kalerkantho


মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

সাড়ে তিন লাখ বাংলাদেশি কাজের সুযোগ পাচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোন আলাপের কথা জানিয়ে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত আনুমানিক তিন লাখ ৫০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী সে দেশেই কাজের সুযোগ পাবে। তা না হলে ওই কর্মীদের দেশে ফিরে আসতে হতো।

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদারের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

শেখ হাসিনা জানান, ১৫ জানুয়ারি তাঁর সঙ্গে টেলিফোনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আলাপ হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মালয়েশিয়া সরকার বিদেশি কর্মীদের জন্য সময়িক ওয়ার্ক পাস ইস্যুর ঘোষণা দিয়েছে। এই সুযোগ পাবে আনুমানিক তিন লাখ ৫০ হাজার বাংলাদেশি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বিশ্বের ১৬২টি দেশে এক কোটিরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী বর্তমানে কর্মরত আছে। বিদেশে যেসব কর্মী অবৈধভাবে (আনডকুমেন্টেট) আছে তাদের সংশ্লিষ্ট দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের মধ্যমে বৈধকরণ, আইনি সহায়তা প্রদান এবং দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে সৌদি আরবে প্রায় আট লাখ, মালয়েশিয়ায় দুই লাখ ৬৭ হাজার এবং ইরাকে ১০ হাজার অবৈধ বাংলাদেশি শ্রমিক বৈধতা পেয়েছে।

আইনবহির্ভূত কাজের সঙ্গে জড়িত রিক্রুটিং এজেন্সির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক  কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সব জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। যেকোনো আইনবহির্ভূত কাজের সঙ্গে জড়িত রিক্রুটিং এজেন্সি ও মেডিক্যাল সেন্টারগুলোকে তাত্ক্ষণিক জরিমানা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কারাদণ্ড দেওয়া হচ্ছে। জাসদের নাজমুল হক প্রধানের এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের সব নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সরকার সর্বাত্মক কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সব নির্বাহী বিভাগের কর্তব্য। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুসারে সরকার তথা নির্বাহী বিভাগ সব ধরনের সহায়তা করছে। আগামীতেও সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী প্রথমবারের মতো দলীয় ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের অবাধ ও নিরপেক্ষতার কথা তুলে ধরেন। এ নির্বাচন দেশের জনগণ ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রশংসিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োগসহ সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে।

মীর মোস্তাক আহমেদ রবির প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ২২ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পাওয়া আলামত ব্যালেস্টিক ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করছে। এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

শফিকুল ইসলাম শিমুলের প্রশ্নের জবাবে জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় সরকারের দৃঢ়প্রতিজ্ঞার কথা উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, সব ধরনের নাশকতা ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে ও তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের গৃহীত ব্যবস্থার ফলে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তত্পর থাকার ফলে দেশে সন্ত্রাসী ও জঙ্গি কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি দৃঢ়তর হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণে সমীক্ষা শিগগিরই : সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, পদ্মা সেতুর অন্য প্রান্তে মাদারীপুরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের সমীক্ষার কাজ শিগগিরই শুরু হবে। দক্ষিণের জেলা পটুয়াখালীতে পায়রাবন্দরের কার্যক্রম শুরু হওয়ার ফলে ওই অঞ্চলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে। পায়রাবন্দরের সঙ্গে সরাসরি রেল যোগাযোগ স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মৃতপ্রায় মোংলা বন্দর লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। ইলেকট্রিক ট্রেন ও পাতাল ট্রেনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজও চলছে।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম ওমরের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০১৬ সালের নমিনাল জিডিপির ভিত্তিতে বিশ্বে ৪৬তম এবং ক্রয়ক্ষমতার সমতার জিডিপির ভিত্তিতে ৩৩তম স্থান অধিকার করেছে। বর্তমানে (২০১৬ সালে হিসাবে) মাথাপিছু আয় এক হাজার ৪৬৫ মার্কিন ডলার। তিনি বলেন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এ সরকারের এক অন্যতম সাফল্য। বাংলাদেশ চাল উত্পাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। দেশে খাদ্য মজুদ ক্ষমতা বেড়ে ২০১৭-তে ২০ লাখ ৪০ হাজার টনে উন্নীত হয়েছে। তিনি বলেন, দেশজ আয় ও প্রবৃদ্ধি অর্জনে সরকার অতীতের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণকালে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫.১ শতাংশ, যা ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৭.১১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এটি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানি-পরিবহনসহ ভৌত অবকাঠামো খাত উন্নয়ন ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ ক্রমেই ত্বরান্বিত করছে। বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়ন প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। সরকারের ঐকান্তিক প্রয়াসের ফলে দেশে ও বিদেশে মিলে গত সাত বছরে প্রায় এক কোটি ২২ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এত কর্মসংস্থান আর অতীতে কখনো হয়নি।


মন্তব্য