kalerkantho


ইমাম সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

আলেম-উলামাদের জন্য অর্থনৈতিক জোন করা হবে

জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আরো সোচ্চার হওয়ার আহ্বান

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



আলেম-উলামাদের জন্য অর্থনৈতিক জোন করা হবে

আলেম-উলামাদের জন্য একটি অর্থনৈতিক জোন করার চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আলেম-উলামাদের আরো সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যাতে আয় বাড়ানো যায় এ জন্য শুধু আলেম-উলামাদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে—এমন একটি অর্থনৈতিক জোন তৈরি করার চিন্তাভাবনা চলছে। কারণ আমরা সারা বাংলাদেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল করছি, সেখানে কেউ যদি কোনো ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠান করতে চায় সে জন্যও সুযোগ দেওয়া হবে। ’

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় ইমাম সম্মেলন ও শিশু-কিশোর সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে সনদ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

একই সঙ্গে হালাল খাদ্য ও পণ্য উত্পাদনকারী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে পর্যবেক্ষণ ও তত্ত্বাবধানের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন অনুমোদনপ্রাপ্ত একজন করে আলেম নিয়োগদানের বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এতে আলেম-উলামাদের কর্মক্ষেত্র সম্প্রসারিত হবে। বিদেশে বাংলাদেশের হালাল দ্রব্যের চাহিদা এবং গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ২০১৫-১৬ এই দুই বছরের ছয়জন শ্রেষ্ঠ ইমাম এবং ২০১৪-১৫ সালের ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত দেশব্যাপী শিশু-কিশোর সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও সনদপত্র তুলে দেন।

প্রধানমন্ত্রী ধর্মীয় বিষয়ে তাঁর সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘জিয়াই দেশে মদ ও জুয়ার অবাধ লাইসেন্স প্রদান করেছিলেন।

সাম্প্রতিক সময়ে মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলোতে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং সংঘাতের বিস্তারের প্রেক্ষাপটে অস্ত্র বিক্রেতা দেশগুলোর দিকে আঙুল তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘যেসব দেশ মুসলিম অধ্যুষিত, সেখানেই মারামারি, কাটাকাটি, সেখানেই বোমাবাজি, খুনখারাবি হচ্ছে। সেখানেই অস্ত্রের ব্যবহার হচ্ছে। কিন্তু এই অস্ত্রটা তৈরি করে কারা? আর লাভবান কারা হয়? রণক্ষেত্র বানাচ্ছে আমাদের মুসলমানদের জায়গাগুলো। রক্ত যাচ্ছে মুসলমানদের। আর ওই অস্ত্র তৈরি করে আর বিক্রি করে কারা লাভবান হচ্ছে? সেটা আপনারা একটু চিন্তা করে দেখবেন। ’

উলামা-মাশায়েখদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা চাই আপনারা যদি মানুষকে ভালোভাবে বোঝান, তাহলেই আমরা এ দেশ থেকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ চিরতরে দূর করতে পারব এবং সে বিশ্বাস আমার আছে। ’ তিনি বলেন, ‘আপনাদের কথা মানুষ শুনবে, আপনাদের কথা মানুষ নেবে। আমি আহ্বান করেছিলাম, জনগণ এ ব্যাপারে সাড়া দিয়েছে এবং বেশ কিছু কাজও করেছে। আমি চাই এটা আরো ব্যাপকভাবে প্রচার করা হোক। ’ তিনি বলেন, ‘আজকের দিনে বড় একটি সমস্যা মাদকাসক্তি এবং অন্যটি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ। এদের হাত থেকে আমাদের শিশুদের, যুবসমাজ তথা দেশবাসীকে রক্ষা করতে হবে। ’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। কিন্তু সব থেকে বড় শক্তি মানুষের শক্তি। মানুষের ভেতর যদি সচেতনতা থাকে, মানুষ যদি এটার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় তাহলে এই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দেশ থেকে চিরতরে দূর হবে। ’

প্রধানমন্ত্রী জঙ্গিবাদকে বৈশ্বিক সমস্যা আখ্যায়িত করে বলেন, ‘আমরা সমগ্র বিশ্বকে দেখাতে চাই বাংলাদেশই পারবে শান্তি প্রতিষ্ঠা করে সত্যিকার ইসলাম ধর্মের মূল মর্মবাণী মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে। মানুষ যেন সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে। আর সেটা বাংলাদেশই করতে পারবে। ’

ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এবং ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বজলুল হক হারুন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুল জলিল স্বাগত বক্তব্য দেন। আরো বক্তব্য দেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক শামিম মো. আফজাল এবং ইমাম ও উলামায়ে কেরামদের পক্ষে মাওলানা ওবায়দুল্লাহ এরশাদ। সূত্র : বাসস।


মন্তব্য