kalerkantho


সরকারি চাকুরেদের জন্য পরিপত্র জারি

মরণেই নয় ঋণমুক্তি

আবুল কাশেম   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মরণেই নয় ঋণমুক্তি

চাকরিরত অবস্থায় মারা গেলে, সম্পূর্ণ মানসিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী হলে বা অবসরে গেলেই ঋণ থেকে মুক্তি মিলবে না সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। ঋণ গ্রহণকারী মৃত্যুর আগে পাওনা গ্র্যাচুইটি নিষ্পত্তি করে থাকলে তাঁদের ক্ষেত্রে ঋণ ও সুদ মওকুফ করবে না সরকার। তবে চাকরিরত অবস্থায় কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়দেনাগ্রস্ত নিঃস্ব পরিবার-পরিজন রেখে মৃত্যুবরণ করলে বা অক্ষমতাজনিত কারণে অবসরে গেলে তাঁদের প্রাপ্য সরকারি সুবিধাদি বিবেচনায় নিয়ে ঋণের আসল ও সুদ মওকুফ করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা নীতিমালায় এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজস্ব দপ্তর থেকে গৃহ নির্মাণ, গৃহ মেরামত, কম্পিউটার, মোটর কার ও মোটরসাইকেল কেনার ঋণ পেয়ে থাকেন। এত দিন কর্মকর্তা-কর্মচারী মৃত্যুবরণ করলে বা সম্পূর্ণ অক্ষম অবস্থায় অবসরে গেলে এই ঋণের সুদ ও আসল মওকুফ করা হতো। কিন্তু এখন থেকে ঢালাওভাবে তা হবে না। কোন কোন অবস্থায় কর্মকর্তা-কর্মচারীর ঋণ মওকুফ করা হবে, তা সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। তবে আসল ও সুদ মওকুফের সুপারিশ করতে অর্থ মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করেছে। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তা করা হবে। ‘প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত বিশেষ অগ্রিম ও গাড়িসেবা নগদায়ন নীতিমালা’র আওতায় নেওয়া ঋণ মওকুফের বিষয়টি নতুন এই নীতিমালার আওতায় বিবেচিত হবে না।

জারি করা পরিপত্রে বলা হয়েছে, ঋণগ্রহীতা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে অথবা অক্ষমতাজনিত কারণে অবসর গ্রহণ করলে তাঁর নেওয়া ঋণের অপরিশোধিত আসল ও সুদ মওকুফের বিষয় বিবেচনাযোগ্য হবে। এ ক্ষেত্রে অবসর-উত্তর ছুটিকালও (পিআরএল) চাকরিকাল হিসেবে গণ্য হবে। তবে ঋণ গ্রহণকারী তাঁর প্রাপ্য গ্র্যাচুইটি মৃত্যুর আগে নিষ্পত্তি করে থাকলে তাঁদের ক্ষেত্রে মওকুফের প্রস্তাব বিবেচনাযোগ্য হবে না।

চাকরিরত অবস্থায় কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়দেনাগ্রস্ত নিঃস্ব পরিবার-পরিজন রেখে মৃত্যুবরণ করলে বা অক্ষমতাজনিত কারণে অবসরে গেলে তাঁদের ক্ষেত্রে প্রাপ্য সরকারি সুবিধাদি বিবেচনায় নিয়ে আসল ও সুদ মওকুফ করা হবে। তবে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর গ্র্যাচুইটি মোট ১২ লাখ টাকা বা এর বেশি হলে তাঁদের আসল ও সুদ মওকুফ হবে না।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, অপরিশোধিত ঋণের পরিমাণ অবসরজনিত এককালীন পাওনা অর্থের অর্ধেক বা বেশি হলে (বেতনের পেনশনযোগ্য অর্থের ৫০ ভাগ) মৃত বা অক্ষম ব্যক্তির পরিবারের সদস্যসংখ্যা, ছেলেমেয়েদের বয়স, লেখাপড়া ও আর্থিক অবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে আসল মওকুফের সুপারিশ করবে কমিটি।

দুস্থ-অসহায় পরিবার পরিজন রেখে চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী বা অক্ষমতাজনিত কারণে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীর ক্ষেত্রে অপরিশোধিত সুদের সম্পূর্ণ অংশ মওকুফের বিষয় বিবেচনাযোগ্য হবে।

ঋণ মওকুফ পেতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অর্থ বিভাগের নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। আবেদনে অধিদপ্তর, পরিদপ্তরের ক্ষেত্রে বিভাগীয় প্রধান এবং মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ক্ষেত্রে সিনিয়র সচিব বা সচিবের সুস্পষ্ট সুপারিশ থাকতে হবে। এককালীন প্রাপ্য গ্র্যাচুইটি পরিশোধ করা হয়েছে কি না, তা ওই ফরমের নির্ধারিত স্থানে সুস্পষ্টভাবে অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে।

ঋণের আসল ও সুদ মওকুফের বিষয়ে সুপারিশ করার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে (প্রশাসন ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণ) সভাপতি করে আট সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি প্রতি মাসে একটি সভা করে পরিপত্র অনুযায়ী প্রস্তাবগুলো বিবেচনায় নিয়ে ঋণের আসল ও সুদ মওকুফের বিষয়ে সুপারিশ করবে।


মন্তব্য