kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ইয়াবাপাচার মামলা

জাল নথি দিয়ে জামিনে মুক্তির চেষ্টা

আশরাফ-উল-আলম   

২১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



জাল নথি দিয়ে জামিনে মুক্তির চেষ্টা

পুলিশের অভিযানে এক মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছিল। কিন্তু মাত্র ১০০ পিস ধরা পড়ার কথা বলে হাইকোর্ট থেকে জামিন আদেশ পান তিনি।

জামিননামা সিএমএম আদালতে দাখিল করার সময় জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। শেষ পর্যন্ত তাঁর মুক্তির চেষ্টা ভেস্তে যায়।

ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালত সূত্র জানায়, ওই মাদক ব্যবসায়ীর নাম আল আমিন ওরফে আকাশ মোল্লা ওরফে মাদকসম্রাট আল আমিন ওরফে নাইন শুটার আল আমিন। মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার খড়িয়া গ্রামের মৃত আজিজ মোল্লা ওরফে খালেক মোল্লার ছেলে তিনি। রাজধানীর ওয়ারীর র‌্যাংকিন স্ট্রিটের গোপী কিষাণ লেনের র‌্যাংগস অনামিকা ভবনে থাকেন। তিনি বেশ কয়েকটি অস্ত্র ও হত্যা মামলার আসামি। ওই সব মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন  পেয়েছেন তিনি।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য (দক্ষিণ) বিভাগের সদস্যরা গত ২১ ডিসেম্বর যাত্রাবাড়ী পুলিশ বক্সের কাছে অভিযান চালানোর সময় একটি পিকআপ ভ্যান আটক করেন। আল আমিন ও তাঁর সহযোগী রাসেল, ইউনুছ ও জাকির ওই গাড়িতে ছিলেন। চালক শফিক উল্লাহ ও সহকারী রওশন আলীকেও আটক করে পুলিশ। আল আমিনের হাতে থাকা একটি শপিং ব্যাগ থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। অন্যদের কাছেও ইয়াবা ছিল। মোট ৫০ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

ঘটনাস্থলেই পুলিশ একটি জব্দ তালিকা তৈরি করে। পরদিন আটক ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। তাঁরা জামিনের আবেদন করেন। আবেদন নামঞ্জুর হয়। এরপর বেশ কয়েকবার ঢাকার সিএমএম আদালতে জামিন চেয়ে ব্যর্থ হন তাঁরা। গত ২১ মার্চ আল আমিন ও অন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। পরে বিচারের জন্য নথি ঢাকার বিশেষ জজ-৪-এর আদালতে পাঠানো হয়।

এরপর আল আমিনের পক্ষে হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করা হয়। আসামিকে কেন জামিন দেওয়া হবে না, জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়। গত ২৯ আগস্ট বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ আসামিকে জামিন দিয়ে সিএমএম আদালতে আদেশের কপি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

জাল নথি দিয়ে জামিন নেওয়া হয় : মামলার এজাহার, জব্দ তালিকা, চার্জশিট ও অন্যান্য নথি অনুযায়ী আল আমিনের কাছ থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। কিন্তু হাইকোর্টে জাল নথি দাখিল করে দেখানো হয়, মাত্র ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। নথিতে আল আমিনকে ৪ নম্বর আসামি উল্লেখ করা হয়। অথচ তিনি ১ নম্বর আসামি। মামলার নথিতে মোট ৫০ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের কথা বলা হলেও হাইকোর্টে দেওয়া নথিতে মোট এক হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের কথা বলা হয়।

যেভাবে বিষয়টি ধরা পড়ে : গত ৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের আদেশের কপি সিএমএম আদালতে যায়। ৮ সেপ্টেম্বর আসামির পক্ষে জামিননামা দাখিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়। পরে সিএমএম আদালতের জুডিশিয়াল পেশকার ওমর ফারুক মামলার নথি যাচাই করে দেখতে পান, এজাহারে ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের কথা বলা হলেও হাইকোর্টের আদেশে ১০০ পিসের কথা রয়েছে। এ ব্যাপারে অবগত হয়ে সিএমএম শেখ হাফিজুর রহমান জামিননামা দাখিলের কার্যক্রম স্থগিত করেন এবং তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তে দেখা যায়, চার্জশিটের কপিতে জালিয়াতি করে হাইকোর্টকে ভুল বুঝিয়ে জামিন নেওয়া হয়েছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর সিএমএম চিঠি দিয়ে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। হাইকোর্ট এ ব্যাপারে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন।

পেশকার ওমর ফারুক বলেন, ‘জামিননামা দাখিলের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। হাইকোর্ট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। আপাতত আসামি মুক্তি পাচ্ছেন না। ’ তিনি বলেন, জামিননামা দাখিল করতে পারলে আসামি ওই দিনই মুক্তি পেয়ে যেতেন।

 


মন্তব্য