি। মুশফিক যদি ঋদ্ধিমান সাহাকে ৪ রানেই স্টাম্পিং করতে পারতেন, তাহলে নিশ্চিতভাবেই তাইজুলের বোলিংটা অনেক উজ্জ্বল দেখাত!


মন্তব্য