kalerkantho


১১২ ট্রেনের ৮৬টিরই ভ্রমণ সময় কমছে

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



১১২ ট্রেনের ৮৬টিরই ভ্রমণ সময় কমছে

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের দূরত্ব ৩৪৬ কিলোমিটার। বর্তমানে এ রেলপথের বিরতিহীন আন্ত নগর সুবর্ণ এক্সপ্রেসের দুটি ট্রেনের ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে চলাচল করতে সময় লাগে ছয় ঘণ্টার বেশি।

তবে চলতি মাস থেকে ট্রেনটির এই ভ্রমণ সময় এক ঘণ্টা কমে যাবে। একইভাবে নতুন সময়সূচি অনুযায়ী ভ্রমণ সময় কমবে বিরতিহীন অন্য ট্রেন সোনার বাংলারও।

শুধু এই দুটি আন্ত নগর ট্রেনই নয়, রেলওয়ের ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগ নিয়ে গঠিত পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের ১১৬টি যাত্রীবাহী ট্রেনের মধ্যে ৮৬টির ভ্রমণ সময়ই কমে যাবে। এর মধ্যে ৪৬টি আন্ত নগর ট্রেনের মধ্যে ৪৩টির সময় কমবে। একটির সময় অপরিবর্তিত থাকবে। অন্য দুটির সময়ও কমবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান।

আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন সময়সূচিতে (ওয়ার্কিং টাইমটেবিল নম্বর ৫১) ট্রেন চলাচলের লক্ষ্য নিয়ে চলছে নানা কাজ। কয়েক দিন ধরে সময়সূচিসংবলিত বই ছাপানোর কাজ শেষ পর্যায়ে।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, ওয়ার্কিং টাইমটেবিল নম্বর ৫১ কার্যকর হলে রেলওয়ের ইতিহাসে পূর্বাঞ্চলে প্রথমবারের মতো একযোগে বেশির ভাগ ট্রেনের ভ্রমণ সময়

কমবে।

এতে যাত্রীসংখ্যা আরো বেড়ে যাবে। বর্তমান সরকারের আমলে করা ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের বেশির ভাগে ডাবল লাইনের সুফল চলতি মাসেই মিলবে। পূর্বাঞ্চলের মিটারগেজ রেলপথে দীর্ঘদিন ধরে সর্বোচ্চ ৭২ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলে আসছে। নতুন এ সময়সূচি কার্যকরের সঙ্গে সঙ্গে সুবর্ণ ও সোনার বাংলা আন্ত নগর ট্রেন দুটি ৭২ কিলোমিটারের পরিবর্তে ৮০ কিলোমিটার গতিতে চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলওয়ে। অন্য ট্রেনগুলো ৭২ কিলোমিটারের বেশি গতিতে চলাচল করতে পারবে না।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. হাবিবুর রহমান গতকাল রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নতুন সময়সূচি কার্যকর হলে বর্তমান সময়ের চেয়ে অনেক ট্রেনের ভ্রমণ সময় কমবে। ’ তবে কয়টি ট্রেনের ভ্রমণ সময় কমবে সে ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে পূর্বাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপকের কাছে জানতে পারবেন। নতুন ওয়ার্কিং টাইমটেবিল বাস্তবায়নে আমরা গাইডলাইন দিয়েছি। ’

এর আগে বাংলাদেশ রেলের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, বর্তমান সরকারের আমলে বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়নকাজ হচ্ছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। ৩৪৬ কিলোমিটার রেলপথের মধ্যে লাকসাম থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ৭১ কিলোমিটার ছাড়া বাকি অংশ ডাবল লাইন হয়েছে। এ কারণেই নতুন সময়সূচিতে এই পথে ডাবল লাইনে ট্রেন চলাচল করবে। লাকসাম থেকে আখাউড়া পর্যন্ত অংশটি ডাবল লাইন হয়ে গেলে আগামী বছর থেকে বিরতিহীন ট্রেনগুলো আরো প্রায় এক ঘণ্টা কমে চার থেকে সোয়া চার ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম যাতায়াত করতে পারবে।

