kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জামায়াতের নতুন আমিরের ‘যুদ্ধাপরাধ’ অনুসন্ধান

বিবিসি বাংলা   

২১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



জামায়াতের নতুন আমিরের ‘যুদ্ধাপরাধ’ অনুসন্ধান

জামায়াতে ইসলামীর আমির হিসেবে শপথ নেওয়ার চার দিনের মাথায় মকবুল আহমাদের ‘যুদ্ধাপরাধ’ অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। অনুসন্ধানের জন্য গত বুধবার একজন কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে।

ছয় বছর ভারপ্রাপ্ত আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর গত সোমবার দলের পূর্ণকালীন নেতা হিসেবে শপথ নেন মকবুল আহমাদ। পরদিনই দু-একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে খবর বের হয়, মকবুল আহমাদ ১৯৭১ সালে ফেনী ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিলেন। ওই সংবাদের সূত্র ধরেই এখন তাঁর সেই কথিত যুদ্ধাপরাধ অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রধান আব্দুল হান্নান খান বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, একটি অনলাইন খবরে মকবুল আহমাদের বিরুদ্ধে দুটি সুনির্দিষ্ট অপরাধের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে এবং তার সত্যতা তাঁরা অনুসন্ধান করবেন। হান্নান খান জানান, অনুসন্ধানের জন্য বুধবার একজন কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা বেরিয়ে আসে, যদি যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়, তখন মামলা করে তদন্ত করা হবে। ’

তবে একই সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রধান বলেন, ‘সে (মকবুল আহমাদ) যে রাজাকার ছিল, সেটা ওই এলাকার তালিকায় রয়েছে। এটা ঠিক। ’

ছয় বছর ভারপ্রাপ্ত আমির থাকলেও এখন কেন মকবুল আহমাদের বিরুদ্ধে এই অনুসন্ধান—বিবিসির এই প্রশ্নে আবদুল হান্নান খান বলেন, ‘এত দিন আমাদের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত ছিল না। এখন অন্তত দুটি সুনির্দিষ্ট ঘটনার অভিযোগ করা হচ্ছে। ’ তিনি বলেন, আইনে তাদের এ ধরনের অনুসন্ধান করার অধিকার দেওয়া হয়েছে। হান্নান খান বলেন, ‘কারো মুখে কিছু শুনলেও আমরা তদন্ত করতে পারি। ’

মকবুল আহমাদের ‘যুদ্ধাপরাধ’ অনুসন্ধানের এই উদ্যোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলের ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ছয় বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত আমির থাকাকালে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ছিল না। এখন শপথ নেওয়ার পরপরই এই অভিযোগ। জামায়াত বলছে, দলের বিরুদ্ধে সরকারের ‘ষড়যন্ত্রের’ অংশ হিসেবে এই অনুসন্ধান।


মন্তব্য