kalerkantho


প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি, স্কুল হচ্ছে দোতলা

বরগুনা প্রতিনিধি   

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি, স্কুল হচ্ছে দোতলা

জরাজীর্ণ জলিশাহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের স্থলে উঠবে দ্বিতল ভবন। ছবি : কালের কণ্ঠ

উপস্থিত বক্তৃতায় জাতীয় পর্যায়ে তৃতীয় হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার আনতে গিয়েছিল পঞ্চম শ্রেণির শিশু শিক্ষার্থী মাইনুল ইসলাম। পুরস্কার নেওয়ার সময় সুযোগ বুঝে একটি আবেদনপত্র সে তুলে দেয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে।

সে আবেদনে সাড়া মিলেছে। মাইনুলের স্কুল এবার ভবন পাচ্ছে। বরগুনার বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের ৩৪ নম্বর জলিশাহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেই জরাজীর্ণ রূপ আর থাকছে না। জোয়ারের পানিও বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।  

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ উদ্যাপন অনুষ্ঠানে পদক গ্রহণের সময় পঞ্চম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র মাইনুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর হাতে স্কুল ভবন নির্মাণের আবেদন পেশ করে। তার আবেদনে সাড়া দিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মাইনুলের স্কুলের জায়গায় একটি দ্বিতল স্কুল ভবন নির্মাণের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

বরগুনার বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের ব্যবসায়ী মো. আসাদুজ্জামানের ছেলে মাইনুল ইসলাম। তার মা মোসা. নুরুন্নাহার একজন শিক্ষিকা। বর্তমানে তিনি মাইনুলের স্কুল জলিশাহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত।

এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে বড় মাইনুল। ছোট বোন মারজিয়ার বয়স চার বছর। মাইনুলের মা মোসা. নুরুন্নাহার বলেন, তাঁর ছেলে মাইনুল প্রথম শ্রেণি থেকে প্রতি ক্লাসেই প্রথম স্থান অধিকার করে আসছে।  

জলিশাহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ১৯৪৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় জলিশাহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। ১৯৭৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হয়। বর্তমানে এ বিদ্যালয়ে ছয়জন শিক্ষক ও ২৩০ শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয়টি প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রধান শিক্ষক জানান, স্কুলের প্রথম ভবনটি এখন জরাজীর্ণ। সাত-আট বছর আগে পিডিপি-২ এবং এডিবির অর্থায়নে দুটি ভবন নির্মাণ করা হলেও তাতে শিক্ষার্থীদের স্থান সংকুলান হয় না। এই অবস্থায় স্কুলের নতুন ভবন জরুরি হয়ে পড়ে।

প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে মাইনুল উল্লেখ করে, ‘আমার বিদ্যালয়টি বেড়িবাঁধের বাইরে ব্যারেরদোন নদীর তীরে অবস্থিত হওয়ায় প্রতি জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়। এর ফলে শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন লেখাপড়া ও খেলাধুলা করতে কষ্ট হয়। আপনার কাছে আমার বিনীত প্রার্থনা, যাতে অতিদ্রুত একটি দ্বিতল ভবন-কাম-সাইক্লোন শেল্টার পেয়ে উন্নত পরিবেশে লেখাপড়া করতে পারি তার বিহিত বিধানে মর্জি হন। ’ এ বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী সদয় অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠিতে জরুরি ভিত্তিতে বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় দ্বিতল ভবন-কাম-সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান গতকাল বৃহস্পতিবার বলেন, ওই স্কুলের ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই স্কুলে ভবন তৈরি হবে। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে দেশে আর কোনো জরাজীর্ণ স্কুল থাকবে না বলেও জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী।


মন্তব্য