রেলের অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী ইছা-ই খলিল বলেন, ‘ডাবল লাইনের সুফল আমরা পেতে শুরু করেছি। যে অংশটুকুতে ডাবল লাইনের কাজ চলছে তা সম্পন্ন হলে আমরা পুরোপুরি সুফল পাব। ডাবল লাইনের কারণে ট্রেনের সংখ্যাও বেড়ে গেছে। নতুন সময়সূচিতে অনেক ট্রেনের ভ্রমণ সময় কমবে। ’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১৫ জুন ওয়ার্কিং টাইমটেবিল ৫০ কার্যকর হয়। এই টাইমটেবিল অনুযায়ী পূর্বাঞ্চল রেলে সব পথে ট্রেন চলাচল শুরু করে। এরপর গত বছর ৭ জানুয়ারি টাইমটেবিল ৫০-এর সংশোধনী অনুযায়ী ট্রেন চলাচল শুরু হয়। চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে টাইমটেবিল ৫১ অনুযায়ী পূর্বাঞ্চলে নতুন সময়সূচিতে ট্রেন চলাচলের নির্দেশনা দেয় রেল ভবন। কিন্তু পশ্চিমাঞ্চলে টাইমটেবিল সংশোধনীর কাজ শেষ না হওয়ায় এবং পূর্বাঞ্চলেও কিছু কাজ বাকি থাকায় ওই দিন থেকে কার্যকর হয়নি। এরপর আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশনা দেয় রেল ভবন থেকে। সেই তারিখেও হচ্ছে না। এখন আলোচনা চলছে আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের দিন থেকে পূর্বাঞ্চলে নতুন সময়সূচিতে ট্রেন চলাচলের। সময়সূচি চূড়ান্ত হয়েছে। এর আগে রেল ভবন থেকে অনুমোদন হয়। এখন অনুমোদিত নতুন সময়সূচিসংক্রান্ত ওয়ার্কিং টাইমটেবিল ৫১ ছাপানোর কাজ চলছে জোরেশোরে।

এতে দেখা যায়, পূর্বাঞ্চলের ৪৬টি আন্ত নগর ট্রেনের মধ্যে ৪৩টির ভ্রমণ সময় পাঁচ মিনিট থেকে সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা ১০ মিনিট পর্যন্ত কমবে।

চট্টগ্রাম-ঢাকা পথের বিরতিহীন আন্ত নগর ট্রেন (নম্বর ৭০২) ‘সুবর্ণ এক্সপ্রেস’ ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম আসতে ছয় ঘণ্টা ২০ মিনিট লাগছে। সুবর্ণ এক্সপ্রেসের অন্য ট্রেনটি (৭০১ নম্বর) চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যেতে ছয় ঘণ্টা ১০ মিনিট সময় লাগছে। নতুন সময়সূচিতে ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পৌঁছবে এক ঘণ্টা এবং ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছবে এক ঘণ্টা ১০ মিনিট কম সময়ে। একই পথে গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে চালু হওয়া দ্বিতীয় বিরতিহীন আন্ত নগর (নম্বর ৭৮৭ ও ৭৮৮) সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের দুটি ট্রেনের ভ্রমণ সময় কমে আসছে। এর মধ্যে ৭৮৭ নম্বর ট্রেনটি ভ্রমণ সময় ৩০ মিনিট কমে পাঁচ ঘণ্টা ১০ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পৌঁছবে। ৭৮৮ নম্বর ট্রেনটির ভ্রমণ সময় ২০ মিনিট কমে পাঁচ ঘণ্টা ২০ মিনিটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে আসবে।

ঢাকা-সিলেট রুটে কালনী এক্সপ্রেস আন্ত নগর ট্রেনে ভ্রমণ সময় অপরিবর্তিত থাকছে। অন্য দুটি ট্রেনের ভ্রমণ সময় চূড়ান্ত হয়নি। এ ছাড়া ৭০টি মেইল ও এক্সপ্রেস, লোকাল (কমিউটারসহ) ট্রেনের মধ্যে ৪৩টির ভ্রমণ সময় কমছে। ১৪টির সময় বাড়বে ভ্রমণে এবং ১১টি ট্রেনের সময় অপরিবর্তিত থাকবে। এসব ট্রেনের মধ্যে সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা ১০ মিনিট পর্যন্ত ভ্রমণ সময় কমবে সিলেট-চট্টগ্রামের মেইল ট্রেন জালালাবাদ এক্সপ্রেসের। ঢাকা মেইল চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় যেতে বর্তমান সময়ের চেয়ে ৪৫ মিনিট সময় কমবে এবং একই ট্রেন ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যেতে ২৫ মিনিট সময় কম লাগবে। আন্ত নগর ট্রেন তূর্ণা এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় যেতে এক ঘণ্টা পাঁচ মিনিট কম লাগবে। একই ট্রেন ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে আসতে বর্তমান সময়ের চেয়ে ৫০ মিনিট সময় কম লাগবে। চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ রুটে বিজয় এক্সপ্রেস সকাল ৭টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম ছেড়ে বিকেল পৌনে ৫টায় অর্থাৎ ৯ ঘণ্টা ২৫ মিনিট সময় নিয়ে ময়মনসিংহ যাচ্ছে। নতুন সময়সূচিতে ছাড়ার সময় চট্টগ্রাম থেকে একই হলেও ট্রেন ময়মনসিংহে পৌঁছবে বিকেল পৌনে ৪টায়। একইভাবে ওই ট্রেন ময়মনসিংহ থেকে চট্টগ্রাম ভ্রমণে বর্তমান সময়সূচি থেকে ৪০ মিনিট সময় কম লাগবে।


মন্তব্য