kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নৈশভোজেও হিলারি-ট্রাম্প বাক্যবাণ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



নৈশভোজেও হিলারি-ট্রাম্প বাক্যবাণ

তৃতীয় বিতর্কের পর গতকাল নৈশভোজের বক্তব্যেও কাদা ছোড়াছুড়িতে মেতে ওঠেন হিলারি ও ট্রাম্প। একপর্যায়ে টেবিলে তাঁরা ছবি : এএফপি

ঐতিহ্য ভেঙে একটি দাতব্য নৈশভোজেও পরস্পরকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রধান দুই প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প।

‘আল. স্মিথ ডিনার’ নামে পরিচিত এ নৈশভোজের ঐতিহ্য হলো এতে প্রার্থীরা পরস্পরের প্রতি রসিকতা করে পরিবেশকে আনন্দময় করে তোলেন।

কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এ অনুষ্ঠানেও শেষ প্রেসিডেনশিয়াল বিতর্কের উত্তাপ বজায় থাকল। বিতর্কের মতো এখানেও পরাজয় ঘটেছে ট্রাম্পের। ব্যক্তিগত আক্রমণে কঠোর ভাষা প্রয়োগের কারণে উপস্থিত দর্শকদের নিন্দা কুড়াতে হয় তাঁকে।

দরিদ্র শিশুদের সাহায্যে অর্থ সংগ্রহের জন্য প্রতিবছর অক্টোবরের তৃতীয় বৃহস্পতিবার আয়োজন করা হয় আলফ্রেড ই স্মিথ মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন ডিনার, যা ‘আল স্মিথ ডিনার’ হিসেবে পরিচিত। এ নৈশভোজ ক্যাথলিক চ্যারিটি ডিনার হিসেবেও পরিচিত। নিউ ইয়র্কের ওয়ালডর্ফ অ্যাস্টোরিয়া হোটেলে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে থাকেন নিউ ইয়র্কের আর্চবিশপ কার্ডিনাল টিমোথি ডোলান। নৈশভোজটি ‘সাদা টাই উৎসব’ হিসেবেও পরিচিত।

প্রতিবছর এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলেও ঐতিহ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তৃতীয় বা শেষ বিতর্কের পর প্রার্থীরা এ নৈশভোজে অংশ নেন। ফলে এটিকে নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের শেষ সাক্ষাতের অনুষ্ঠানও বলা হয়।

গত বুধবার লাস ভেগাসে শেষ বিতর্কে অংশ নিয়ে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে ‘জঘন্য নারী’ বলে আখ্যায়িত করেন। সেদিন দুজনই পরস্পরের বক্তব্যে বাধার সৃষ্টির করেন। বিতর্কের শেষে তাঁরা করমর্দন করা থেকেও বিরত থাকেন।

এর এক দিন পরই বৃহস্পতিবার রাতে আল স্মিথ ডিনারে দুজন হাজির হন। মাত্র একটি আসন মাঝে রেখে পরস্পরের কাছে বসার কারণে দুজনের দূরত্বও কমে আসে। তাঁদের মাঝে বসেছিলেন কার্ডিনাল টিমোথি ডোলান। কিন্তু এই নৈকট্যও পরস্পরকে কাছে টানতে পারেনি। পরস্পরকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেন এবং করমর্দন করতেও অনীহা প্রকাশ করেন।

নৈশভোজে বক্তব্য দিতে গিয়ে শুরুটা ভালোই করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রথাগতভাবেই তিনি হিলারিকে নিয়ে কৌতুক করছিলেন। কিন্তু হিলারিকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করতে গিয়ে পরিবেশের অবনতি ঘটে।

ট্রাম্প মজা করে বলেন, অনুষ্ঠানে আসা প্রায় দেড় হাজার দর্শকই এখন পর্যন্ত হিলারির সর্বোচ্চ সমর্থক। আর তারা এসেছে তাঁর ওয়াল স্ট্রিট কানেকশন (ট্রাম্পের ভাষায় করপোরেট এস্টাবলিশমেন্ট গ্রুপ) থেকে। ট্রাম্প বলেন, এটি হিলারির জন্য স্বভাবসিদ্ধ ঘটনা। কারণ অনেক করপোরেট নেতা তাঁর সঙ্গে আছেন। ট্রাম্পের বক্তব্য এ পর্যন্ত ঠিকই ছিল। কিন্তু ট্রাম্প যখন বলে ওঠেন, হিলারির দুর্নীতিপরায়ণ এবং ওয়াটারগেট কমিশন নেওয়ার জন্য তাঁকে লাথি খেতে হবে, তখনই দর্শক সারি থেকে ট্রাম্পের উদ্দেশে বিদ্রূপ শুরু হয়।

হিলারিকে খোঁচা দিতে গিয়ে একপর্যায়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আসলেই নিশ্চিত ছিলাম না, হিলারি আজ রাতে এখানে আসতে যাচ্ছেন কি না। আমার ধারণা ছিল, আপনি (কার্ডিনাল) তাকে ই-মেইলে দাওয়াত পাঠাননি। অথবা তিনি ই-মেইলটি পেয়েছিলেন উইকিলিকসের মাধ্যমে। ’ এ সময় তিনি হিলারির ই-মেইল বিতর্ক এবং উইকিলিকসে তা ফাঁস হওয়া নিয়ে কটু মন্তব্য করেন। তখন দর্শক সারি থেকে ট্রাম্পকে বিদ্রূপ করতে শোনা যায়। এ সময় ট্রাম্প বলেন, ‘ঠিক আছে। আমি  জানি না, কারা এতে ক্ষুব্ধ হচ্ছে। ’

পরে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে হিলারি আরো সরাসরি ব্যক্তিগত আক্রমণে যান, যেখানে মৃদু ভাষার ব্যবহার করাই হলো প্রথা। কিন্তু ট্রাম্পের স্ত্রীর উপস্থিতিতে হিলারি বলে ওঠেন, ‘ডোনাল্ডের দৃষ্টি স্ট্যাচু অব লিবার্টির দিকে। যদি স্ট্যাচু অব লিবার্টির মশাল হারিয়ে যায় এবং চুলের পরিবর্তন হয়, তাহলে ট্রাম্প চার বা পাঁচটি মূর্তি দেখতে পাবেন। ’ এ সময় হিলারি তাঁর নিজের ব্যক্তিত্ব নিয়েও রসিকতা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি জানি, আমার রসবোধ কম। কিন্তু এ কারণেই রসিকতা (জোকস) লেখার জন্য একটি গ্রামকে এনে হাজির করেছি। ’ এভাবে বেশ কিছু বিষয়ে নিয়ে পরস্পরকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেন হিলারি ক্লিনটন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে  বিদায়ের আগে তাঁরা পরস্পরের সঙ্গে হাত মেলান। সূত্র : বিবিসি, সিএনএন।


মন্তব্য