kalerkantho


বনের জমিতে শতাধিক স্থাপনা সিকদার সিন্ডিকেটের

কালিয়াকৈরের নিয়ন্ত্রণ এক পরিবারে

হায়দার আলী ও শরীফ আহম্মেদ শামীম, কালিয়াকৈর থেকে    

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বনের জমিতে শতাধিক স্থাপনা সিকদার সিন্ডিকেটের

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় বন বিভাগের জমিতে শতাধিক স্থাপনা তৈরি করেছে একটি পারিবারিক সিন্ডিকেট। ওই সিন্ডিকেটের কেন্দ্রে রয়েছেন কালিয়াকৈর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. কামাল উদ্দিন সিকদার।

সিকদার সিন্ডিকেট নামে পরিচিত ওই চক্র কেবল বন বিভাগের জমি দখল নয়, ব্যক্তিমালিকানারও বহু জমি দখল করেছে। ওই সব জমি দখলের পর কোনোটি বিক্রি করে; আবার কোথাও স্থাপনা তুলে ভাড়া হিসেবে লাখ লাখ টাকা আদায় করছে এই সিন্ডিকেট। তা ছাড়া উপজেলার শিল্প-কারখানার কর্তৃপক্ষও জিম্মি সিকদার সিন্ডিকেটের কাছে। শতাধিক শিল্প-কারখানার ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে তারা। ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে খুনসহ নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে এই সিন্ডিকেটের ক্যাডাররা। পরিবহন খাতেও রয়েছে তাদের আধিপত্য।

গত রবি ও সোমবার ওই এলাকা সরেজমিনের পাশাপাশি কালের কণ্ঠ’র অনুসন্ধানে কামাল সিকদারের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কামাল উদ্দিন সিকদারের নেতৃত্বাধীন সিকদার সিন্ডিকেটে রয়েছে তাঁর ছোট ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মোশারফ হোসেন সিকদার, উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ফারুক হোসেন সিকদার, কামাল উদ্দিনের আরেক ভাই হারুন সিকদার, ভগ্নিপতি সরকার মোশারফ হোসেন জয়, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মুরাদ কবির, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পরিবহন নেতা আকবর আলী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহপ্রচার সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক সিকদার জহিরুল ইসলাম জয়, উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি মফিজুর রহমান লিটন, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি খাত্তাব মোল্লা, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদের জেলা সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন ইকবালসহ ২৫-৩০ জন।

বনখেকো জসিম : সিকদার সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য মো. জসিম উদ্দিন ইকবাল ‘বনখেকো জসিম’ নামেই পরিচিত।

উপজেলার চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার জয়দেবপুর-কালিয়াকৈর সড়কের উভয় পাশে বন বিভাগের জমি দখলের পর স্থাপনা নির্মাণ করে অন্যের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন তিনি। বনের শতাধিক স্থানে জমি দখলের পর স্থাপনা তৈরির কথা জানা গেছে। তিনি নিজেও বনের জমিতে দুটি পাকা বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছেন। তা ছাড়া বাড়ির পাশেই বন বিভাগের জমিতে মায়ের নামে মার্কেট করে ভাড়া দিয়েছেন।

বনের জমি দখলের অভিযোগে ২০টি মামলা এবং ১৯টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) রয়েছে জসিমের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে একটি মামলায় ছয় মাসের সাজাও হয়েছে তাঁর। একাধিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে জসিমের বিরুদ্ধে।

বন বিভাগের কালিয়াকৈরের চন্দ্রা বিট কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ কালের কণ্ঠ’র কাছে দাবি করেন, ‘আমার সময়ে জমি দখল হয়নি। আমার আগে যেসব কর্মকর্তা ছিলেন সেই সময় বনের জমি দখলের অভিযোগে জসিমের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। ’ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে বলে জানান বিট কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বন কর্মকর্তা বলেন, কামাল সিকদারের ঘনিষ্ঠ জসিম বনের জমি দখল করে অন্যের কাছে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা নিচ্ছেন। সম্প্রতি বনের জমি দখলের রিপোর্ট করতে গিয়ে জসিম ও তাঁর ক্যাডারদের হামলার শিকার হন এসএ টিভির অনুসন্ধানী টিম ‘খোঁজ’-এর সদস্যরা। ওই ঘটনায় জসিম ও তাঁর ক্যাডারদের বিরুদ্ধে এসএ টিভির গাজীপুর প্রতিনিধি মো. শাহজাহান মিয়া বাদী হয়ে মামলাও করেছেন।

