kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিপুল ইয়াবা ও টাকার বস্তা উদ্ধার নিয়ে রহস্য

এস এম রানা, চট্টগ্রাম   

২০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



বিপুল ইয়াবা ও টাকার বস্তা উদ্ধার নিয়ে রহস্য

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে লাখ লাখ ইয়াবা ও টাকার বস্তা উদ্ধার অভিযান ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত ৯ অক্টোবরের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে চার দফায় আনোয়ারার খোর্দ্দ গহিরাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও টাকার বস্তা উদ্ধারের তথ্য প্রচারিত হয় এলাকায়।

অথচ ৯ দিন পরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো ইউনিট এ ধরনের অভিযানের খবর জানায়নি। একই সঙ্গে অভিযানকালে আটক এক নারীর হদিসও মিলছে না। ওই নারীর পরিবারও থানায় অভিযোগ করেনি। ফলে পুরো বিষয়টি নিয়েই রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছে, আনোয়ারা উপজেলার মাজার গেট থেকে ৯ অক্টোবর বিকেলে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে অভিযান চালিয়ে আলমগীর ওরফে ডবল্যা নামের এক ইয়াবা কারবারিকে আটক করা হয়। তাঁর কাছ থেকে ৩০ কাট (প্রতি কাটে ১০ হাজার হিসাবে তিন লাখ) ইয়াবা উদ্ধারের তথ্য স্থানীয় লোকজন শুনেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৩ অক্টোবর খোর্দ্দ গহিরা গ্রামের আবু ছালাম আবু প্রকাশ ছোট আবুর বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। ওই সময় আবুর ছোট বোন রনি আক্তার অভিযানকারী দলকে গালাগাল করায় তাঁকেও আটক করা হয়। পরদিন ১৪ অক্টোবর রাতে মোহাম্মদ আলী, হাসান ও বাবুর বাড়ি এবং স মিলে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও টাকার বস্তা জব্দ করা হয়।

স্থানীয় সূত্র আরো জানায়, আবু, শেখ মোহাম্মদ, মোহাম্মদ হাসান ও বাবু—এই চারজন একটি ইয়াবাচক্রের সদস্য। অন্য চক্রের নেতৃত্বে আছেন ইউসুফ কালা মুন। তাঁর সঙ্গী ডবল্ল্যা। ধারাবাহিক অভিযানের সময় আবু, কালা মুন, হাসান, শেখ মোহাম্মদরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেলেও এখন তাঁদের এলাকায় দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় লোকজনের দেওয়া তথ্যের মিল পাওয়া যায় র‌্যাবের তালিকায়।

আটক রনি আক্তারের স্বামী জাহেদুল ইসলামের বাড়ি একই উপজেলার কাফকো সেন্টারে। তবে তাঁর খোঁজ চেয়ে পরিবার থানায় কোনো অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি করেনি।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার নূরে-ই আলম মিনা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আনোয়ারা থানার পুলিশ কিংবা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ এ ধরনের কোনো অভিযান চালায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্য কোনো ইউনিট অভিযান চালিয়েছে কি না তা আমি জানি না। ’ একই বিষয়ে র‌্যাব-৭-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতা উদ্দিন আহমেদ বলেন, আনোয়ারা ও বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী এলাকা থেকে র‌্যাব এ পর্যন্ত ৪২ লাখ ইয়াবা উদ্ধার করেছে। কিন্তু গত এক সপ্তাহে ইয়াবার বড় চালান কিংবা টাকার বস্তা জব্দ করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘আনোয়ারায় ইয়াবা ও টাকার বস্তা জব্দ হয়েছে কি না জানতে আমাকে আরো কয়েকজন সাংবাদিক ফোন করেছিলেন। আমি তাঁদেরও একই কথা বলেছি। ’ কোস্ট গার্ড পূর্ব জোনের কমান্ডার এম শহিদুল ইসলাম বলেন, কোস্ট গার্ড এক সপ্তাহে কোনো ইয়াবা চালান বা টাকার বস্তা জব্দ করেনি। এ সময়ের মধ্যে ১৬ হাজার ইয়াবা উদ্ধারের একটি অভিযান আছে, যা গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছে।

‘রহস্যময়’ অভিযানের বিষয়টি জানার পর পুলিশ সুপার নূরে-ই আলম মিনা সরেজমিন অনুসন্ধানের জন্য ঘটনাস্থলে পাঠান দক্ষিণ জেলা পুলিশ সুপার এ কে এম এমরান ভূঁইয়াকে। তিনি গতকাল এলাকায় খোঁজখবর নিয়েছেন। তবে কালের কণ্ঠের প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। নিখোঁজ রনি আক্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রনি আক্তার কোথায় আছেন এখনো জানা যায়নি। তবে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে আনোয়ারা থানা এলাকায় ইয়াবা ও টাকার বস্তা জব্দের ঘটনা ঘটেছে কি না জানতে চাইলে আনোয়ারা থানার ওসি দুলাল মাহমুদ বলেন, ‘এ ধরনের তথ্য আমরাও শুনেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। ’ রনি আক্তার বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁর পরিবারের কেউ থানায় অভিযোগ কিংবা সাধারণ ডায়েরি করেনি।


মন্তব্য