kalerkantho

রবিবার । ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ । ৭ ফাল্গুন ১৪২৩। ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এখনই আইন করা ও ই-ভোটিংয়ের প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



এখনই আইন করা ও ই-ভোটিংয়ের প্রস্তাব

নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদল গতকাল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে বৈঠক করে। ছবি : পিআইডি

নির্বাচন কমিশন গঠনে সম্ভব হলে এখনই আইন প্রণয়ন অথবা অধ্যাদেশ জারির প্রস্তাব দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তবে সময়স্বল্পতায় যদি এবার আইন করা বা অধ্যাদেশ জারি সম্ভব না হয়, তাহলে পরেরবার সে উদ্যোগ গ্রহণের জন্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকে অনুরোধ জানিয়েছে দলটি। গতকাল বুধবার বিকেলে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা আগামী নির্বাচনে ই-ভোটিংয়ের প্রস্তাবও দিয়েছেন। সংলাপ শেষে সন্ধ্যায় ধানমণ্ডিতে দলের সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

ওবায়দুল কাদের জানান, নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির কাছে চার দফা প্রস্তাব দিয়েছে আওয়ামী লীগ। প্রথম প্রস্তাব হলো, রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ১১৮ নম্বর অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য কমিশনার নিয়োগ দেবেন। দ্বিতীয় প্রস্তাব হলো, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি যে প্রক্রিয়া উপযুক্ত বিবেচনা করবেন তাই করবেন। তৃতীয় দফায় বলা হয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য সম্ভব হলে এখনই উপযুক্ত আইন প্রণয়ন বা অধ্যাদেশ জারি করা যেতে পারে। সময়স্বল্পতার কারণে এবার যদি তা সম্ভব না হয় সে ক্ষেত্রে পরবর্তী নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের সময় যাতে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়, সংবিধানের নির্দেশনার আলোকে এখন থেকে সেই উদ্যোগ গ্রহণ করা।

চুতর্থ প্রস্তাবনায় বলা হয়, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য বর্তমানে বিরাজমান সব বিধিবিধানের সঙ্গে জনমানুষের ভোটাধিকার আরো সুনিশ্চিত করার স্বার্থে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ই-ভোটিং’ ব্যবস্থা  প্রবর্তন করা।

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির উদ্যোগের প্রতি সমর্থন থাকবে আওয়ামী লীগের। আমাদের কোনো প্রস্তাব যদি রাষ্ট্রপতি গ্রহণ না করে অন্য দলের প্রস্তাব অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠন করেন তাতে আমাদের আপত্তি নেই। ’

আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো জানায়, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে রাষ্ট্রপতিকে চার দফা প্রস্তাব দেওয়া হলেও একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে বেশ কিছু বিষয়ের গুরুত্ব রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে আছে,  একটি স্বাধীন ও কার্যকর নির্বাচন কমিশন; নির্বাচনকালীন নির্বাহী বিভাগের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় অথবা সংস্থার দায়িত্বশীলতা; নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও এর মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষ আচরণ; ছবিযুক্ত নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও ভোটগ্রহণের দিন নির্বাচনকেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা; নির্বাচন পরিচালনায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পরিবর্তে শুধু প্রজাতন্ত্রের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্য থেকে প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার নিয়োগ দেওয়া।

এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিযুক্ত সদস্যদের নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল আচরণ; দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক থেকে শুরু করে গণমাধ্যম ও সুধীসমাজের সদস্যদের নির্মোহ তত্পরতা; নির্বাচনের আগে-পরে এবং নির্বাচনের দিন ভোটারসহ সর্বসাধারণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; নির্বাচনে পেশিশক্তি ও অর্থের প্রয়োগ বন্ধ ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুসহ সব পর্যায়ের ভোটারদের অবাধ ভোটদানের সুযোগ নিশ্চিত করা; নির্বাচনকালে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ নির্বাচন পরিচালনার জন্য আবশ্যকীয় সব সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন কমিশনের অধীনে ন্যস্ত করা; নির্বাচনকালীন সরকারের কার্যক্রম কেবল আবশ্যকীয় দৈনন্দিন কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার গুরুত্বও রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেছে আওয়ামী লীগ।

বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেসসচিব জয়নাল আবেদীন সাংবাদিকদের জানান, রাষ্ট্রপতি আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন গুরুত্বপূর্ণ। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা দরকার। আর সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতায় শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভবিষ্যতে কোনো বিতর্কিত নির্বাচন চান না বলে রাষ্ট্রপতিকে জানিয়েছেন। জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে বলেছেন, ভবিষ্যতে নির্বাচন নিয়ে কোনো বিতর্ক হোক এটা তিনি চান না। জনগণ যাদের চাইবে, তারাই নির্বাচিত হয়ে সরকার পরিচালনা করবে। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির নেওয়া যেকোনো ন্যায়সংগত উদ্যোগের প্রতি আওয়ামী লীগের পরিপূর্ণ সমর্থন থাকবে বলেও সংলাপে জানান প্রধানমন্ত্রী। ’

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের প্রতিনিধিদলটি বিকেল সাড়ে ৪টার কিছু পরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে বসে। প্রতিনিধিদলে ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, আবুল মাল আবদুল মুহিত, এইচ টি ইমাম, ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ও মোহাম্মদ জমির, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, সাহারা খাতুন ও সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি ও জাহাঙ্গীর কবির নানক, আইনবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মতিন খসরু, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, দপ্তর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। সংলাপের সময়ে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল সারোয়ার হোসেন ও প্রেসসচিব জয়নাল আবেদীন উপস্থিত ছিলেন। প্রায় দেড় ঘণ্টার সংলাপ শেষে বিকেল সাড়ে ৫টার কিছু পরে বঙ্গভবন থেকে বেরিয়ে আসেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। এ সময় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বঙ্গভবনের গেটে সাংবাদিকদের জানান, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন গঠনে এখন পর্যন্ত ২৩টি দলের সঙ্গে সংলাপ করেছেন রাষ্ট্রপতি। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর সংসদের বাইরে থাকা বিএনপির সঙ্গে আলোচনার মধ্যে দিয়ে এ সংলাপ শুরু হয়। আগামী সপ্তাহে আরো কয়েকটি দলের সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে চলা এ বৈঠক শেষ হবে বলে বঙ্গভবনের সূত্রগুলো জানিয়েছে।


মন্তব্য