kalerkantho


সারা দিনের হতাশায় বিলীন শুরুর সাফল্য

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সারা দিনের হতাশায় বিলীন শুরুর সাফল্য

দিনের শুরুতেই ছিল সম্ভাবনার ঝিলিক। কিন্তু দিনের বাকি সময়ে দেখা গেল নিউজিল্যান্ড সফরে ঘাড় মটকানো ভূত এখনো বাংলাদেশ দলের পিছু ছাড়েনি! ছাড়েনি বলেই দিনের শেষে সব সম্ভাবনা বিলীন হয়ে বিশাল সংগ্রহ গড়ার পথে এগিয়ে গেছে ভারতও।

টস জিতে ব্যাটিং নেওয়া বিরাট কোহলির দলের হায়দরাবাদ টেস্টের প্রথম ওভার শেষে রান ছিল ১ উইকেটে ২। অথচ দিনের শেষে কিনা তারাই ৩ উইকেটে ৩৫৬ রান নিয়ে রানচূড়ায় পৌঁছার অপেক্ষায়।

অপেক্ষা বাংলাদেশেরও। আর সেটি রানপাহাড়ে চাপা পড়ার! ভারতের মাটিতে ঐতিহাসিক প্রথম টেস্টের শুরুতেই মুশফিকুর রহিমের দলের এ জায়গায় গিয়ে দাঁড়ানোর কারণ নিউজিল্যান্ড সফরে করা ভুলের পুনরাবৃত্তি। সেখানে একের পর এক ক্যাচ ছাড়ার মহোৎসব করেছিলেন ফিল্ডাররা। সেই সঙ্গে চেষ্টা করলে ক্যাচ হয়, এমন সুযোগগুলো নেওয়ার ক্ষেত্রে উদাসীনতাও খুব সমালোচিত হয়েছিল। ভারত যাওয়ার আগে সেসব থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা বলে যাওয়া বাংলাদেশ দলের মধ্যে গতকাল রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে দেখা গেল নতুন উপসর্গও। সেটি ক্রিকেটের ‘বেসিক’ মেনে জায়গামতো দাঁড়াতেই ভুলে যাওয়া। তাতেই ওপেনার মুরালি বিজয়ের সেঞ্চুরি।

আর সুযোগ হারানোর হতাশায় ক্রমেই নির্বিষ হতে থাকা বোলিংয়ের সঙ্গে যোগ হয়েছিল উইকেটেরও ব্যাটিং উপযোগিতা বাড়তে থাকা। দুয়েমিলে দিনের শেষে হার না মানা সেঞ্চুরি বিরাট কোহলিরও। আগের দিনই ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিক বলেছিলেন, ‘কোহলি প্রথম বলেও আউট হতে পারেন, আবার সেঞ্চুরি-ডাবল সেঞ্চুরিও করতে পারেন। ’ গত বছর তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি করা ভারত অধিনায়কের ব্যাটে যেন ১৬তম সেঞ্চুরিকে আরো বড় কিছুতে রূপ দেওয়ার আত্মবিশ্বাসই ঝিলিক দিচ্ছে। আজিঙ্কা রাহানেকে (৪৫) নিয়ে অবিচ্ছিন্ন চতুর্থ উইকেটে ১২২ রানের পার্টনারশিপ গড়া কোহলি ১২টি বাউন্ডারিতে ১১১ রানে অপরাজিত।

ভারতের ইনিংসে শতরানের পার্টনারশিপ আছে আরেকটি। সেটি প্রথম ওভারেই পাওয়া তাসকিন আহমেদের সাফল্যের পর। চেন্নাইতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা নিজের সবশেষ টেস্টে ১৯৯ রানের ইনিংস খেলা লোকেশ রাহুল (২) এবার বড্ড আলসেমিতে তাসকিনের করা বাইরের বল জায়গায় দাঁড়িয়ে চালাতে গিয়েছিলেন। তাতেই বল টেনে আনেন স্টাম্পে। কিন্তু নিজেদের ব্যর্থতায় শুরুতেই সাফল্য পাওয়া বাংলাদেশ ক্রমেই পথ হারাতে থাকে। বিশ্বের সেরা ব্যাটিং লাইনের বিপক্ষে সুযোগ হারালে কি আর পথে থাকা যায়! নতুন বলে দারুণ বোলিংই করছিলেন তাসকিন ও কামরুল ইসলাম রাব্বি। পরের জনের বলেই শুরু সুযোগ হারানোর। কামরুলের বলে চেতেশ্বর পূজারার ব্যাটের কানা নিয়ে যায় বল। এবং যেটি উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিমের ক্যাচ হলেও তিনি চেয়ে চেয়ে দেখেন। বল এক ড্রপে প্রথম স্লিপের ফিল্ডারের বেশ সামনে গিয়ে পড়ে! অফস্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজের দ্বিতীয় ওভারে দুইবার বল প্রথম স্লিপে দাঁড়ানো সাকিব আল হাসানকে পাশ কাটিয়ে গেছে, তেড়েফুঁড়ে চেষ্টা করলে যার একটি অন্তত ক্যাচ হতেই পারত। এরপর ভুল বোঝাবুঝিতে দুই ব্যাটসম্যান এক প্রান্তে চলে যাওয়ায় পাওয়া রানআউটের সুবর্ণ সুযোগও নষ্ট হয়েছে। একেই কামরুলের থ্রো জোরালো ছিল না। তার ওপর নন স্ট্রাইকার প্রান্তে দাঁড়ানো বোলার মিরাজের যেখান ক্রিকেটের ‘বেসিক’ অনুযায়ী উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে বল ধরার কথা, সেখানে তিনি কাজটি করতে গেলেন সামনে দাঁড়িয়ে! সুবাদে বল হাত ফসকাল এবং তাতেই ৩৫ রানে জীবন পাওয়া মুরালি বিজয় করে ফেললেন নিজের খেলা সবশেষ ৫ টেস্টের মধ্যে তৃতীয় সেঞ্চুরি। ১২ বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় ১০৮ রান করা বিজয়কে বোল্ড করে ফিরিয়েছেন বাংলাদেশের সবচেয়ে মিতব্যয়ী বোলার তাইজুল ইসলাম। এর আগে মিরাজের বলে সহজ ক্যাচকে কঠিন বানিয়ে নেওয়া মুশফিক সাজঘরের পথ দেখানোর আগে পূজারাও করে গেছেন ৮৩ রান। বিজয়-পূজারার দ্বিতীয় উইকেট জুটিও ১৭৮ রানের। যা বাংলাদেশের সুযোগ কাজে না লাগানোর ফলও। শুরুর সাফল্যও তাই সারা দিনের হতাশায় বিলীন হওয়াটা ছিল কেবলই সময়ের ব্যাপার!


মন্তব্য