kalerkantho


দলগুলোর আস্থা অর্জন করতে চাই

বেগম কবিতা খানম, নির্বাচন কমিশনার

পার্থ সারথি দাস   

৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



দলগুলোর আস্থা অর্জন করতে চাই

সংসদ, রাজনীতি, শিক্ষাঙ্গনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতা বাড়ছে। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা—সব কটি পদেই এখন নারী।

সংসদের বাইরে বড় দল বিএনপির প্রধানও একজন নারী। প্রথম নির্বাচন কমিশন গঠনের ৪৫ বছরের মাথায় প্রথমবারের মতো নারী নির্বাচন কমিশনার হয়েছেন কবিতা খানম, যিনি ৩১ বছর বিচারক হিসেবে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে নিজ বাসায় কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে আলাপকালে কবিতা খানম জানিয়েছেন, প্রথম নারী নির্বাচন কমিশনার হওয়ায় তিনি গর্বিত। কাজের মাধ্যমে তিনি আস্থা অর্জন করতে চান রাজনৈতিক দলগুলোর।

কবিতা খানম বলেন, ‘আমার প্রতিক্রিয়া আনন্দঘন, আবেগঘন। ভাবতে পারিনি চূড়ান্তভাবে নিয়োগ পাব। আমি সংবাদপত্রে আমার নাম পড়েছি। নতুন নির্বাচন কমিশনে একজন বিচারক রাখা হবে তা জানতে পেরেছিলাম। এটা একটা সারপ্রাইজ।

ধানমণ্ডির ১ নম্বর সড়কের ৭ নম্বর বাড়ির চতুর্থ তলায় নিজ বাসায় ব্যস্ত ছিলেন কবিতা খানম। ব্যস্ততার মধ্যেও সময় বের করে স্থির হয়ে বসে কথা বলেন তিনি। । প্রথম নারী নির্বাচন কমিশনার হওয়ায় কেমন লাগছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা অনেক বড় প্রাপ্তি। আমাকে কমিশনার হিসেবে যোগ্য মনে করা হয়েছে। আমি গর্বিত। আল্লাহর কাছে আমি শুকরিয়া আদায় করছি। ’ এই দায়িত্ব একটি চ্যালেঞ্জ স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘জীবনে চ্যালেঞ্জ থাকবেই। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার নামই তো সাফল্য। আমি ৩১ বছর বিচারিক দায়িত্ব পালন করেছি। আইনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে আস্থা সৃষ্টি করতে পেরেছি। ’

আওয়ামী লীগ, গণতন্ত্রী পার্টি বা ন্যাপ থেকে তাঁর নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল কি না জানতে চাইলে কবিতা খানম বলেন, ‘আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দেওয়া তালিকায় আমার নাম ছিল না। কোনো রাজনৈতিক দল আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। ’ কিভাবে দায়িত্ব পালন করবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি বিচারক ছিলাম, সৎ ছিলাম। আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে নিরপেক্ষ থাকব। ’ এবারের সার্চ কমিটি নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আগেও সার্চ কমিটির মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করা হয়েছিল। তবে এ নির্বাচন কমিশন হয়েছে ভিন্নভাবে। অনেক বিশিষ্টজনের সঙ্গে আলাপ করেছে সার্চ কমিটি। কমিটির কাজে আস্থার জায়গা তৈরি হয়েছে। জনগণের আস্থা তৈরি হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে অনাস্থা আছে তাও আস্থায় ফিরবে বলে আশা করি। আইন ও সংবিধান মেনে কাজ করব। এ জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই। ’ তাঁর মতে, সার্চ কমিটি গোপনীয়ভাবে কিছু করেনি। প্রথম ২০ জনের নামের তালিকা করা হয়েছিল। তারপর ধীরে ধীরে নির্দিষ্টসংখ্যক নাম চূড়ান্ত হয়েছে। এখানে কোনো অস্বচ্ছতা নেই। তালিকায় অনেক নিরপেক্ষ ব্যক্তির নাম ছিল।

বিএনপির আস্থা ফেরাবেন কী করে জানতে চাইলে কবিতা খানম বলেন, ‘এখনো আমরা কাজ শুরু করিনি। প্রথম আনুষ্ঠানিক সভাও হয়নি। সময় বলে দেবে তার জবাব। আমরা সবার আস্থা ফেরাতে চাই। ’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি বারবারই বলছি, আমার বিগত সার্ভিস লাইফে যেভাবে আস্থা অর্জনের জন্য কাজ করেছি, সেভাবেই কাজ করতে চাই। নতুন নির্বাচন কমিশনে ব্যক্তি বড় নয়, এটা একটা টিম ওয়ার্ক। আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য চেষ্টা করব। ভালো কিছু করার আকাঙ্ক্ষা আছে। বিচারক হিসেবেও আমার জীবনে চ্যালেঞ্জ ছিল। সততা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি। আমার বিরুদ্ধে কোনো অনাস্থা সৃষ্টি হয়নি। ভবিষ্যতেও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার স্পৃহা আছে। ’  

প্রথম নারী কমিশনার হিসেবে কিভাবে কাজ করবেন জানতে চাইলে কবিতা খানম বলেন, ‘আমি আমার এই পদে এমনভাবে কাজ করব যাতে নারীর এ জায়গাটা ভবিষ্যতেও ধরে রাখা যায়। ’

আলাপকালে কবিতা খানমের একমাত্র মেয়ে মুম্তানিহ্ মিথিলা ঘরেই ছিলেন। মায়ের এমন স্বীকৃতিতে তিনি উচ্ছ্বসিত। দুই সন্তানের মধ্যে বড় মিথিলা পপুলার মেডিক্যাল কলেজের ফার্মাকোলজি বিভাগের প্রভাষক। তিনি বলেন, ‘মায়ের নির্বাচন কমিশনার হওয়ার সংবাদটি প্রথম জানতে পারি সোমবার বিকেলে। মায়ের এ স্বীকৃতির জন্য ভালো লাগছে। ’

কবিতা খানমের একমাত্র ছেলে চৌধুরী মো. আবিদ রহমান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন।

কবিতা খানমের মূল বাড়ি নওগাঁ জেলা সদরের উকিলপাড়ায়। ১৯৫৭ সালের ৩০ জুন তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

কবিতা খানম সর্বশেষ ছিলেন রাজশাহীর জেলা ও দায়রা জজ। ২০১৬ সালের ৩০ জুন অবসর নেন তিনি। এর আগে শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ২০০৯ সালের ১৯ জুলাই থেকে ২০১১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল খুলনায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ২০০৬ সালের ৯ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ১৮ জুলাই পর্যন্ত। ১৯৮৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তিনি বিচারক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি মুন্সেফ, সহকারী জজ, সিনিয়র সহকারী জজ, যুগ্ম জেলা জজ, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পদে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর স্বামী মশিউর রহমান চৌধুরী ২০১১ সালের জুলাইয়ে মারা যান। তিনিও বিচারক ছিলেন।  


মন্তব্য