kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জনমতের পাল্লা ভারী ডেমোক্র্যাটদের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



জনমতের পাল্লা ভারী ডেমোক্র্যাটদের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর মাত্র ১৭ দিন হাতে রেখে শেষবারের মতো বিতর্কের মঞ্চে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ও রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের এবারের পরিস্থিতিও দ্বিতীয় বিতর্কের মতোই নাজুক ও নড়বড়ে।

টিকে আছেন তিনি। তবে ভিডিওর কথোপকথন এবং নানা যৌন কেলেঙ্কারির ধাক্কা সামলে উঠতে পারেননি, যার স্পষ্ট ছাপ পড়ছে জরিপগুলোতে। প্রতিদিনই পিছিয়ে পড়ছেন তিনি।

অন্যদিকে হিলারি আছেন আগের অবস্থানেই। বিতর্ককে সামনে রেখে পাঁচ দিন ধরে প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি। কোনো নির্বাচনী জনসভায়ও যোগ দেননি। যেন ট্রাম্পের প্রচারের জন্য পুরো মাঠ ফাঁকা করে দিয়েছিলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচারমাধ্যমের ধারণা, মুখ খুললেই ট্রাম্প যা বলবেন তাতে তাঁর জনপ্রিয়তায় আঁচ পড়বে—মূলত এ আশা থেকেই হিলারি ‘চুপ’ থেকে ট্রাম্পকে কথা বলার সুযোগ করে দিলেন। কয়েক দিন ধরে প্রচারের মাঠে একাই দাপিয়ে বেড়িয়েছেন ট্রাম্প।

নেভাডা অঙ্গরাজ্যের লাস ভেগাস শহরে ইউনিভার্সিটি অব নেভাডায় যুক্তরাষ্ট্র সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় (বাংলাদেশ সময় আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা) বিতর্ক শুরু হবে। ৯০ মিনিটের এই বিতর্কের বিষয় যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ ও নাগরিক অধিকার, অভিবাসন, অর্থনীতি, সুপ্রিম কোর্ট, পররাষ্ট্রনীতি এবং প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর সক্ষমতা। প্রতিটি বিষয়ের জন্য ১৫ মিনিট সময় বরাদ্দ। বিতর্কটি সঞ্চালনা করবেন ফক্স নিউজের রাজনৈতিক প্রতিবেদক ক্রিস ওয়ালেস। রিপাবলিকানদের পক্ষ থেকে অবশ্য বিতর্ক শুরুর আগেই ক্রিসের বিরুদ্ধে হিলারির পক্ষ টানার অভিযোগ উঠেছে।

প্রচারের ক্ষেত্রে ট্রাম্প অবশ্য তাঁর শিবির থেকে মোটামুটি একাই লড়ে চলেছেন। ভিডিও প্রকাশের পর থেকেই রিপাবলিকান পার্টির বহু নেতা ট্রাম্পকে সমর্থন বন্ধ করেছেন। আবার হাউস স্পিকার পল রায়ান ও সিনেটর জন কেইনের মতো জ্যেষ্ঠ নেতা তাঁকে ছেড়ে না গেলেও একেবারে দর্শকের ভূমিকা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিভিন্ন সময় তাঁদের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। তবে সে ক্ষেত্রেও তাঁরা নীরব ভূমিকাই পালন করেছেন। প্রতিক্রিয়া দেখাননি। ফলে ট্রাম্প এখন লড়ছেন তাঁদের বিরুদ্ধে, পুরো গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে (তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সব গণমাধ্যমই হিলারিকে জয়ী করার যুদ্ধে নেমেছে), নির্বাচন-প্রক্রিয়া যাঁরা পরিচালনা করেন তাঁদের বিরুদ্ধে। গত দুই সপ্তাহে হিলারির প্রচার বা যোগ্যতা-অযোগ্যতার চেয়ে এ বিষয়গুলোই বরং তাঁকে বেশি ভুগিয়েছে।

আর এসব ভোগান্তি সামাল দিতেই দিন পার হয়ে যাচ্ছে ট্রাম্পের। মূল প্রচার মনোযোগ হারাচ্ছে। যেমন ধরা যাক, অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের কথা। ডেমোক্র্যাটরা সেখানে জয় পেতে মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালাচ্ছে। জরিপ বলছে, ধীরে হলেও জনমত ডেমোক্র্যাটদের দিকে হেলে পড়ছে। অথচ এই অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকানদের সমর্থক বেশি। কয়েক মাস আগেই কল্পনা করা যেত না যে এখানে দাঁত বসাতে পারবে ডেমোক্র্যাটরা।

ট্রাম্প এখন যদি একেবারে ঘুরে দাঁড়াতে চান তাহলে বিস্ময়কর কোনো ঘটনা ঘটাতে হবে। বাইরে থেকে বিশেষ কিছুর আশায় আছেন তিনি। যেমন—উইকিলিকস এমন কোনো তথ্য হিলারির বিরুদ্ধে প্রকাশ করবে যে ভোটাররা হকচকিয়ে যাবে। তবে এত বড় কোনো খুশির খবর বিকল্প ধারার এই গণমাধ্যম দিতে পারবে বলে মনে করেন না এর প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জও।

ট্রাম্পকে ওবামা—‘নাকি কান্না’ বন্ধ করুন : যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন পদ্ধতি দুর্নীতিপূর্ণ বলে ট্রাম্প যে অভিযোগ করেছেন তা প্রত্যাখ্যান করে তাঁকে ‘নাকি কান্না’ বন্ধ করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট মনে করেন, এ নিয়ে সময় নষ্ট করার চেয়ে ট্রাম্পের উচিত নির্বাচনের প্রচারের দিকে মন দেওয়া।

হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র সফররত ইতালির প্রধানমন্ত্রী মাত্তিও রেনজির সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের অভিযোগ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবামা এসব কথা বলেন।

নির্বাচনী জরিপে ক্রমেই হিলারির চেয়ে পিছিয়ে পড়তে শুরু করলে এই অভিযোগ সামনে নিয়ে আসেন ট্রাম্প এবং রোজই তাঁর এই অভিযোগ জোরালো হচ্ছে। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে কোনো তথ্য-প্রমাণ জোগাড় করতে পারেননি তিনি। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনে কারচুপি বিরল ঘটনা।

সর্বশেষ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কলোরাডোর গ্র্যান্ড জাংশনে এক নির্বাচনী প্রচার সমাবেশে ট্রাম্প বলেছেন, ‘সংবাদপত্রগুলো কারচুপির একটি ছক তৈরি করেছে আর ভোটারদের মন বিষিয়ে তুলছে। ’

এর জবাবে রিপাবলিকান প্রার্থীকে তীব্র আক্রমণ করেন ওবামা। তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করেন। এসব কর্মকর্তাকে অঙ্গরাজ্যগুলোর রিপাবলিকান গভর্নররাও নিয়োগ দিতে পারেন, আর যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য কোনো কারচুপির ঘটনা স্মরণকালের মধ্যে ঘটেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে কারচুপি করা সম্ভব, কোনো ‘সচেতন’ ব্যক্তি কখনো এমন অভিযোগ করেননি বলে দাবি করেন ওবামা। তিনি বলেন, ‘আমি ট্রাম্পকে নাকি কান্না বন্ধ করে ভোট পাওয়ার দিকে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। ’ সূত্র : এএফপি, বিবিসি, দ্য পলিটিকো, এনবিসি।


মন্তব্য