kalerkantho


ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টকে লালগালিচা সংবর্ধনা

মাহমুদ আব্বাস

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টকে লালগালিচা সংবর্ধনা

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস গতকাল বিকেলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছলে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তাঁকে স্বাগত জানান। ছবি : বাসস

তিন দিনের সরকারি সফরে ঢাকায় পৌঁছেছেন মাহমুদ আব্বাস। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটাই বাংলাদেশে তাঁর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর।

গতকাল বুধবার বিকেলে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছলে তাঁকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। আজ বিকেল সাড়ে ৩টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর তেজগাঁও কার্যালয়ে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট একান্ত বৈঠক করবেন।

গতকাল বিমানবন্দরে ভিআইপি টার্মিনালে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তাঁর সম্মানে ২১ বার তোপধ্বনি করা হয়। তিন বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল দেয় গার্ড অব অনার। এ সময় বিমানবন্দরে অন্যদের মধ্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী উপস্থিত ছিলেন।

বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা ও গার্ড পরিদর্শনের পর ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টকে মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে বিমানবন্দর সড়কের লা মেরিডিয়ান হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সফরের সময় তিনি ও সফরসঙ্গীরা এখানেই থাকবেন। ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. রিয়াদ আল মালকি, প্রধান বিচারপতি মাহমুদ আলহাব্বাশ, রাষ্ট্রপতির মুখপাত্র নাবিল আবুরুদাইনাহ, কূটনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাজদি খালদিসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের প্রতিনিধিদলে রয়েছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী গতকাল সন্ধ্যায় লা মেরিডিয়ান হোটেলে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সফরসূচি অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। সেখানে তিনি একটি গাছের চারা রোপণ এবং পরিদর্শক বইয়ে স্বাক্ষর করবেন। এরপর তিনি ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করবেন।

বিকেল সাড়ে ৩টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে একান্ত বৈঠক করবেন। এরপর দুই নেতার নেতৃত্বে দুই দেশের প্রতিনিধিদল আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসবে। বৈঠকগুলোতে উভয় পক্ষ দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতবিনিময় করবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এ সফরে দুই দেশের মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ে যৌথ কমিশন গঠনসংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠক শেষে লা মেরিডিয়ান হোটেলে ফেরার পর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ। এরপর ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। রাষ্ট্রপতি ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টের সম্মানে বঙ্গভবনের দরবার হলে ভোজসভার আয়োজন করেছেন। সফরসূচি অনুযায়ী, ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রপতি আগামীকাল শুক্রবার দুপুর ২টায় ঢাকা ছাড়বেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বিমানবন্দরে তাঁকে বিদায় জানাবেন।

জানা গেছে, ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টের এ সফরে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বাংলাদেশ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করবে। বাংলাদেশ সব সময় ফিলিস্তিন রাষ্ট্র এবং জেরুজালেমে ফিলিস্তিনের রাজধানী প্রতিষ্ঠার পক্ষে। ফিলিস্তিনের পক্ষে বাংলাদেশ বৈশ্বিক অঙ্গনে জোরালো কণ্ঠস্বর হয়ে আসছে। বাংলাদেশ ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়নি এবং এ দেশের সাধারণ পাসপোর্টে ইসরায়েল না যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী জনগণ বাংলাদেশের এ অবস্থানকে গভীরভাবে মূল্যায়ন করে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, এমন এক সময় ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট ঢাকায় আসছেন যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইসরায়েলকে জোরালো সমর্থন দিচ্ছে। এ ছাড়া ইসরায়েলের তেল আবিব থেকে যুক্তরাষ্ট্র তার দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের আগ্রহ দেখাচ্ছে। একে ওই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট এ বিষয়ে তাঁর অবস্থান বাংলাদেশের কাছে তুলে ধরতে পারেন।

মাহমুদ আব্বাসের ঢাকা সফরকে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপি : ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের ঢাকা সফরকে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপি। দলটির পক্ষে বিশেষ সম্পাদক ও পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান রিপন এ তথ্য জানিয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফরকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর এই সফর ফলপ্রসূ হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র হিসেবে অচিরেই সর্বজনীন স্বীকৃতি লাভ করবে এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি আগ্রাসন ও দখলদারির অবসান হবে।

বিএনপির এই নেতা আরো বলেন, ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে মাহমুদ আব্বাসের এটি প্রথম সফর হলেও ১৯৮১ সালে ফিলিস্তিনিদের অবিসংবাদিত নেতা ইয়াসির আরাফাত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমন্ত্রণে প্রথম বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন। তাঁর সঙ্গে প্রেসিডেন্ট জিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।


মন্তব্য