kalerkantho


ট্রাম্পের অভিবাসীবিরোধী আদেশ

এবার মামলা ঠুকল ৯৭ কম্পানি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



এবার মামলা ঠুকল ৯৭ কম্পানি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসীবিরোধী আদেশের বিরুদ্ধে এবার মামলা ঠুকেছে ৯৭টি কম্পানি। এর মধ্যে অ্যাপল, ফেসবুক, গুগল, ইনটেল, মাইক্রোসফট ও টুইটারের মতো কম্পানিও রয়েছে। গত রবিবার রাতে আদালতে দায়ের করা এ মামলায় বলা হয়, ট্রাম্পের ওই নির্বাহী আদেশ ‘অভিবাসন আইন ও সংবিধান লঙ্ঘন করেছে’।

মামলা দায়েরকারী কম্পানিগুলো মূলত টেকনোলজিভিত্তিক। ব্যতিক্রম মাত্র তিনটি—দই প্রস্তুতকারী চোবানি, স্ন্যাক প্রস্তুতকারী কাইন্ড এবং ফ্যাশন ব্র্যান্ড লেভি স্ট্রস। এই তিনটির মালিকই অভিবাসী।

আদালতের নথিতে বলা হয়, এই নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নীতিতে আকস্মিক পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা মার্কিন কম্পানিগুলোর জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নাইন্থ সার্কিট কোর্ট অব আপিলসে এই মামলা দায়ের করা হয়। গত রবিবার এই আদালতই ট্রাম্পের এই নির্বাহী আদেশ স্থগিত করার বিষয়ে একটি ফেডারেল আদালতের রায় প্রত্যাহারের আবেদন খারিজ করে দেন। আপিল আদালত মামলার দুই পক্ষের বিস্তারিত যুক্তি শুনানি পর্যন্ত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখার আদেশ দেন।

সান ফ্রান্সিসকোতে অবস্থিত নাইন্থ সার্কিট আদালতের সবচেয়ে নিরপেক্ষ হিসেবে দেশজুড়ে সুনাম রয়েছে।

তবে এই মামলার রায় যাই হোক না কেন এই মামলার পরবর্তী গন্তব্য নিশ্চিতভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। গত রবিবার রাতে করা টেক কম্পানিগুলোর মামলার শুনানির জন্য একজন অ্যামিকাসকে নিয়োগ দিতে আদালতের প্রতি আবেদন জানানো হয়েছে।  

ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে সাতটি মুসলিমপ্রধান দেশের নাগরিকদের ৯০ দিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার ওপর বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সব শরণার্থীর ওপর নিষেধাজ্ঞা বসেছে ১২০ দিনের জন্য। সিরিয়ার শরণার্থীদের বিষয়ে সময় বলা হয়েছে অনির্দিষ্টকাল।

এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে টেক কম্পানিগুলোর মামলাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তাদের এই মামলা থেকেই বোঝা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে অভিবাসীদের ভূমিকা কতটা।

আদালতের নথিতে আরো বলা হয়, ‘অভিবাসীরা এ জাতির সেরা আবিষ্কারের মধ্যে অনেকগুলোতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখেছে। দেশের উদ্ভাবনী ও দৃষ্টান্তমূলক কম্পানিগুলোর বেশির ভাগই তাদের তৈরি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন থেকেই ক্ষতিকর ব্যক্তিদের কাছ থেকে নিজেদের সুরক্ষার গুরুত্বের কথা বলে আসছে। তবে কাজটি করা হয়েছে অভিবাসীদের স্বাগত জানানোর মৌলিক প্রতিশ্রুতিকে মাথায় রেখে—অভিবাসী হিসেবে আসতে চাওয়া ব্যক্তির অতীতের পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা এবং অন্যান্য বিষয়ের ওপর নজর দিয়ে। ’

তবে ট্রাম্পের আদেশের বিরুদ্ধে টেক কম্পানিগুলোর এটিই প্রথম আইনগত ব্যবস্থা ছিল না। এর আগে গত সপ্তাহে অ্যামাজন ও এক্সপেডিয়া মামলা করে। তাদের যুক্তি ছিল, এই নির্বাহী আদেশ তাদের কর্মী ও ব্যবসাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। ট্যাক্সি সেবাদানকারী সংস্থা উবারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গত সপ্তাহে এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপত্তি তুলেই ট্রাম্পের বাণিজ্য পরামর্শ পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন। উবার এবং তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী কম্পানি লিফট গত রবিবারের এই মামলার প্রতি তাদের সমর্থন জানিয়েছে।

কিছু ঘটলে দায় আদালতের : ট্রাম্প

তবে এসব মামলাকে আমলে নিতে রাজি নন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। গত রবিবার তাদের আবেদন নাকচের পর আরো বিরক্ত হয়েছেন তিনি। লাগাতার দেওয়া কয়েকটি টুইটে ওই দিনই তিনি যা বলেছেন তাকে এক লাইনে আনলে দাঁড়ায়, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ‘যদি কিছু হয় তার দায় আদালতের’। একই সঙ্গে তিনি এও বলেন, নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেও কারা যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকছে, ‘খুবই সতর্কভাবে তা পর্যবেক্ষণ করতে হবে’। দেশের বিচারকদের ওপর ক্ষুব্ধ ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না, একজন বিচারক কী করে দেশকে এমন বিপদের মুখে ঠেলে দিতে পারেন। যদি কিছু হয় তাহলে তার দায় আদালতের এবং বিচারপ্রক্রিয়ার। বানের জলের মতো লোক ঢুকছে। খুব খারাপ। ’ এর আগেও তিনি এই নিষেধাজ্ঞায় স্থগিতাদেশ দেওয়া বিচারক জেমস রবার্টকে ‘হাস্যকর’ ও ‘তথাকথিত বিচারক’ বলে অভিহিত করেছিলেন। সূত্র : বিবিসি, সিএনএন।


মন্তব্য