kalerkantho


সম্পত্তিতে অধিকার আজও পেল না হিন্দু নারীরা

আশরাফ-উল-আলম ও রেজাউল করিম   

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সম্পত্তিতে অধিকার আজও পেল না হিন্দু নারীরা

বাংলাদেশের সংবিধানে নারী-পুরুষের সমান অধিকার। নারীনীতিতেও তাই। অথচ সম্পত্তিতে এ দেশের হিন্দু নারীর উত্তরাধিকার আজও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এ অধিকার প্রতিষ্ঠায় একদিকে যেমন সরকারের নেই কোনো উদ্যোগ, তেমনি বেসরকারি মানবাধিকার সংগঠনগুলোরও নেই কোনো সামাজিক আন্দোলন, তাগিদ। মুসলিম মেয়েসন্তান ছেলেসন্তানের মতোই সম্পত্তির ভাগ পায়। স্বামীর সম্পত্তিতেও আছে তাদের অধিকার। ভরণপোষণের জন্যও রয়েছে কঠোর আইন। খ্রিস্টান নারীদের ক্ষেত্রেও একই অধিকার প্রযোজ্য। অথচ বাংলাদেশের হিন্দু মেয়েসন্তানরা মা-বাবার সম্পত্তি থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত। হিন্দু আইনেই তৈরি করা হয়েছে এ বাধা। তবে ভারত ও নেপালে আইন সংশোধন করে হিন্দু নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে।

ভারতে ১৯৫৬ সালে আইন সংশোধন করা হয়।

বাংলাদেশ আইন কমিশনের এক গবেষণায় দেখা যায়, হিন্দু নারীরা সম্পত্তি পেতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে দেশবাসীর ৮৬ শতাংশ মনে করে, এ অধিকার থাকা উচিত। এ কারণে ২০১২ সালের ৭ আগস্ট আইন কমিশন হিন্দু নারীদের সম্পত্তির সমান ভাগ দেওয়ার জন্য একটি নতুন আইনের সুপারিশ করে। কিন্তু ওই পর্যন্তই। এ নিয়ে আর কোনো কাজ হয়নি।

হিন্দু আইনের সবচেয়ে কঠোর অংশ হলো মেয়েসন্তানদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের বিষয়টি। ১৯৩৭ সালে তৈরি এ আইনে বাবার সম্পদের উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয় মেয়েদের। আর সীমিত ক্ষেত্রে পাঁচ পর্যায়ের হিন্দু নারীকে জীবিত থাকার শর্তে স্বামীর সম্পত্তি ভোগ করার অধিকার দেওয়া হয়। তবে তাদের মৃত্যুর পর ছেলেমেয়েরা ওই সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হয়। বাংলাদেশে প্রচলিত হিন্দু দায়ভাগ আইন অনুযায়ী স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এই পাঁচ পর্যায়ের নারী উত্তরাধিকারী হচ্ছে বিধবা, কন্যা, মাতা, পিতার মাতা ও পিতার পিতার মাতা। এ ধরনের অধিকার বিধবার সম্পত্তি বা উইডোজ এস্টেট হিসেবে পরিচিত। যদিও বিধবা ছাড়াও অন্যরা এ অধিকার পেতে পারে। তবে তা কেবল জীবনস্বত্বে। মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে এ সম্পত্তি পূর্ব-মৃত ব্যক্তির পুরুষ উত্তরাধিকারীর দখলে চলে যায়। সীমিত কিছু ক্ষেত্র ছাড়া এই সম্পত্তি হস্তান্তর করার অধিকার বিধবা মহিলাদের নেই।

দায়ভাগ আইন অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির ছেলে থাকলে মেয়েরা সম্পত্তির ভাগ পায় না। আর যদি ছেলে না থাকে সে ক্ষেত্রে অবিবাহিত ও ছেলেসন্তান জন্মদানকারী মেয়েরা জীবনস্বত্বে সম্পত্তির অধিকার পায়। বন্ধ্যা, বিবাহিতা বা বিধবা ও মেয়েসন্তান জন্মদানকারী মেয়েরা বাবার সম্পত্তি পান না। অর্থাৎ মেয়ের অধিকার নির্ভর করে ছেলে থাকা বা না থাকার ওপর।

পৃথিবীতে যতগুলো প্রাচীন আইন আছে এর মধ্যে হিন্দু আইন অন্যতম। তবে কোথায় কিভাবে এর সূচনা হয়েছে তা বিষদভাবে কারো জানা নেই।

