kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ঢাকা সয়লাব ইয়াবায়

এস এম আজাদ   

২১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ঢাকা সয়লাব ইয়াবায়

কক্সবাজারের টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়ার নৌপথে মাছ ধরার নৌকায় করে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালান দেশে ঢুকছে। এরপর তা চলে যাচ্ছে চট্টগ্রামের আনোয়ারার মাজার গেট, খোর্দ্দা গহিরাসহ কয়েকটি এলাকায়।

ডিলাররা ঢাকার ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও ট্রাকে এসব চালান ঢাকায় পাঠায়। কক্সবাজারের ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মিলে আনোয়ারার অন্তত ১০ জন এ অপকর্মে জড়িত। তাদের অন্যতম শাহ আজম। অন্যরা হলো আবু, শেখ মোহাম্মদ, মোহাম্মদ হাসান, বাবু, ইউসুফ কালা মুন ও ডবল্যা। গত দুই মাসে রাজধানীতে ১১ লাখ ইয়াবাসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের কর্মকর্তারা এসব তথ্য পেয়েছেন। সর্বশেষ গত সোমবার রাতে যাত্রাবাড়ীর কাজলা থেকে ছয় লাখ ইয়াবা উদ্ধার ও চার যুবককে গ্রেপ্তার করে সিটিটিসি। তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এর আগে খায়রুল আমিন নামে একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

সিটিটিসি কর্মকর্তারা বলেন, রাজধানীর চাহিদা মিটিয়ে দেশের উত্তরাঞ্চলেও ইয়াবা পাঠাচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীরা। আগে রাজধানীতে এক চালানে কয়েক হাজার ইয়াবা আসত। এখন আসছে লাখে লাখে। যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, চিটাগাং রোড, খিলক্ষেত-বিশ্বরোড, সাভার-আশুলিয়া, কেরানীগঞ্জ, উত্তরা-টঙ্গী ও রামপুরায় চালান বেশি হাতবদল হচ্ছে।

সিটিটিসি ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘বড় চালানগুলো মিয়ানমার সীমান্ত থেকে নিজস্ব সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আনছে কারবারিরা। তাদের কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। ’

সিটিটিসির আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘লাখে লাখে ইয়াবা আসার খবর পেয়ে বিশেষ সোর্স নিয়োগ ও অনুসন্ধান শুরু হয়। চালানগুলো মিয়ানমার সীমান্ত থেকে কয়েকটি এলাকা দিয়ে ঢোকে। এরপর চলে যায় চট্টগ্রামে। আনোয়ারার একটি চক্র বড় ধরনের চালানগুলো পাঠাচ্ছে। ’

গত ৪ আগস্ট রাতে খিলক্ষেতে দুই লাখ ইয়াবাসহ একটি মাইক্রোবাস জব্দ করে সিটিটিসি ইউনিট পুলিশ। এ সময় সাইফুল ইসলাম ওরফে কামাল, আলাউদ্দিন ও ইব্রাহিম হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৮ আগস্ট সবুজবাগে আরেক অভিযানে ধরা পরে তিন লাখ ইয়াবা। গ্রেপ্তার হয় সালাহ উদ্দিন, জাকির ও খায়রুল আমিন। প্রাইভেট কারে আসে ওই চালান। গাড়িচালক খায়রুল আমিন ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে ইয়াবার গডফাদার শাহ আজমের নাম জানায়। কক্সবাজারের মহেশখালীর বাসিন্দা খায়রুল আরো জানায়, তারা উত্তরা, গুলশান ও বনানীতে মাদক সরবরাহ করত। গ্রেপ্তারের আগেও দু-তিন লাখ ইয়াবার তিনটি চালান তারা নিয়ে আসে। আগের চালানগুলোও শাহ আজম পাঠায়। মিয়ানমার থেকে নৌপথে ফিশিং বোটে করে চালান ডাঙায় আসে। এরপর মহেশখালী, কুতুবদিয়া, টেকনাফ হয়ে চট্টগ্রামে যায়। আনোয়ারা উপজেলা থেকেই বেশি চালান এখন ঢাকায় আসছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, চালানগুলো পরিবহনের সময় এখন ‘কেমিক্যাল’ নামে ডাকা হয়। আর বিক্রি করা হয় ‘বাবা’ নামে। ঢাকায় প্রতি পিস ইয়াবা ২০০ থেকে ৩০০ টাকা দামে সরবরাহ করে তারা। আর প্রতি পিস ইয়াবা পরিবহনের জন্য গাড়িচালক পায় ১০ টাকা। ইয়াবার টাকা এখন হুন্ডির মাধ্যমে মিয়ানমার সীমান্তের ব্যবসায়ীদের কাছে পাঠানো হচ্ছে। ঢাকায় চালান আসার পর তার কিছু অংশ উত্তরাঞ্চলের সীমান্তে চলে যাচ্ছে।

সর্বশেষ গত সোমবার রাতে যাত্রাবাড়ীর কাজলা থেকে ছয় লাখ ইয়াবা ও একটি পিকআপ জব্দ এবং চার যুবকে গ্রেপ্তার করে সিটিটিসি। মুক্তার হোসেন, মিজানুর রহমান বাবু, সোহেল আহম্মেদ ও জনি নামের এই চারজন দীর্ঘদিন ধরে এ কাজে জড়িত বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। এটি এখন পর্যন্ত রাজধানীতে উদ্ধার হওয়া সবচেয়ে বড় ইয়াবা চালান।


মন্তব্য