kalerkantho


মুসলমানদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা নেই

আপিলেও হারলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি   

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



আপিলেও হারলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

মুসলিমপ্রধান সাতটি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন ফেডারেল আপিল আদালত। নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ট্রাম্পের জারি করা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় গত সপ্তাহে নিম্ন আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশটি আপিল আদালতও বহাল রেখেছেন।

স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার নাইন্থ সার্কিট আপিল আদালতে ট্রাম্পের জারি করা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শুনানি হয়। শুনানি শেষে তিন বিচারকের বেঞ্চ সর্বসম্মতভাবে আদেশ দেন। আদেশে বলা হয়, ট্রাম্পের জারি করা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সিয়াটলের আদালত যে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন, তা বহাল থাকবে।

এই আদেশের ফলে ট্রাম্পের রোষানলে পড়া ওই সাত দেশ অর্থাৎ ইরান, ইরাক, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেনের বৈধ ভিসা ও কাগজপত্রধারী যাত্রীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া যাবে না। সেই সঙ্গে বিশ্বের যেকোনো দেশের শরণার্থীদের ক্ষেত্রে যে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল, তা-ও আপাতত খাটবে না। আদালতের এই আদেশে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এক টুইটে তিনি বলেছেন, এর সঙ্গে রাষ্ট্রের নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত এবং বিষয়টি তিনি আদালতেই দেখবেন। আদালতের ওই আদেশকে ‘রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত’ আখ্যায়িত করে পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরাই শেষ পর্যন্ত এই মামলা জিতব। ’

সান ফ্রান্সিসকোর নাইন্থ সার্কিট আপিল কোর্টের তিন বিচারক তাঁদের সর্ববম্মত সিদ্ধান্তে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ ওই নিষেধাজ্ঞার যৌক্তিকতা তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে।

সাত দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে দিলে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হবে বলে দাবি করলেও সরকার এর পক্ষে কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেনি।

এই আদেশে সন্তোষ প্রকাশ করে ওয়াশিংটনের অ্যাটর্নি জেনারেল বব ফার্গুসন বলেন, এটা তাঁর রাজ্যের জন্য একটি বড় বিজয়।

নিউ ইয়র্কের মেয়র বিল ডে বালসিও বলেন, ‘আমরা সব সময় আমাদের প্রতিবেশীদের পাশে আছি, তারা যেখান থেকেই আসুক না কেন। এটাই আমাদের ঐতিহ্য। ’

হোয়াইট হাউসের পক্ষে এ মামলা লড়া যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা আপিল আদালতের আদেশ পর্যালোচনা করে দেখছে এবং সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সুযোগগুলো খতিয়ে দেখছে।  

সে ক্ষেত্রে এখনই এ মামলার নিষ্পত্তি হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্র সরকার সার্কিট কোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গেলে সেখানেই নির্ধারিত হবে গত ২৭ জানুয়ারি ট্রাম্পের দেওয়া ওই নির্বাহী আদেশের ভাগ্য। কোনো কোনো আইনজ্ঞ বলছেন, সরকার চাইলে অনেক বিচারকের সমন্বয়ে বড় একটি বেঞ্চ তৈরি করে সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার জন্য নাইন্থ সার্কিট আপিল কোর্টে আবেদন জানাতে পারবে। অথবা সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানানো যাবে। আর এর জন্য সরকার ১৪ দিন সময় পাবে।

বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আট বিচারকের মধ্যে চারজন নিয়োগ পেয়েছেন রিপাবলিকানদের আমলে, আর বাকি চারজন ডেমোক্র্যাট সরকারের আমলে। ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের ওই নির্বাহী আদেশের বিরোধিতা করে আসছে শুরু থেকেই। ওয়াশিংটন, মিনেসোটাসহ ১৬ অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাটরা আইনগত লড়াইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আর তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নসহ বেশ কটি মানবাধিকার সংগঠন।

গত বৃহস্পতিবার আপিল আদালতের দেওয়া রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে বেশির ভাগ মানুষ, বিশেষ করে ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা। তারা মনে করছে, বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টে গেলেও একই ধরনের রায় আসবে।


মন্তব্য