kalerkantho


মেলার ভিড়ে ট্রাক প্রাণ গেল ৮

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মেলার ভিড়ে ট্রাক প্রাণ গেল ৮

খাগড়াছড়ির আলুটিলা পর্যটন এলাকায় ট্রাকচাপায় নারী, শিশুসহ আটজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরো সাতজন।

এর মধ্যে শিশুসহ দুজনের অবস্থা সংকটাপন্ন। তাদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা সবাই বৌদ্ধ বিহার অধ্যক্ষ চন্দ্রমনি মহাস্থবিরের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে এসেছিল। এ ঘটনায় ট্রাকের হেলপার সুমনকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহতরা হলো চোংড়াছড়ির এসএসসি পরীক্ষার্থী উনুচু মারমা (১৫) ও সহপাঠী অংক্যচিং মারমা (১৮), শিশু উক্রাচিং মারমা (৫), টুনটুনি মারমা (৬), ববি মারমা (১৪), তার মা নেমরা মারমা (৪০), তবলছড়ি এলাকার পুনু মারমা (১৮), রামগড়ের সাথোয়াইপ্রু মারমা (১৫)।

আহতদের মধ্যে চিংকিওলা মারমা (৮) ও রনি মারমাকে (৩০) গুরুতর অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ

হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। খাগড়াছড়ি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে উমেচিং মারমা (৩০), সুকেশ ত্রিপুরা (১৫), চিংস্নাউ মারমা (২৫), স্নানাউ মারমা (২৫) ও জনি মারমা (২৮)।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার রাতে কক্সবাজার চকরিয়ায় যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে এক পরিবারের শিশু, নারীসহ তিনজন নিহত হয়েছে।

একই সঙ্গে ওই পরিবারের আরো সাতজন এবং বাসের আট যাত্রী আহত হয়েছে। নিহতরা ঢাকার নিউ মার্কেট এলাকা থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে যাচ্ছিল।

গতকাল সকাল ৯টার দিকে ঈশ্বরগঞ্জের মাইজবাগ বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মাইক্রোবাসের ধাক্কায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শেরপুরে বাসের ধাক্কায় দুই মাদরাসা ছাত্র নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছে। দুপুরে যশোরের মণিরামপুরে এক পুলিশ অফিসার ট্রাকচাপায় নিহত হয়েছেন। বিস্তারিত আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে :

আলুটিলায় ট্রাকচাপায় আটজন নিহত : খাগড়াছড়ি জেলা সদরের অদূরে আলুটিলা পর্যটন এলাকায় গতকাল ছিল জেলা বৌদ্ধ বিহার অধ্যক্ষ চন্দ্রমনি মহাস্থবিরের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অনুষ্ঠান। এ উপলক্ষে সেখানে সকাল থেকে বিভিন্ন বয়সী হাজারো বৌদ্ধ ধর্মপ্রাণ মানুষ হাজির হয়। বৌদ্ধ ভান্তের দাহক্রিয়া উপলক্ষে আলুটিলা পর্যটন এলাকার আশপাশে মেলা বসে। এর মধ্যে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফেনী থেকে আসা বালুবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে মেলায় থাকা মানুষ ও দোকান পিষে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলে নারী-শিশুসহ সাতজন নিহত ও আটজন আহত হয়। এর মধ্যে শিশুসহ তিনজনকে সংকটাপন্ন অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে ববি মারমা (১৪) নামের একটি শিশুর মৃত্যু হয়। এর আগে ঘটনাস্থলে মারা যান ওই শিশুর মা নেমরা মারমা। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও স্থানীয়রা লাশ ও আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে পরিবারের অনাপত্তির কারণে লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

খাগড়াছড়ি হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের মেঝেতে আহাজারি করছেন নিহত সাথোয়াইপ্রুর বড় ভাই মংসাথুই মারমা। তিনি জানান, ছোট ভাইকে নিয়ে মেলা দেখতে এসেছিলেন। অন্যদিকে মেঝ ছেলে অংক্যচিংকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়েছেন তার মা উষাচিং মারমা। তিনি বলছিলেন, ‘আমার ছেলে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। তার সহপাঠী উচনুর সাথে বেড়াতে গিয়েছিল। ’ ছেলের বউ নেমরা ও নাতি টুনটুনিকে হারিয়ে শোকে কাতর বৃদ্ধ সাথোয়াই মারমা। তিনি বাকরুদ্ধ।

খাগড়াছড়ি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ তারেক মো. হান্নান জানান, হেলপার  সুমন (১৭) ট্রাকটি চালিয়ে আসছিল। সুমনের বাড়ি দীঘিনালায়। সে ট্রাকটিতে পাথরি বালু নিয়ে খাগড়াছড়ি আসছিল। এর আগে জালিয়াপাড়া নামক এলাকায় ট্রাকের চালক পলাশ নেমে যায়। আটক সুমন বলেছে, ‘পাহাড় থেকে নামার পথে হাওয়ার ব্রেক ফেল করায় গাড়িটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। ’