উপজেলাজুড়ে জমি দখল : অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নেই সিকদার সিন্ডিকেটের লোকজন জমি দখল করে অনেককেই ভিটেমাটিছাড়া করেছে। এমনই একজন পৌর এলাকার সফিপুর বাজারের আব্দুর রাজ্জাক। তাঁর জমির পাশেই ছিল কামাল উদ্দিনের ছোট ভাই মোশারফ সিকদারের জমি। মোশারফ সিকদার একপর্যায়ে আব্দুর রাজ্জাকের ৬ শতাংশ জমি দখলে নিয়ে ছয়তলা ভবন নির্মাণ করেন।

একইভাবে উপজেলার মৌচাক ইউনিয়নের কৌচাকড়ি মৌজায় কামরাঙ্গীরচালা গ্রামে কল্লোল হাউজিংয়ের ২০ থেকে ২৫ বিঘা জমি ছিল। ওই জমিতে দেড় শতাধিক প্লট তৈরি করে বিক্রিও করে ওই কম্পানি। ঢাকার মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার সারা জীবনের উপার্জনের টাকায় প্লটগুলো কেনে। অথচ এক রাতে কামাল সিকদারের ছোট ভাই ফারুক সিকদারের ক্যাডার বাহিনী জমি দখলে নিয়ে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে দেয়। পরে জাল দলিল বানিয়ে আরেকটি কম্পানির কাছে বিক্রি করে দেয়। ওই জমির বর্তমান মূল্য প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। হাউজিংয়ে কেনা প্লটের মালিকানা ফিরে পেতে ভুক্তভোগীরা এখন বিভিন্ন জায়গায় ঘুরছে।

একই মৌজার মৌচাক এলাকার মো. হারিছ উদ্দিন ও তাঁর ভাইদের ৯৪ শতাংশ জমি, সিরাজুল ইসলাম ও তাঁর স্বজনদের তিন বিঘা, পৌর এলাকার পূর্ব চান্দুরায় দেবেন্দ্র, জগদ্বিশ, গজেন্দ্রসহ তাঁর স্বজনদের ৩০ বিঘা জমিসহ উপজেলার শতাধিক পরিবারের জমি দখল করেছে এই সিন্ডিকেট।

শতাধিক হিন্দু পরিবারকে এলাকাছাড়া : উপজেলার মধ্যপাড়া ইউনিয়নের আমদাইর গ্রামে দেড় শতাধিক হিন্দু পরিবারের বাস ছিল। গ্রামের অবস্থাসম্পন্ন ধিরেন্দ্র নাথ সরকার, নির্মল নাথ সরকার ও দয়াল নাথ সরকার—এই তিন ভাইয়ের পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ৬০ বিঘা জমি ছিল। শতাধিক বছর ধরে এই সম্পত্তি তাঁরা ভোগদখল করে আসছিলেন। ওই জমিতে বসবাস করতেন তাঁদের উত্তরসূরি বীরেন্দ্র নাথ সরকার। কিন্তু তিন ভাইয়ের অর্ধশত কোটি টাকার জমি ও স্থাপনা এক রাতে দখল করে নেয় সিকদার বাহিনী। গরু-ছাগল, ঘরের আসবাব, ৯০ মণ চালসহ জিনিসপত্র লুটে নেয় তারা।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন সিকদারের ঘনিষ্ঠ মুরাদ কবির ও তাঁর ক্যাডাররা হিন্দু পরিবারগুলোকে বিতাড়িত করে জমি দখলে নেয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