হিন্দুদের কেউ মারা গেলে শ্রাদ্ধের সময় পিতৃকুলের শীর্ষ তিন পুরুষ ও মায়ের বংশের ঊর্ধ্বতন তিন পুরুষকে মৃতের আত্মার উদ্দেশে আতপ চাল, দুধ, কলা, মিষ্টি ইত্যাদি দিয়ে মণ্ড তৈরি করে নিবেদন করতে হয়। একে পিণ্ডদান বলে। পিণ্ডদানের অধিকারী ব্যক্তিরাই ‘সপিণ্ড’ নামে পরিচিত।

জীবিত ব্যক্তির পিণ্ডদানে যাঁরা বাধ্য তাঁরা জীবিত ব্যক্তির সপিণ্ড। এই দলে তাঁর নিকটতম তিনজন পিতৃ পূর্বপুরুষ—পিতা, পিতামহ ও প্রপিতামহ এবং নিকটতম তিনজন মাতৃ পূর্বপুরুষ—মাতামহ, প্রমাতামহ ও প্রপ্রমাতামহ অন্তর্ভুক্ত। আর কেউ মারা গেলে তিনি যাঁদের কাছ থেকে পিণ্ড পাওয়ার অধিকারী তাঁরা সবাই ওই মৃত ব্যক্তির সপিণ্ড। এই দলে তাঁর পুত্রের দিক থেকে নিম্নতম তিন পুরুষ—পুত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র এবং কন্যার দিক থেকে নিম্নতম তিন পুরুষ—কন্যার পুত্র, পুত্রের কন্যার পুত্র, প্রপৌত্র অন্তর্ভুক্ত। পূর্বসূরি ও উত্তরসূরি মিলিয়ে উপর্যুক্ত মোট ১২ সপিণ্ড ছাড়াও তিন পুরুষের মণ্ডলী বা বৃত্তের মধ্যে যেসব পুরুষ পিণ্ডদানের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত তাঁরা সবাই পরস্পরের সপিণ্ড। এ নিয়মে সপিণ্ডের সংখ্যা ৩৬। এর বাইরে বিশেষ পাঁচজন মহিলা সপিণ্ড আছেন। যেমন—বিধবা, কন্যা, মাতা, পিতামহী ও প্রপিতামহী। সব মিলিয়ে মোট সপিণ্ডের সংখ্যা ৫৩।

সকুল্যগণ সপিণ্ডের পরবর্তী সারির উত্তরাধিকারী। এরা প্রপিতামহের ঊর্ধ্বতন তিন পুরুষ। সপিণ্ডের অবর্তমানে তারা উত্তরাধিকারী হয়। আর সমানোদকরা তৃতীয় শ্রেণির ও দূরবর্তী উত্তরাধিকারী। সকুলের ঊর্ধ্বতন সাত পুরুষ সমানোদক হিসেবে অভিহিত। তারা সবাই পুরুষ এবং সংখ্যা ১৪৭। সপিণ্ডের কেউ বেঁচে থাকলে সকুল্য ও সমানোদকদের কেউ সম্পত্তি পাবে না। এভাবে তিন শ্রেণির উত্তরাধিকারীদের অধিকার ক্রমান্বয়ে আসবে ।

কেন এই বৈষম্য : ক্রমানুসারে সপিণ্ডের সংখ্যা এত বেশি যে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি মেয়েদের পাওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু কেন এ বৈষম্য এর কোনো জবাব নেই। কেউ কেউ হিন্দু নারীদের সম্পত্তি পাওয়ার বিরোধিতাও করেন। আইন কমিশনের গবেষণা বলছে, ঔপনিবেশিক শাসনামলের প্রথম দিকে হিন্দু আইনের তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। কারণ শাসকরা নিজেদের স্বার্থেই সর্বসাধারণের জন্য সুনির্দিষ্ট দেওয়ানি, ফৌজদারি ও বাণিজ্যবিষয়ক আইন তৈরিতে আগ্রহী ছিল। পরে রাজা রামমোহন রায়, স্বামী বিবেকানন্দ, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মতো মনিষীদের উদ্যোগে সতীদাহ ও বিধবা বিবাহ নিষিদ্ধকরণসংক্রান্ত প্রথা বিলুপ্ত করে কিছু যুগান্তকারী আইন প্রণীত হয়।

এরপর আইন পেশা ও ব্যবসায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা ও কতিপয় আইনপ্রণেতার সুপারিশে ১৯৪১ সালে হিন্দু আইনকে বিধিবদ্ধ করার জন্য কমিটি গঠন করা হয়। এ হিন্দু আইন কমিটি ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চলের নানা মতবাদের সমন্বয়ে হিন্দু আইনের একটি অভিন্ন কোডের Hindu Law Bill বা সংহিতা উপস্থাপন করে। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর যাঁরা ভারত সরকারের দায়িত্বে ছিলেন, তাঁরা রাও কমিটির খসড়া বিলটিকে খণ্ড খণ্ড আকারে পার্লামেন্টে উপস্থাপন করে চারটি আইন পাস করেন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের কারণে ওই সব আইন বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়নি। এর পেছনে ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে আরো কিছু রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণও রয়েছে। হিন্দু আইন সংস্কারের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা শীর্ষক অধ্যায়ে এ বিষয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, ব্রিটিশ শাসনের পর বাংলাদেশে হিন্দু আইনের ক্রমবিকাশের পথ অবরুদ্ধ হয়ে আছে।