আলুটিলা ধাতুচৈত্য বৌদ্ধ বিহার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক উষা মারমা মর্মান্তিক ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও নিহতদের পরিবারের জন্যে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। এ ছাড়া খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী শোক প্রকাশ করে সমবেদনা জানিয়েছেন। এদিকে এক বিবৃতিতে ওই ট্রাকচালকের শাস্তি দাবি জানিয়েছে ইউপিডিএফ। এ ছাড়া খাগড়াছড়ি সড়ক পরিবহন চালক সমবায় সমিতি শোক জানিয়েছে।

চার স্থানে নিহত আরো সাতজন : ঢাকার নিউ মার্কেট সিটি কমপ্লেক্স এলাকার বিশ্বাস বিল্ডার্স থেকে একটি মাইক্রোবাস নিয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশে বেড়াতে যাচ্ছিল এক পরিবারের শিশু, নারীসহ ১২ জন। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে কক্সবাজারের চকরিয়ার গয়ালমার বাঁকে বিপরীত দিক থেকে আসা শ্যামলী পরিহনের যাত্রীবাহী একটি এসি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় মাইক্রোবাসটি  দুমড়েমুচড়ে গিয়ে সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে যায়। এতে বৃদ্ধ এক নারী ও মাইক্রোবাসের চালক ঘটনাস্থলে পুড়ে মারা যায়। মাইক্রোবাসের ভেতর থেকে শিশু, নারীসহ ১০ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে একটি শিশু মারা যায়। আহত হয় মাইক্রোবাসে থাকা সাতজন ও শ্যামলী বাসের আটজন যাত্রী।

নিহতরা হলো ঢাকার নিউ মার্কেটের সিটি কমপ্লেক্সের পাশের বিশ্বাস বিল্ডার্সের বাসিন্দা মোমিন হোসেন প্রকাশ মনো মিয়ার স্ত্রী মাফিয়া বেগম (৫৫) ও তাঁর পাঁচ বছর বয়সী নাতি মো. ইয়ামিন ও মাইক্রোবাসের চালক মোহাম্মদ আরিফ (৩২)।

আহতরা হলো মোমিন হোসেনের ছেলে মাসুদ রানা (২৮), মো. মাসুমের স্ত্রী শাহিনুর আক্তার (২৫), সেকান্দর মোল্লার ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩০), আবদুর রহিমের মেয়ে ববি আক্তার (১৪), গৃহপরিচারিকা রুমানা (৩০), মোহাম্মদ মাসুদের স্ত্রী স্মৃতি আক্তার (২০), শিশুপুত্র মো. বায়েজিদ (৫), সাইফুল ইসলামের যমজ মেয়ে ছাবিয়া আক্তার (১৪) ও তছমিন আক্তার (১৪)।

নিহত মাফিয়া আক্তারের মেয়ের জামাই ঢাকার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইউনূস জানান, নিহত মাফিয়ার হাতে থাকা একটি ভ্যানিটি ব্যাগে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা, ৬০ হাজার টাকা মূল্যের একটি আইফোনসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ছয়টি মোবাইল ফোনসেট খোয়া যায়। বিষয়টি হাইওয়ে পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে।

চকরিয়া থানার ওসি মো. জহিরুল ইসলাম খান বলেন, আহতদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, চকরিয়ার একাধিক প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের মাইজবাগ বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মাইক্রোবাসের ধাক্কায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর নাম মোছা. খাইরুন্নেছা (৬০)। তিনি উপজেলার পাড়া বাঁশহাটি গ্রামের মৃত আমির হোসেনের স্ত্রী। গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

শেরপুরে বাসের ধাক্কায় দুই মাদরাসা ছাত্র নিহত এবং আরো ১০ জন আহত হয়েছে। গতকাল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঝিনাইগাতীর মাটিয়াকুড়া নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো শ্রীবরদীর পূর্ব ছনকান্দা গ্রামের শামছুল হকের ছেলে সাইফুল ইসলাম (১২) ও তার চাচাতো ভাই শহীদ চৌকিদারের ছেলে আবু হামজা (১৩)। তারা ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। আহতদের মধ্যে দুজনকে শেরপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

যশোরের মণিরামপুরে জাকির হাসান দিপু নামের এক পুলিশ কর্মকর্তা ট্রাকচাপায় নিহত হয়েছেন। তিনি উপজেলার জয়পুর গ্রামের ইন্তাজ আলী সরদারের ছেলে। গতকাল দুপুরে মোটরসাইকেলযোগে আত্মীয়র বাড়িতে যাচ্ছিলেন তিনি। এ সময় মণিরামপুর-ঢাকুরিয়া সড়কের গাংড়া মোড় নামক স্থানে একটি ট্রাক তাঁকে চাপা দেয়। তিনি ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল থানায় এএসআই পদে চাকরিরত ছিলেন।


মন্তব্য