kalerkantho


স্বাগত জানিয়েছে আ. লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



স্বাগত জানিয়েছে আ. লীগ

দায়িত্বশীলতার প্রমাণ দিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন করেছেন তাকে স্বাগত জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতা। গতকাল সোমবার রাতে তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তাঁরা বলেন, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় স্বচ্ছতার সঙ্গে এবারের ইসি গঠিত হয়েছে। এতে যাঁরা স্থান পেয়েছেন তাঁদের প্রত্যেকেই যোগ্যতাসম্পন্ন। আগামী দিনে যেকোনো নির্বাচন তাঁরা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হবেন। সরকার যে আগামী দিনে অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে আন্তরিক এই নির্বাচন কমিশন গঠনের মধ্য দিয়ে তাও প্রমাণিত হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘আমরা আগেই বলেছিলাম রাষ্ট্রপতি যে নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন আমরা তা মেনে নেব। তিনি সার্চ কমিটির কাছে নাম প্রস্তাব নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন। আশা করি এ নির্বাচন কমিশন সবাই মেনে নেবে। আর নির্বাচন কমিশনের কাছে আশা, তারা আগামীতে সব নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে। ’ আওয়ামী লীগ যেসব নাম প্রস্তাব করেছিল তাঁদের মধ্যে কেউ নির্বাচন কমিশনে স্থান পেয়েছেন কি না জানতে চাইলে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘আমরা যে নামগুলো প্রস্তাব করেছিলাম তাঁদের মধ্যে কাউকেই রাখা হয়নি। তবু আমরা রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানাচ্ছি।

যাঁদের নিয়ে মহামান্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন তাঁরা সবাই নিজ নিজ ক্ষেত্রে যোগ্য ব্যক্তি। আগামীতে তাঁরা নিশ্চয়ই একটি অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে সক্ষম হবেন। ’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতি যে নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন সেখানে আওয়ামী লীগ প্রস্তাবিত নামের তালিকা থেকে কাউকে রাখা হয়নি। এর পরও একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। সকলেরই এ সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থাশীল ও শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিত। রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অভিভাবক। তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এই নিরপেক্ষ, নির্দলীয় নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন। সকল দলের উচিত এ সিদ্ধান্তকে মেনে নেওয়া। ’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার দৃষ্টিতে এ নির্বাচন কমিশন অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় স্বচ্ছতার সঙ্গে গঠন হয়েছে। যাঁরা দায়িত্ব পেয়েছেন তাঁদের প্রত্যেকেই দক্ষ, যোগ্যতাসম্পন্ন এবং নির্দলীয় ব্যক্তিত্ব। তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো দলেরই নেতিবাচক মন্তব্যের সুযোগ নেই। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সক্ষম একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি। ’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতি সংবিধান মোতাবেক স্বীয় সিদ্ধান্তে একটি নির্বাচন কমিশন উপহার দিয়েছেন। আমরা আশা করব, কেউই এ নিয়ে বির্তক তৈরি না করে, যা হয়েছে সেটিকে স্বাগত জানাবে। এখন আমাদের সকলের দায়িত্ব হলো এ নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করা, যেন তারা আগামীতে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করতে পারে। ’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতি যে নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন, আমরা তাকে স্বাগত জানাই। এ নিয়ে কোনো বিতর্ক বা প্রশ্ন তোলার অবকাশ নেই। যাঁরা কমিশনে স্থান পেয়েছেন তাঁদের কারো দলীয় পরিচয় নেই। সুতরাং এ নিয়ে কোনো দলই প্রশ্ন তুলবে না—এমনটাই আশা করি। আমরা মনে করি, এ নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা বজায় রেখে আগামীতে সুষ্ঠুভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হবে। ’ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমি যত দূর জানি বিএনপি যেসব নাম প্রস্তাব করেছিল তাঁদের মধ্য থেকে একজন নির্বাচন কমিশনে স্থান পেয়েছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের কোনো নাম রাখা হয়নি। এর মধ্য দিয়ে আগামীতে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারের আন্তরিকতার প্রমাণ পাওয়া যায়। ’ আওয়ামী লীগ নেতারা জোরালোভাবে দাবি করেছেন, তাঁদের প্রস্তাবিত কাউকে নির্বাচন কমিশনে রাখা হয়নি। তবে রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত ঘোষণাকালে মন্ত্রিপরিষদসচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, সার্চ কমিটির কাছে দেওয়া বিএনপির প্রস্তাবিত তালিকায় মাহবুব তালুকদারের নাম ছিল। আর আওয়ামী লীগের তালিকায় ছিল বেগম কবিতা খানমের নাম।


মন্তব্য