kalerkantho


বাংলা একাডেমি পুরস্কার নিয়ে নজিরবিহীন কাণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বাংলা একাডেমি পুরস্কার নিয়ে নজিরবিহীন কাণ্ড

মর্যাদাপূর্ণ বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার নিয়ে এবার নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। একজন ব্যক্তিকে দুইবার এই পুরস্কার দেওয়ার রীতি না থাকলেও এবার তা ঘটেছে। যদিও পুরস্কার ঘোষণা করার পর তা বাতিল করা হয়েছে। আবার একজনকে পুরস্কারে ভূষিত করলেও পুরস্কার গ্রহণের জন্য তাঁকে অনুষ্ঠানে আসতে বারণ করা হয়। এখানেই শেষ নয়, ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার কমিটি ২০১৬’ সাহিত্যের ১০টি শাখায় পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিতে গিয়ে গবেষণা শাখায় কারো নাম প্রস্তাব না করলেও একাডেমির মহাপরিচালক প্রবন্ধ শাখায় পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখকের সঙ্গে ‘প্রবন্ধ ও গবেষণা’ একসঙ্গে যুক্ত করে ঘোষণা করেছেন।

গত ২৩ জানুয়ারি বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ড. শামসুজ্জামান খান প্রতিষ্ঠানের মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০১৬-এর নাম ঘোষণা করেন। তিনি জানান, কবিতায় পুরস্কার পেয়েছেন আবু হাসান শাহরিয়ার, কথাসাহিত্যে শাহাদুজ্জামান, প্রবন্ধ ও গবেষণায় মোর্শেদ শফিউল হাসান, অনুবাদে নিয়াজ জামান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সাহিত্যে এম এ হাসান, আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথায় নূরজাহান বেগম, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও পরিবেশে মুহাম্মদ ইব্রাহীম এবং শিশুসাহিত্যে রাশেদ রউফ। মুহাম্মদ ইব্রাহীম আগে একাডেমি পুরস্কার পেয়েছেন—এ তথ্য জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত  সাংবাদিকরা মহাপরিচালকের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি তাৎক্ষণিক পুরস্কার তালিকা থেকে এই নাম বাদ দেওয়ার ঘোষণা দেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলা একাডেমি পুুরস্কারের প্রক্রিয়া হচ্ছে আগে পুরস্কার পেয়েছেন এমন নির্বাচিত বিশিষ্ট লেখকরা পুরস্কারের জন্য নাম প্রস্তাব করেন। সেই নামগুলো থেকে ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার কমিটি’ একটি শাখায় একজনের নাম প্রস্তাব করে। সেই প্রস্তাব একাডেমির নির্বাহী পরিষদ সভায় অনুমোদন লাভ করলে চূড়ান্ত হয় পুরস্কার।

জানা যায়, এবার ১১ সদস্যের পুরস্কার কমিটি ১০টি শাখার মধ্যে আটটি শাখায় নাম প্রস্তাব করে যা ২৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাহী পরিষদ সভায় অনুমোদন লাভ করে। পুরস্কার কমিটি গবেষণা ও নাটক—এ দুই শাখায় কারো নাম প্রস্তাব করেনি। কিন্তু মহাপরিচালক পুরস্কার ঘোষণার সময় প্রবন্ধ শাখার সঙ্গে ‘গবেষণা’ যুক্ত করে নাম ঘোষণা করেন।

এদিকে পুরস্কার ঘোষণার পর অনুবাদ শাখায় পুরস্কারপ্রাপ্ত নিয়াজ জামানের মনোনয়ন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ তোলা হয়, ১৯৯৪ সালের ২ ডিসেম্বর হলিডে পত্রিকায় নিয়াজ জামান একটি লেখায় বঙ্গবন্ধুর খুনি মেজর ডালিমের প্রশংসা করেন এবং বঙ্গবন্ধুকে ‘স্বভাবসুলভ’ একনায়ক বলে উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন, মনে করেন, এই ‘সহজাত একনায়ক শেখ ক্ষমতায় আসার পরপরই রাষ্ট্রে ভয়ংকর একনায়ক হিসেবে প্রকাশিত হন’।

গত বুধবার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে প্রধানমন্ত্রী পুরস্কার-স্মারক, অর্থ, সনদ তুলে দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না নিয়াজ জামান। পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকায় নাম আসার পর থেকে শুরু হওয়া সমালোচনার কারণে বাংলা একাডেমিই তাঁকে অনুষ্ঠানে না আসার জন্য অনুরোধ করে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ড. শামসুজ্জামান খান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নিয়াজ জামানের পুরস্কার বাতিল করা হয়নি। অসুস্থতার কারণে তিনি আসতে পারেননি। তাঁর পুরস্কার পৌঁছে দেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে অধ্যাপক নিয়াজ জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি শুধু বলেছেন, যে সমালোচনা হচ্ছে তা খণ্ডিত তথ্য থেকে হচ্ছে।

মেজর ডালিমের প্রশংসা ও বঙ্গবন্ধুর নিন্দা করা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি আবারও বলেন, খণ্ডিত তথ্য থেকে সমালোচনা করা সহজ।

পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে যাননি কেন—এ প্রশ্ন করা হলে নিয়াজ জামান বলেন, ‘আমি অসুস্থ ছিলাম। ’ ‘আপনাকে যেতে বারণ করা হয়েছিল কি না’ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। ’


মন্তব্য