kalerkantho


আজ শুরু হায়দরাবাদ টেস্ট

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



আজ শুরু হায়দরাবাদ টেস্ট

ভারত ১৯৩২ সাল থেকে খেলে, ৫০৭ টেস্ট খেলে ফেলেছে।

বাংলাদেশ ২০০০ সালে অভিষেক, খেলেছে ৯৭ টেস্ট।

প্রথম দলটি টেস্ট র্যাংকিংয়ের চূড়ায়। জিম্বাবুয়েকে ধর্তব্যে না নিলে র্যাংকিংয়ের তলানিতে বাংলাদেশ।

শক্তিমত্তায় এগিয়ে থাকা ভারত খেলবে নিজের মাটিতে, বাংলাদেশ পরভূমে।

এমন প্রেক্ষাপটে হায়দরাবাদে শুরু হতে যাওয়া আজকের টেস্ট একপেশে হওয়ারই কথা।

কিন্তু কাগজে-কলমে আর ঐতিহ্যের এ ব্যবধান মানতে বয়েই গেছে বাংলাদেশের! লম্বা লে-ওভারের ধকল সয়েও এরই মধ্যে ঝাঁকে ঝাঁকে মুশফিকুর রহিমদের অনুসারীরা পৌঁছে গেছেন হায়দরাবাদে। গত ৪৮ ঘণ্টার সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয়তম স্ট্যাটাস হায়দরাবাদ পৌঁছানোর উচ্ছল হাসি এবং ভাগ্যবানদের প্রতি অযুত শুভকামনা। তীর্থযাত্রা ছাড়া আর কোনো অকেশনে একযোগে এত  মানুষ একই গন্তব্যে গেছেন বলে মনে হয় না। এসব দেখেই কিনা আবেগ উথলে ওঠে আরো, ভারতকে তাদের মাটিতে শুইয়ে ফেলার হুঙ্কার ছাড়ে ফেসবুক! নানা অবিচারের প্রতিশোধের ডাকও উঠেছে।

তবে আপনি যদি মাঠের ক্রিকেটারদের কাছে জানতে চান, সেখানে প্রতিশোধের ছাইচাপা আগুনও নেই।

১৭ বছর অপেক্ষায় রেখে আতিথ্য দিতে ভারতের সম্মতিকে ‘ঐতিহাসিক’ মর্যাদা দিচ্ছেন না মুশফিকুর রহিম। হায়দরাবাদ টেস্টকে পরোক্ষে অসম শক্তির লড়াই বলে মানছেনও বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। যদিও শক্তিধর ভারতের পক্ষ থেকে অতিথি দলকে পর্যাপ্ত সমীহ করার ঘোষণা এসেছে প্রতিনিয়ত। গতকাল ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনেও সেটি জানিয়েছেন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি।

তবে স্বাগতিক দলের ক্রিকেটারদের এ সমীহকে স্রেফ সৌজন্য মনে করার যথেষ্ট কারণ আছে। শ্রীলঙ্কায় সিরিজ জিতে ফেরা ভারত নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করেছে নিজেদের মাটিতে। কোহলির দলটি তাই এখন র্যাংকিংয়েরও শীর্ষে। আশার কথা, মাটিতে দাঁড়িয়ে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন একেবারে বিসর্জন দেয়নি বাংলাদেশ। হায়দরাবাদে যাওয়ার আগে ভারতে সত্যিকার অর্থে ইতিহাস গড়ার কথা বলে গেছেন মুশফিকুর রহিম, তবে সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন অলঙ্ঘনীয় শর্ত, ‘নিজেদের সেরাটা খেলতে হবে। ’ সেই সেরা সামর্থ্য মানে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই একযোগে জ্বলে উঠতে হবে বাংলাদেশকে।

তবে বলার অপেক্ষা রাখে না বাস্তবতা হলো, ভারতের বিপক্ষে এ টেস্টে বাংলাদেশের ভালো কিছুর সিংহভাগই নির্ভর করছে ব্যাটসম্যানদের ওপর। প্রস্তুতি ম্যাচে পুরনো চোট ফিরে আসায় ভারতে টেস্ট খেলার অপেক্ষা বাড়িয়ে দিয়েছে ইমরুল কায়েসের। তবে নিউজিল্যান্ড সফর থেকে ফর্মে ফেরা সৌম্য সরকার সে ক্ষতি পুষিয়ে দিয়েছেন অনেকটাই। প্রস্তুতির ছবি দেখে মনে হচ্ছে হায়দরাবাদে কিপিং গ্লাভসও পরবেন মুশফিক। এর পরও যদি টেস্ট প্রত্যাবর্তন ঘটে লিটন কুমার দাশের, তাহলে বিশেষজ্ঞ বোলিং আক্রমণটা হবে চারজনের— সাকিব আল হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ ও কামরুল ইসলাম রাব্বিকে নিয়ে। আবার লিটনকে বেঞ্চে রেখে তাইজুল ইসলামকে খেলিয়ে বোলিং ভারীও করতে পারে বাংলাদেশ।

ওদিকে ভারতীয় একাদশে করুণ নায়ার নাকি জয়ন্ত যাদব থাকবেন—এ নিয়েও সামান্য দোলাচল রয়েছে। দুজনের সেঞ্চুরি রয়েছে নিজেদের শেষ টেস্ট ইনিংসে। এরমধ্যে নায়ারেরটা আবার ট্রিপল সেঞ্চুরি! যে দলের অখ্যাতদেরই এমন রেকর্ড, সে দলের ব্যাটিং অর্ডারের শক্তি নিয়ে সংশয় থাকার কথা নয়। বিরাট কোহলির নেতৃত্বে ভারতের ব্যাটিং সামর্থ্য নিয়ে দ্বিধা নেই বিশ্বের কোনো দলেরই, বিশেষ করে তাদের নিজেদের মাঠে। চার বোলারের শিরোমনি রবিচন্দ্রন অশ্বিনের ওপরই ফোকাসটা বেশি। তবে রবীন্দ্র জাদেজা এবং দুই পেসার ইশান্ত শর্মা ও উমেশ যাদব—ফেলনা নন কেউই।

তবে এর সবই তো কাগজে-কলমের ব্যবধান। মাঠে পূর্বাভাস বদলে যাওয়ার অসংখ্যা উদাহরণও আছে ক্রিকেটে। সেসব মাথায় রেখেও উত্তরসূরিদের প্রতি বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট অধিনায়ক নাঈমুর রহমানের পরামর্শ, ‘জাস্ট এনজয় দ্য গেম। ’

ক্রিকেট তো একটা খেলাই। তাহলে উপভোগ করতে দোষ কী!


মন্তব্য