ভারতে নারীদের সম্পত্তির অধিকার

হিন্দু উত্তরাধিকার আইন, ১৯৫৬ অনুসারে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কোনো উইল বা ইচ্ছাপত্র না থাকলে, তাঁর সম্পত্তি প্রথমত যেসব আত্মীয় প্রথম শ্রেণির উত্তরাধিকারী, তাদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। মৃত ব্যক্তি যদি পুরুষ হন, তাহলে প্রথম শ্রেণির আত্মীয়রা হবেন পুত্র, কন্যা, বিধবা স্ত্রী, মাতা, মৃত পুত্রের পুত্র ও কন্যা, মৃত পুত্রের বিধবা স্ত্রী (যদি তিনি এরই মধ্যে পুনর্বিবাহ না করে থাকেন), মৃত কন্যার পুত্র ও কন্যা, মৃত পুত্রের পুত্র ও কন্যা এবং মৃত পুত্রের বিধবা স্ত্রী (যদি তিনি এরই মধ্যে পুনর্বিবাহ না করে থাকেন)।

প্রথম শ্রেণির উত্তরাধিকারী না থাকলে পর্যায়ক্রমে দ্বিতীয়, তৃতীয় ইত্যাদি শ্রেণিভুক্ত আত্মীয়দের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টন করা হবে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির উত্তরাধিকারী নারীও এর অংশ পাবে। মৃত ব্যক্তি যদি নারী হন, তাহলে প্রথমে তাঁর সব সম্পত্তি (নিজের পিতা-মাতার কাছ থেকে পাওয়া, স্বামী বা শ্বশুরবাড়ি থেকে পাওয়া এবং স্বঅর্জিত) তাঁর পুত্র ও কন্যা (জীবিত ও মৃত) ও স্বামী পাবেন। এ ধরনের উত্তরাধিকারী না থাকলে সম্পত্তি পাবে তাঁর মৃত স্বামীর উত্তরাধিকারীরা। তারাও না থাকলে সম্পত্তি যাবে নারীর পিতা ও মাতার কাছে। অন্যথায় তাঁর পিতার উত্তরাধিকারী ও পরিশেষে মাতার উত্তরাধিকারীদের কাছে। ১৯৫৬ সালের এই আইনটি ২০০৫ সালে আবার সংশোধন করে ভারত সরকার। সে অনুযায়ী বর্তমানে মৃত ব্যক্তির ছেলেমেয়ে সমানভাবে সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়।

হিন্দু আইন সংস্কারের প্রতিবন্ধকতা

আইন কমিশন তার সুপারিশে বলেছে, বেশ কয়েকটি হিন্দু সংগঠন প্রচারণা চালাচ্ছে এই বলে যে হিন্দু নারীরা এই সংস্কার চান না এবং এটি এনজিওদের চাপিয়ে দেওয়া বিষয়। কেউ কেউ মনে করেন, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা না করে পারিবারিক আইনের সংস্কার ঠিক নয়। যাঁরা এ বিরোধিতা করছেন, তাঁরা সংখ্যায় অল্প কিন্তু তাঁদের বিভিন্ন ফোরামে প্রভাব বেশি। অন্যদিকে বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ সংস্কারের পক্ষে থাকলেও (আইন কমিশনের মাঠপর্যায়ের গবেষণা, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার গবেষণা, বিভিন্ন সেমিনার থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী) তাঁরা তাঁদের মত জোরালোভাবে তুলে ধরতে পারছেন না। বিশেষ করে নির্যাতিত বা সহায়-সম্বলহীন নারীরা তাঁদের বক্তব্য জনপ্রতিনিধিদের জানাতে পারেন না। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা না দেওয়া পর্যন্ত পারিবারিক আইন সংশোধন সম্ভব নয়—এমন যুক্তিও দুর্বল।

আইন কমিশন বলছে, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে হিন্দু আইন অপরিবর্তনশীল—এই যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা হিন্দু আইনের উৎস ও ক্রমবিকাশের ধারা লক্ষ করলে বোঝা যায় কিভাবে কিছু আইন যুগের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে। এমনকি রাষ্ট্রীয় আইনের মাধ্যমেও সংস্কার হয়েছে। বৈদিক যুগের দৃষ্টিকোণ থেকে হিন্দু আইনের মূল ধারা তুলে ধরা হয়েছে, যা প্রগতিশীল ও আধুনিক। এ প্রসঙ্গে ভারতের সংস্কার কার্যক্রম পর্যালোচনা করা যেতে পারে।