বসতভিটা ছেড়ে যেতে না চাওয়ায় নারী ও শিশুদের ওপর নির্যাতনও চালানো হয়। বীরেন্দ্র নাথ সরকারের স্ত্রী প্রভাতী সরকার কালের কণ্ঠ’র কাছে অভিযোগ করে বলেন, ‘সেই দিন ছিল বিজয়া দশমীর রাত। প্রতিমা বিসর্জনে ব্যস্ত ছিলাম আমরা। রাত ৮টার দিকে মুরাদ কবিরের সহযোগী হাসমত খান, ময়ান, জমির উদ্দিনসহ এক থেকে দেড় শ লোক বাড়িতে এসে আমাদের ওপর হামলা করে। আমার চুলের মুঠি ধরে টেনেহিঁচড়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। ’

অনুসন্ধানে জানা গেছে, হিন্দু পরিবারটি সম্পত্তি দখলে নেওয়ার আগেই জিতেন্দ্র চন্দ্র বিশ্বাস, ধীরেন্দ্র চন্দ্র সরকার, দধি লাল বিশ্বাস, মিহির চন্দ্র বিশ্বাস ও স্থানীয় প্রতিবাদী যুবক আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা করে ওই সিন্ডিকেট। জমি দখলের পর উল্টো ধর্ষণসহ পাঁচটি মামলা করে তাঁদের বিরুদ্ধে। ওই সব পরিবারের সদস্যরা জমি উদ্ধার করবে কি, নিজের জীবন নিয়েই এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

বীরেন্দ্র সিকদার অভিযোগ করে বলেন, জমি দখল বন্ধে সহায়তার জন্য স্থানীয় এমপি ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের কাছে অভিযোগ করেন তাঁরা। মন্ত্রী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কালিয়াকৈর থানার ওসিকে নির্দেশও দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উল্টো তাঁদের বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করে জমি দখলে নেয় ওই সিন্ডিকেট। আর মিথ্যা মামলায় এখনো তিনজন জেল খাটছেন।

ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ : কামাল উদ্দিন সিকদার নিজেই ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন চন্দ্রার ইকু গার্মেন্টের। মোশারফ সিকদার ঝুট নিচ্ছেন ফেয়ার ট্রেডের আর ফারুক সিকদার নিচ্ছেন ফারইস্ট গার্মেন্টের। হারুন সিকদারের দখলে মৌচাকের এমএস গার্মেন্ট, জসিম উদ্দিন ইকবালের দখলে এপেক্স ফুটওয়্যার-১ ও ২, এপেক্স ট্যানারি, ব্লু-ওশান জুতার কারখানা, এপেক্স ফার্মাসিউটিক্যালস, সিপি বাংলাদেশ লিমিটেডের একাংশ ঝুটের নিয়ন্ত্রণ। হাবিব সিকদারের নিয়ন্ত্রণে মৌচাকের রতনপুর এলাকার করোনি নিট ফ্যাশন লিমিটেড, তোফাজ্জল হোসেনের নিয়ন্ত্রণে মৌচাকের মোশাহেদ গার্মেন্ট, শামীম আহাম্মেদের নিয়ন্ত্রণে মৌচাকের পূর্বাণী গার্মেন্টসহ শতাধিক প্রতিষ্ঠানের ঝুট ব্যবসা। খাবার সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে কামাল সিকদারের লোকজনের।

ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলামকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সিকদার সিন্ডিকেটের সদস্য পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক খাত্তাব মোল্লা ও তার ক্যাডাররা চন্দ্রা এলাকায় তাঁকে কুপিয়ে খুন করে বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনার মামলায় খাত্তাব মোল্লাকে প্রধান আসামি করা হয়। ওই মামলায় তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রও দেওয়া হয়।

ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে আরেকটি সিন্ডিকেট রয়েছে। এই সিন্ডিকেটের কেন্দ্রে উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রাসেল। তিনি নিয়ন্ত্রণ করছেন সফিপুরের নিট এশিয়া গার্মেন্ট, তাঁর ভাই সাইফুজ্জামান সেতুর নিয়ন্ত্রণে পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার ডিভাইন গ্রুপের ইউনিট-১ ও ২, এফডি ফুটওয়্যার লিমিটেড ও আইমন গার্মেন্ট। আরেক ভাই ইলিয়াস কাঞ্চন নিয়ন্ত্রণ করছেন চন্দ্রা এলাকার ড্রেসম্যান গার্মেন্ট। এভাবে উপজেলা চেয়ারম্যান রাসেলের সিন্ডিকেট ২০টির বেশি প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করছে।

