kalerkantho


কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলার জারি

আমানতের সুদহার বাড়ানোর ইঙ্গিত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



আমানতের সুদহার বাড়ানোর ইঙ্গিত

সিম্প্রতি ব্যাংকগুলোর গচ্ছিত আমানতের ওপর দেওয়া সুদের হার ঋণের সুদহারের চেয়ে দ্রুত কমে যেতে দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে তা ৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। ফলে সঞ্চয়প্রবণতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং সঞ্চয়ের বদলে অপচয়মূলক ভোগ ও অন্যান্য অনুত্পাদনশীল কাজে ব্যবহারের প্রবণতার ঝুঁকি বাড়ছে। এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে দায়-সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হতে পারে, যা বাঞ্ছনীয় নয় বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এ প্রেক্ষিতে আমানতের সুদহারের নিম্নগামী প্রবণতা রোধের বিষয়ে সক্রিয় থাকার জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গতকাল মঙ্গলবার থেকে সঞ্চয়প্রবণতা ক্ষুণ্ন হওয়ার শঙ্কার কথা উল্লেখ করে নতুন এক সার্কুলার জারি করে সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের পাঠায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ। যেখানে আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়া আমানতের সুদহার বাড়ানোর ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়, ঋণের সুদহার নিম্নগামী ধারায় রাখার জন্য মধ্যবর্তী ‘স্প্রেড’ সংকোচন করতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে ঋণের সুদহার কম রাখার জন্য আমানতের সুদহার না কমিয়ে খেলাপি ঋণ আদায়সহ ব্যবস্থাপনা দক্ষতার বিভিন্ন দিকে নজর রেখে আমানতের সুদহার ও ঋণের সুদহারের ব্যবধান কমিয়ে আনতে বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ডিসেম্বর শেষে দেশের ব্যাংকগুলোর আমানতের গড় সুদহার দাঁড়ায় ৫.২২ শতাংশ এবং ঋণের গড় সুদহার দাঁড়ায় ৯.৯৩ শতাংশ। এ দুই সুদহারের মধ্যবর্তী ব্যবধান বা স্প্রেড দাঁড়ায় ৪.৭১ শতাংশীয় মাত্রায়।

বাজারভিত্তিক অর্থনীতিতে কৃষি, রপ্তানি খাতসহ কয়েকটি ক্ষেত্র ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রে আমানত বা ঋণের সুদহার নির্ধারণে ব্যাংকগুলোকে স্বাধীনতা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে ঋণ ও আমানতের সুদহারের মধ্যে কমপক্ষে ৫ শতাংশীয় মাত্রা ব্যবধানের একটি নির্দেশনা রয়েছে ব্যাংকগুলোর জন্য। গতকালের জারি করা সার্কুলারে এই মাত্রা কমানোর সুস্পষ্ট কোনো নির্দেশনা না থাকলেও ঋণের তুলনায় আমানতের সুদহার যেন খুব কম না হয় সে বিষয়ে ইঙ্গিত করা হয়।


মন্তব্য