kalerkantho


সিলেটে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন

মাটি ধসে ফের তিন শ্রমিকের মৃত্যু

সিলেট অফিস ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মাটি ধসে ফের তিন শ্রমিকের মৃত্যু

সিলেটে পাথর উত্তোলনের সময় আবার মাটি ধসে শ্রমিকের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এবার জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দি পাথর কোয়ারিতে নিহত হয়েছেন তিনজন।

গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার পর গোপনে লাশ সরিয়ে নেওয়া হলেও গতকাল শুক্রবার সুনামগঞ্জ থেকে দুজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যজনের পরিচয় শনাক্ত করা গেলেও লাশ এখনো উদ্ধার করা যায়নি।

এর আগে গত ২৩ জানুয়ারি জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় একইভাবে পাথর উত্তোলনের সময় টিলা ধসে পাঁচজনের মৃত্যু হয়। তখনো লাশ সরিয়ে ফেলা হয়েছিল।

বিছনাকান্দিতে নিহতরা হলেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গুলেরগাঁও গ্রামের নজির আলীর ছেলে জাকির হোসেন (২০) ও ওয়াতির আলীর ছেলে তুলা মিয়া (২৫), নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ি উপজেলার চানপুর গ্রামের পরিমল সরকার (২৬)।

তাঁদের মধ্যে পরিমলের লাশ এখনো উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

গোয়াইনঘাট থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন মাটি ধসে তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বিছনাকান্দি পাথর কোয়ারির বাদেপাশা খেয়াঘাটসংলগ্ন বাছির মিয়ার মালিকানাধীন গর্তে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করছিলেন শ্রমিকরা।

এ সময় গর্তটিতে মাটি ধসে পড়ে এবং এতে চাপা পড়ে তিন শ্রমিকের মৃত্যু হয়।

প্রাণহানির ঘটনা ধামাচাপা দিতে তিন শ্রমিকের লাশ রাতের আঁধারে সরিয়ে ফেলা হয়। পুলিশ এরই মধ্যে দুজনের লাশ সুনামগঞ্জ থেকে উদ্ধার করেছে। নিহত অন্য শ্রমিকের পরিচয় পাওয়া গেছে জানিয়ে ওসি বলেন, লাশ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

ওসি বলেন, সুনামগঞ্জ সদর থানা পুলিশের সহযোগিতায় লাশ দুটি আটক করে ওই থানায় রাখা হয়েছে। সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে তাঁদের ময়নাতদন্ত হবে। এ ছাড়া, অন্য লাশটির বিষয়ে নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ি থানাকে অবহিত করা হয়েছে।

আমাদের সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গতকাল দুপুরে সদর উপজেলার কাঠইর ইউনিয়নের গুলেরগাঁও গ্রাম থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করেছে সুনামগঞ্জ থানার পুলিশ।

নিহত জাকিরের বাবা নজির মিয়া জানান, কাজে গিয়ে সপ্তাহ পেরোনোর আগেই লাশ হয়ে ফিরেছেন তাঁর ছেলে। মৃত্যুর পর দুর্ঘটনায় মারা গেছে জানিয়ে মালিকপক্ষ লাশ গাড়িতে তুলে তাঁদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছিল। তিনি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ বাড়ি থেকে তাঁর ছেলে ও তুলা মিয়ার লাশ নিয়ে গেছে।

সুনামগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পবিত্র কুমার সিনহা জানান, সিলেট পুলিশের খবরের ভিত্তিতে তাঁরা লাশ দুটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছেন।

এসআই পবিত্র কুমার জানান, এখনো এ বিষয়ে নিহত দুজনের পরিবারের কাছ থেকে তাঁরা কোনো অভিযোগ পাননি।

সিলেটের পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, ‘নিহত শ্রমিকদের লাশ গোপন করার সঙ্গে জড়িত এবং ওই গর্তের মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

প্রসঙ্গত, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শাহ আরেফিন টিলা ধসে পাঁচ শ্রমিক মৃত্যু হয়। প্রথমে দুজনের মৃত্যুর কথা বললেও পরে পুলিশ পাঁচজনের প্রাণহানির বিষয়টি নিশ্চিত করে। ওই সময় গোপনে লাশ সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। পুলিশ নেত্রকোনার পূর্বধলা থেকে দুজনের লাশ উদ্ধার করে।

এ ঘটনার পরদিন প্রশাসন সেখানে অভিযান চালিয়ে পাথর উত্তোলন বন্ধ করে দেয়। জব্দ করা হয় পাথর তোলার সরঞ্জাম। পাথর তোলার এক শ্রমিককেও তখন আটক করা হয়।

এ ছাড়া একটি তদন্ত কমিটি করে প্রশাসন। কমিটি ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় সিলেট জেলা প্রশাসকের কাছে। এ প্রতিবেদনে টিলার ইজাদারসহ ৪৭ জনের একটি চক্রকে চিহ্নিত করা হয়, যারা অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে আসছিল। তবে প্রতিবেদনটি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে, গতকাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় পাহাড় থেকে মাটি কেটে আনার সময় ধসের ঘটনা ঘটে। এতে মাটিচাপা পড়ে নিহত হন উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের কোল্লাপাথর গ্রামের আবদুল লতিফের ছেলে মালু মিয়া (২৫)। আহত হয়েছেন একই গ্রামের হোসাইন নামের আরো একজন।


মন্তব্য