হিন্দু উত্তরাধিকার সম্পর্কে বলা হয়েছে, প্রচারণা চালানো হয় যে নারীরা সম্পত্তি পেলে তা বেহাত হওয়ার আশঙ্কা আছে। অন্য ধর্মাবলম্বীর সঙ্গে হিন্দু মেয়ের বিয়ে হলে ওই সম্পত্তি আর হিন্দুদের থাকবে না। এ প্রসঙ্গে কারো কারো অভিমত, ধর্মত্যাগকারী সম্পত্তির উত্তরাধিকার পাবে না—এভাবে আইন সংশোধন করা যায়।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, আমাদের সংবিধান অনুযায়ী সব ক্ষেত্রে সবার অধিকার সমান। কিন্তু হিন্দু নারীদের উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা খুবই দুঃখজনক। এটি সংবিধান পরিপন্থীও। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এই ইস্যুতে হিন্দু সমাজের নেতাদের এগিয়ে আসতে বলবে। সরকারকেও এ নিয়ে ভাবতে হবে। নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলা হচ্ছে, আর হিন্দু নারীরা অধিকারবঞ্চিত—এভাবে নারীর ক্ষমতায়ন ও তাদের এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। দেশের কোনো বিশেষ জনগোষ্ঠী পিছিয়ে পড়লে সাধারণত ওই দেশই পিছিয়ে পড়ে।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত কালের কণ্ঠকে বলেন, বাংলাদেশে হিন্দু উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী সম্পত্তিতে নারীর অধিকার খুবই সীমিত। তারা চরম বৈষম্যের শিকার। ৭০ বছর আগে ভারতে সম্পত্তিতে নারীদের অধিকার দেওয়া হয়েছে। নেপালও একই পথে গেছে। কিন্তু বাংলাদেশে কিছুই হয়নি। রানা দাশগুপ্ত বলেন, বাংলাদেশের হিন্দু সমাজের মধ্যে একটি দ্বান্দ্বিক অবস্থান রয়েছে এ বিষয়ে। তিনি বলেন, ‘সম্পত্তিতে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আইন প্রণয়নের পক্ষে আমি। বর্তমান সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা ইঙ্গিত দিয়েছেন হিন্দু নারীদের বৈষম্য বিলোপ বিষয়ে। হিন্দু নেতাদের এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে বলেছেন তিনি। আশা করি, তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর এ ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানিয়ে এগিয়ে আসবেন এবং নতুন আইন প্রণয়নের দাবি জানাবেন। ’

নারী অধিকার কর্মী ও মানবাধিকার সংগঠন প্রিপ ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক অ্যারোমা দত্ত কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশে হিন্দু নারীরা অবর্ণনীয় বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার। এর অন্যতম কারণ হলো সম্পত্তিতে তাদের অধিকার না থাকা। আমাদের দেশের হিন্দু পুরুষরা চায় না নারীকে এ অধিকার দিতে। বিশেষ করে হিন্দু সমাজের গুরুরাই চান না সম্পত্তিতে নারীর অধিকার। তাঁরা দোহাই দেন সনাতন প্রথার। নারীকে অধিকার দিলেই সনাতনি প্রথা ভেঙে পড়বে, এ ধারণা অযৌক্তিক। গত সরকারের আমলে আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ হিন্দু নারীদের সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিতে আইন করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু উগ্র হিন্দু গুরুরাই এতে বাদ সাধেন। এখন দরকার একটি কঠিন আন্দোলন। এ আইন করতেই হবে। ’

বাগেরহাট সরকারি পিসি কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ কমল ঘোষ বলেন, এককথায় বলতে চাই, হিন্দু নারীদেরও সম্পত্তির ভাগ পাওয়া উচিত। এখন নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিয়ে বিশ্বে তোলপাড় চলছে। সেখানে বাংলাদেশে হিন্দু নারীরা সম্পত্তি পায় না এটা অন্যায়। তিনি বলেন, তবে স্থান-কাল-পাত্রভেদে সম্পত্তি হাতছাড়া হওয়ার একটা ভয় থাকায় হিন্দুরা এ নিয়ে আন্দোলন করে না বা কথা বলে না। সম্পত্তি সংখ্যালঘুদের কাছ থেকে যাতে অন্যত্র যেতে না পারে সে জন্য আইন সংশোধনের সময় এসংক্রান্ত বিধান রাখা উচিত।


মন্তব্য