kalerkantho


গুঁড়া দুধের দাম হঠাৎ চড়া

শওকত আলী   

৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



গুঁড়া দুধের দাম হঠাৎ চড়া

খুচরা বাজারে গত এক মাসে গুঁড়া দুধের দাম বেড়েছে ৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। ব্যবসায়ীরা বলছে, আমদানি ব্যয় বেড়ে গেছে।

তবে জানা গেছে, গুঁড়া দুধের সবচেয়ে বড় সরবরাহকেন্দ্র রাজধানীর গুলশানের ডিএনসিসি মার্কেটে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের পর গুঁড়া দুধের বাজারে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। ওই মার্কেটের আশপাশের এলাকার দোকানিরাও যে যার মতো দাম আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দেশে আমদানি করা শিশুখাদ্যের মধ্যে এসএমএ, ল্যাকটোজেন, নিডো, ন্যান, অ্যাপ্টামিল, ডানো ও কাউ অ্যান্ড গেট ব্র্যান্ড উল্লেখযোগ্য। এসব শিশুখাদ্য খুচরা দোকানের পাশাপাশি ওষুধের দোকানেও বিক্রি হয়। গুলশান, ধানমণ্ডিসহ ঢাকার বেশ কয়েকটি মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, নিয়মিত যেসব গুঁড়া দুধ বিক্রি হচ্ছে তার সবগুলোরই দাম কিছুটা বেড়েছে।

খুচরা পর্যায়ের বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিন আগেও ডানোর তিন কেজি গুঁড়া দুধের একটি কৌটা বিক্রি হতো দুই হাজার ২৫০ টাকায়। ১০০ টাকা বেড়ে এখন তা বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৩৫০ টাকায়। একই ব্র্যান্ডের ৯০০ গ্রাম ওজনের প্যাকেট গুঁড়া দুধের দাম ৫০ টাকা বেড়ে হয়েছে ৯৫০ টাকা। নিডোর এক হাজার ৮০০ গ্রামের বড় প্যাকেটের দাম এক লাফে ৫০০ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৬৫০ টাকায়।

এ ছাড়া কাউ অ্যান্ড গেট-এর ৯০০ গ্রামের প্যাকেটের দাম ১০০ টাকা বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৬০০ টাকা। অ্যাপ্টামিলের ৯০০ গ্রামের প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৭৫০ টাকায়। দাম বেড়েছে প্রায় দেড় শ টাকা। এসব দুধের কয়েকটি কোনো কোনো সুপারশপে দুই হাজার ২০০ টাকা দরেও বিক্রি হচ্ছে।

বয়স এক থেকে দুই, এক থেকে তিন ও দুই থেকে পাঁচ বছরসহ কয়েকটি ক্যাটাগরিতে এসব শিশুখাদ্য বাজারজাত করা হয়। তবে এক থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের জন্য সব ধরনের গুঁড়া দুধ কিনতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হয়। এসব শিশুখাদ্য পণ্য আসে মূলত নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাজ্যসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে।

গুলশান-১-এর ডিএনসিসি মার্কেট ছিল গুঁড়া দুধের পাইকারি বিক্রেতাদের বড় একটি ব্যবসাকেন্দ্র। সেখান থেকে ঢাকার বেশির ভাগ দোকানি দুধ কিনে নিয়ে যেত। সাধারণ ক্রেতারাও তুলনামূলক একটু কম দামে এখান থেকে গুঁড়া দুধ কিনতে পারত। তাই ক্রেতা-বিক্রেতা উভয় পক্ষের কাছে মার্কেটটি আস্থার জায়গা ছিল। কিন্তু সম্প্রতি এ মার্কেট আগুনে পুড়ে যাওয়ায় বেশ বিপাকে পড়েছে সাধারণ গ্রাহকরা। বেশির ভাগ দোকানই বন্ধ রয়েছে মার্কেটটির। ফলে আশপাশের দোকানগুলোতে বেশ চড়া দামে গুঁড়া দুধ বিক্রি হচ্ছে।

গুলশানের ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মার্কেটের একটি বড় মনিহারি দোকানের বিক্রয় প্রতিনিধি আনোয়ার ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে বাজারে গুঁড়া দুধের দাম খুব ওঠানামা করছে। প্রতিটি ব্র্যান্ডের গুঁড়া দুধের দাম ৫০ থেকে ১০০ টাকা বাড়ছে। কোনো কৌটায় আবার ৫০০ টাকাও বাড়ছে। ’

কারণ জানতে চাইলে ওই বিক্রয় প্রতিনিধি বলেন, ‘শুনেছি আমদানি একটু কম হচ্ছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। তাই বেশি দামে বিক্রি না করে আমাদের কোনো উপায় নেই। এর চেয়ে বেশি বলতে পারছি না। ’

গুলশানের এন অ্যান্ড জে ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আকরাম হোসেনের গুঁড়া দুধের পাইকারি ব্যবসা রয়েছে। তিনি গুঁড়া দুধের দাম সম্প্রতি বাড়ার কথা স্বীকার করলেন। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা যখন যে দামে কিনছি সেই দামের ওপর নির্দিষ্ট লাভ রেখে বিক্রি করছি। ’

আবার গুঁড়া দুধের আমদানিকারকরা জানালেন এলসি (ঋণপত্র) খোলার নতুন পদ্ধতি চালু হয়েছে। চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট আবদুল হাই মাসুম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিদেশি সরবরাহকারীর সঙ্গে চুক্তির তারিখের দিন যে দর ছিল সেই দরে চট্টগ্রাম কাস্টমস পণ্যের মূল্যায়ন করত। কিন্তু গত এক মাস থেকে সেই নিয়ম পাল্টানো হয়েছে। নতুন নিয়মে ঋণপত্র যে তারিখে খোলা হয়েছে সেই তারিখের দামেই মূল্যায়ন করা হচ্ছে। আর বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধির কারণে প্রতি টনের গুঁড়া দুধ আনতে দুই হাজার ৮০০ ডলার বা তারও বেশি মূল্যে এলসি খুলতে হচ্ছে, যা মাসখানেক আগেও ছিল দুই হাজার ৪০০ ডলারের মতো।

তবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, উচ্চ মূল্য (ওভার ইনভয়েসিং) দেখিয়ে বিদেশে টাকা পাচার বন্ধে নতুন এই পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। আগে সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে আমদানিকারকরা উচ্চ দাম দেখিয়ে বিদেশে টাকা পাচার করত। পাচার ঠেকাতেই নতুন পদ্ধতি কার্যকর করা হয়েছে। এতে সরকার ন্যায্য রাজস্ব পাচ্ছে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইরি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এ সামাদ খান জানান, দেশে প্রতিবছর গড়ে ৪০০ কোটি টাকার গুঁড়া দুধ আমদানি করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি মিল্ক ভিটা সামান্য কিছু গুঁড়া দুধ উত্পাদন করছে। আমদানি করা ও দেশে উত্পাদিত গুঁড়া দুধ দিয়ে চাহিদার মাত্র ৪০ শতাংশ পূরণ হয়। বাকি ৬০ শতাংশ চাহিদা পূরণ হচ্ছে না।


মন্তব্য