kalerkantho


কুষ্টিয়ায় আ. লীগে সংঘর্ষ, নিহত ১

ঈশ্বরদীতে সংঘর্ষে চারজন গুলিবিদ্ধ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



কুষ্টিয়ায় আ. লীগে সংঘর্ষ, নিহত ১

এবার কুষ্টিয়ায় আধিপত্য বিস্তার ও জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গতকাল শুক্রবার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক কর্মী নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরো অন্তত ১০ জন। গত বৃহস্পতিবার রাতে সরকারি দলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলিবিনিময়ে পাবনার ঈশ্বরদীতে চারজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ওদিকে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন সাংবাদিক মারা গেছেন। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধির পাঠানো খবর :

কুষ্টিয়া : সকালে কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার জিয়ারখী ইউনিয়নের মঠপাড়া গ্রামে সংঘর্ষ নিহত ব্যক্তির নাম ইদ্রিস আলী (৪৫)। তিনি ওই গ্রামের মৃত গফুর মেম্বারের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, জিয়ারখী ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন শাখা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদেরের সঙ্গে দলটির স্থানীয় একটি ওয়ার্ড শাখার সভাপতি আফজাল হোসেনের বিরোধ চলে আসছিল। গতকাল সকালে মঠপাড়া গ্রামে জমি ভাগবাটোয়ারা নিয়ে আবদুল কাদের পক্ষের শাহজাহান ইসলাম ও আফজাল হোসেনের সমর্থক ইসমাইলের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং মারমুখী হয়ে ওঠে। এ সময় আফজালের সমর্থক ইদ্রিস আলীকে লক্ষ্য করে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র (ফালা) ছুড়ে মারে। ফালাটি তাঁর গলায় বিদ্ধ হয় এবং তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

সংঘর্ষে দুই পক্ষের আরো অন্তত ১০ জন আহত হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ইদ্রিস আলীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

স্থানীয় লোকজন জানায়, মঠপাড়া গ্রামে এখন উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার পর এলাকাবাসী আরো বড় ধরনের হামলা সংঘর্ষের আশঙ্কায় আতঙ্কিত ও ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে। সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি শাহাবুদ্দিন চৌধুরী জানান, আবার যাতে সংঘর্ষ না হয় কিংবা কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে জন্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

পাবনা : আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঈশ্বরদীর আমবাগান এলাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের ছাত্রলীগের দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে চারজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আহত হয়েছে আরো একজন। এ সময় তিনটি বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঈশ্বরদী আমবাগান পুলিশ ফাঁড়ির পাশের একটি ক্লাবে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানায়, ঈশ্বরদী পৌর এলাকার আমবাগান মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে পৌরসভা শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রাজীব ও একই শাখা আওয়ামী লীগের সোহাগ হোসেনের অনুসারীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।

বৃহস্পতিবার রাতে রাজীবের পক্ষের লোকজন আমবাগান পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় পিকনিকের আয়োজন করে। এই পিকনিক চলাকালেই দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বলে স্থানীয় লোকজন জানায়। তারা আরো জানায়, সংঘর্ষ চলাকালে ২০ থেকে ২৫ রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা গেছে।

গুলিবিদ্ধ চারজন হলো উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মুস্তাফিজুর রহমান সুমন, শামীম, মোতালেব ও নয়ন শেখ। তাঁদের মধ্যে সুমন ও শামীমকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে স্বজনরা জানিয়েছে।

এ ছাড়া সংঘর্ষের সময় বাবু, শফিকুল ও আনোয়ার শেখ নামের তিনজনের বাড়ি ভাঙচুর করা হয় বলেও এলাকাবাসী জানায়।

ঈশ্বরদী থানার ওসি আবদুল হাই কালের কণ্ঠকে বলেন, সোহাগ ও রাজীব গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতির আর যাতে কোনো অবনতি না হয় সে জন্য আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে আজ (গতকাল শুক্রবার) কথা বলেছেন তাঁরা।

সংঘর্ষের ঘটনায় কোনো পক্ষ থানায় কোনো অভিযোগ দাখিল করেনি জানিয়ে ওসি বলেন, গোলাগুলির কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না তা তাঁর জানা নেই।

রাজশাহীতে আ. লীগ নেতাকে হাতুড়িপেটা : বাগমারা উপজেলার তাহেরপুরে জাহেদুর রহমান সেলিম নামের স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতাকে হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় তাঁর ছোট ভাই শামীমকেও পিটিয়ে আহত করা হয়। গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সেলিম ও শামীম দুর্গাপুর উপজেলার গোপালপাড়া গ্রামের আবু সালামের ছেলে। দুই ভাইয়ের মধ্যে সেলিম একই উপজেলার কিসমতগণকৈড় ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি স্থানীয় ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের ব্যবস্থাপকও।

আহত সেলিম জানান, তাহেরপুর বাজারে তাঁর ‘মেসার্স সোহানা বালাইনাশক’ নামের একটি দোকান রয়েছে। রাত ৮টার দিকে ১০-১২ জনের একটি দল দোকানে হামলা চালিয়ে তাঁদের দুই ভাইকে হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে জখম করে চলে যায়। হামলাকারীরা দোকান থেকে প্রায় তিন লাখ টাকা লুট করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। প্রকল্প থেকে ঋণ না দেওয়ায় তাঁদের গ্রামের মনির ক্ষিপ্ত হয়ে এ হামলা চালিয়েছে।

বাগমারা থানার ওসি সেলিম হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ’


মন্তব্য