চন্দ্রায় নায়াগ্রা গার্মেন্টের ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে গিয়ে জাতীয় শ্রমিক লীগের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মো. আতিকুর রহমান আতিককে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে দুর্বৃত্তরা। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আকবর আলী ও উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রাসেলের লোকজন তাঁর ওপর হামলা করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

আতিকুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে রেজাউল করিম রাসেল ও আকবর আলীর লোকজন আমার ওপর হামলা করে। ’

পোশাক কর্মীকে ধর্ষণের পর উল্টো মামলা : খাত্তাব মোল্লা এক পোশাক কর্মীকে ধর্ষণ করলেও উল্টো মামলা হয় ওই নির্যাতিতার বিরুদ্ধেই। ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর থানায় মামলা করতে গেলে ইয়াবা বিক্রির মামলায় তাঁকে জেলে পাঠায় সিকদার সিন্ডিকেট। তিন মাস জেল খেটে এসে ওই পোশাককর্মী সাংবাদিকদের সহযোগিতায় থানায় খাত্তাব মোল্লার বিরুদ্ধে মামলা করেন।

ওই পোশাক কর্মী কালের কণ্ঠকে জানান, খাত্তাব মোল্লার ধর্ষণের শিকার হলেও প্রথমে তাঁকেই ইয়াবা মামলায় আসামি করে জেলে পাঠানো হয়। পরে প্রশাসনের ওপর মহলের নির্দেশে তাঁর মামলা নেয় থানা। ওই পোশাক কর্মীর এক স্বজন বলেন, ‘মামলা হলেও চার্জশিট থেকে খাত্তাব মোল্লার নাম বাদ দিয়েছিল পুলিশ। পরে আদালতের নির্দেশে খাত্তাব মোল্লাকে আবার চার্জশিটভুক্ত করা হয়। ’

এই খাত্তাব মোল্লাকে বাঁচাতে মোশারফ হোসেন সিকদার বিভিন্নভাবে সহযোগিতা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযুক্তদের বক্তব্য : উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মুরাদ কবির অভিযোগ অস্বীকার করে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে সেটা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ওই সব জমির দখলের সঙ্গে আমি নাই। তবে ওই জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঝামেলা চলছে। সেটা উভয় পক্ষকে নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা চালিয়েছিলাম। ’ জমি থেকে হিন্দু পরিবারকে উচ্ছেদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রকৃত মালিকরাই জমির দখল নিয়েছে, সেখানে হিন্দুদের কোনো ধরনের উচ্ছেদ করা হয়নি। ’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মোশারফ হোসেন সিকদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি আব্দুর রাজ্জাকের জমি দখল করি নাই। উল্টো তাকেই আমি ২ শতাংশ জমি দিয়েছে। আর যারা এই অভিযোগ করেছে তারা আমাদের সুনাম নষ্ট করতেই এমন অভিযোগ করছে। ’

এ ছাড়া ফারুক সিকদার বলেন, ‘কল্লোল হাউজিং নামের কোনো প্রতিষ্ঠানই আমি চিনি না। আপনি কোথা থেকে এমন তথ্য পেয়েছেন আমি জানি না। ’

উপজেলা চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি রেজাউল করিম রাসেল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি কোনো সন্ত্রাসের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নই। আর কারা কালিয়াকৈর উপজেলা নিয়ন্ত্রণ করছে সেটা এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বললেই আসল চিত্র পেয়ে যাবেন। এর চেয়ে বেশি কিছু আমি বলতে পারি না। ’

আরেক অভিযুক্ত কালিয়াকৈর পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি খাত্তাব মোল্লার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া যায়নি।

আর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. কামাল উদ্দিন সিকদারের একাধিক মোবাইল ফোন নম্বরে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার এসএমএস পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।


মন্তব্য