kalerkantho


এসপি মিজানের নকল সার কারখানা

কেরানীগঞ্জের দুটিও সিলগালা

গোপালগঞ্জে মামলা

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) ও গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি   

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



কেরানীগঞ্জের দুটিও সিলগালা

ঢাকার কেরানীগঞ্জ এবং গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের নকল সারের চার কারখানার বাকি দুটিও সিলগালা করা হয়েছে। লাইসেন্স ও পরিবেশ ছাড়পত্র না থাকায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানার অধীন হযরতপুর ইউনিয়নের কাজিকান্দি গ্রামে অভিযান চালিয়ে কারখানা দুটি গতকাল সোমবার সকালে সিলগালা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ওই সময় ভেতরের কাঁচামালও জব্দ করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস ও পুলিশের সহযোগিতায় ওই অভিযান চালানো হয়। আগের দিন টুঙ্গিপাড়ার দুটি কারখানা সিলগালা করে নকল সার তৈরির বিভিন্ন উপকরণ জব্দ করা হয়েছিল। নকল সার উত্পাদনের অভিযোগে গত রবিবার রাতে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলাও করেছে কৃষি বিভাগ। এ ছাড়া জব্দ করা উপকরণের নমুনা পরীক্ষার জন্য গতকাল ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

এসপি মিজানুর রহমান বর্তমানে পুলিশের রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্স (আরআরএফ) ঢাকার কমান্ড্যান্ট।

কেরানীগঞ্জের কাজিকান্দি গ্রামে গতকাল সকাল ১১টায় অভিযান চালানো হয় জেলা পুলিশ ও উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও কেরানীগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. পারভেজুর রহমান জুমন, ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি অফিসার ফখরুল আলম, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোসা. মরিয়ম খাতুন ও কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি মো. ফেরদাউস হোসেন। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন আয়নাল তাঁদের সঙ্গে ছিলেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফখরুল আলম বলেন, ‘কেরানীগঞ্জে এসপি মিজানের নকল সার কারখানার সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরপরই এ বিষয়ে তদন্তে নামে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একটি দল। তদন্তদলটি গত রবিবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গেলেও কারখানার ভেতর ঢুকতে পারেনি। এরই ধারাবাহিকতায় আমি আজ (সোমবার) সকাল ১১টায় ঢাকা জেলা পুলিশ ও স্থানীয় চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার উদ্দেশ্যে কারখানায় যাই। কারখানার ভেতর গিয়ে জেনারেল ম্যানেজার সোহেল রানা ও ম্যানেজার আবুল হোসেনের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, কারখানাটির স্বত্ব এসপি মিজান সাহেবের স্ত্রী নিপা মিজানের নামে এবং কারখানাটির নাম মোল্লা এনপিকেএস কোং। নিপা মিজানের কাছ থেকে জনৈক সাইদুর রহমান খান কারখানাটি ভাড়া নিয়ে মেঘনা ফার্টিলাইজার নাম দিয়ে ব্যবসা করে আসছে। সাইদুর রহমান মেঘনা ফার্টিলাইজারের আড়ালে এনপিকেএস ও জৈবসার তৈরি করে আসছিল। এ সময় কারখানার ভেতর থেকে সার তৈরি করার উদ্দেশ্যে আনা দেড় হাজার বস্তা গোবর, দেড় হাজার বস্তা মুরগির বিষ্ঠা, দেড় হাজার বস্তা খেতের মাটি, কিছু প্রস্তুত করা মিশ্র সার, মেঘনা ফার্টিলাইজার এনপিকেএস ও জৈব সারের প্লাস্টিকের বস্তা জব্দ করা হয়। পরে কারখানাটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। ’

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার পারভেজুর রহমান জুমন বলেন, ‘উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার অভিযোগের ভিত্তিতে সকালে হযরতপুর ইউনিয়নের কাজিকান্দি গ্রামে জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মোবাইল কোর্ট করার উদ্দেশ্যে যাই। সেখানে গিয়ে কারখানার জিএম ও ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পারি, কারখানাটির কোনো বৈধ লাইসেন্স ও পরিবেশ ছাড়পত্র নেই। কারখানার পাশেই রয়েছে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। কারখানার ভেতরের কাঁচামাল দেখে কালের কণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদের সত্যতা পাওয়া যায়। কারখানাটির পাশে শিশুদের জন্য একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকায় যেকোনো সময় যাতে বিদ্যালয়ের বড় ধরনের ক্ষতিসাধন না হয় সে জন্য কারখানাটি সিলগালা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত মামলা করার জন্য আদেশ দেওয়া হয়েছে। ’

গোপালগঞ্জে দুজনের নামে মামলা : গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার লেবুতলা গ্রামে এসপি মিজানের মালিকানাধীন ফার্মনেস্ট অ্যান্ড মিল্ক প্রডাক্টস লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান ভাড়া নিয়ে নকল সার উত্পাদনের অভিযোগে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছে কৃষি বিভাগ। গত রবিবার রাতে  টুঙ্গিপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. এইচ এম মনিরুজ্জামান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এতে আসামি করা হয়েছে ঢাকার মো. সাইদুর রহমান খান এবং নারায়ণগঞ্জের ইমাম হোসেন নামের দুই ব্যবসায়ীকে।

গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সমীর কুমার গোস্বামী কালের কণ্ঠকে বলেন, গত রবিবার কারখানটি সিলগালা করার পর সব সামগ্রী স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের জিম্মায় রাখা হয়েছে। আর ওই কারখানা থেকে যেসব নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে তা পরীক্ষার জন্য ঢাকার একটি ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।

টুঙ্গিপাড়া থানার ওসি এ কে এম এনামুল কবীর কালের কণ্ঠকে বলেন, আসামিরা পলাতক। তাদের গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে।

‘এসপি মিজানের নকল সারের ৪ কারখানা’ শিরোনামে গত রবিবার কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর টুঙ্গিপাড়ায় নকল টিএসপি সার তৈরির কারখানাটি সিলগালা করে দেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ওই সময় প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে মালিকপক্ষের লোকজন কারখানায় তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়। পরে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের উপস্থিতিতে তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে নকল সার তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম ও কাঁচামাল জব্দ করেন।


মন্তব্য