kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


প্রতিবাদী দুই যমজ বোনের ওপর বখাটেদের হামলা

মিরপুরে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



প্রতিবাদী দুই যমজ বোনের ওপর বখাটেদের হামলা

রাজধানীর মিরপুরে গতকাল বুধবার বিসিআইসি কলেজের দুই ছাত্রী বখাটেদের হামলার শিকার হয়েছে। হামলায় আহত দুই শিক্ষার্থী যমজ বোন।

তাদের পরিবার ও কলেজের শিক্ষকরা বলছেন, বখাটেদের কটূক্তি ও আচরণে বাধা দেওয়ায় তাদের বেধড়ক মারধর করা হয়। ঘটনার পরপরই কলেজের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার না করলে আরো বড় ধরনের আন্দোলনের হুমকিও দেয় তারা।

এদিকে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে সন্ত্রাসীর ধারালো অস্ত্রের কোপে আহত স্কুল ছাত্রী তাহমিনার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তার জ্ঞান ফেরায় পরিবারের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় তিনজনকে আসামি করে সিরাজদিখান থানায় মামলা করা হয়েছে। তবে কোনো আসামিকে এখনো শনাক্ত করা যায়নি।

বিসিআইসি কলেজের অধ্যাপক ইমাদুল হক সাংবাদিকদের জানান, গতকাল সকাল ১১টায় কলেজ ছুটির পর দুই ছাত্রী বাসায় ফেরার জন্য রাস্তায় বাসের জন্য অপেক্ষা করছিল। এ সময় জীবন, বাবুসহ কয়েক বখাটে তাদের উদ্দেশ করে আপত্তিকর কথা বলে। ওই দুই ছাত্রী এর প্রতিবাদ করলে বখাটেরা তাদের মারধর করে। দুই ছাত্রীর সহপাঠীরা জানায়, বখাটেরা বাঁশ দিয়ে তাদের পেটাতে থাকে। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ও শিক্ষকরা জড়ো হতে শুরু করলে বখাটেরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এর পরই কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। প্রায় আধাঘণ্টা মিরপুর সনি সিনেমা হলের সামনের রাস্তা অবরোধ করে রাখে তারা। পরে শিক্ষকরা তাদের বুঝিয়ে কলেজে ফিরিয়ে নিয়ে যান।

পুলিশ সূত্র জানায়, সাধারণ শিক্ষার্থীদের রাস্তা অবরোধের ফলে ওই এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা বখাটে জীবন, বাবু ও তাদের সঙ্গীদের গ্রেপ্তার এবং বিচার দাবি করে। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, হামলাকারী জীবন ও বাবু মিরপুরের কামাল হাউজিং এবং মুক্তিযোদ্ধা স্টাফ কোয়ার্টার কলোনির বাসিন্দা।

কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, মারধরের শিকার দুই ছাত্রী পূর্ব মনিপুরের বাসিন্দা। তারা বাসের জন্য অপেক্ষা করার সময় উত্ত্যক্ত করতে থাকে বখাটেরা। দুই বোন এক বখাটের শার্টের কলার ধরে প্রতিবাদ করে। এ সময় বখাটেরা মিলে তাদের পেটাতে থাকে। তাদের চড়-থাপড়, এমনকি বাঁশ দিয়েও পেটানো হয়। ঘটনার অনেক পর পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।

শাহআলী থানার ওসি আনোয়ার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ ঘটনায় ভিকটিমদের বাবা বখাটে জীবনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তার নাম-ঠিকানা পাওয়া গেছে। জীবনের সঙ্গে আরো কয়েকজন ছিল বলে আমরা তথ্য পেয়েছি। এদের মধ্যে গত সন্ধ্যায় মিরপুর মাজার রোডের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স মার্কেটের সামনে থেকে ঘটনায় জড়িত বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূল আসামিসহ অন্যদেরও দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।

আহত দুই ছাত্রীর বাবা সাংবাদিকদের বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই বখাটে জীবন আমার মেয়েদের উত্ত্যক্ত করে আসছিল। কলেজে আসা-যাওয়ার সময় প্রায়ই বখাটেরা তাদের উত্ত্যক্ত করত। শুনে আমি জীবনের সঙ্গে কথা বলি। তাকে ভালো পথে আসার অনুরোধও করেছিলাম। কিন্তু তাতে সে সাড়া দেয়নি। উল্টো আজ (গতকাল) আমার দুই মেয়েকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল সে। আমার এক মেয়ের বাম পা ভেঙে গেছে। আরেক মেয়ে কোমরে আঘাত পেয়েছে। তাদের জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে (পঙ্গু হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়েছে। ’ তিনি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও দুই মেয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান। সর্বশেষ খবরে জানা যায়, চিকিৎসা শেষে গতরাতেই নির্যাতনের শিকার দুই বোনকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

তাহমিনার জ্ঞান ফিরেছে, দুর্বৃত্তদের মুখ ঢাকা ছিল গামছায় নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সিরাজদিখানে সন্ত্রাসীর ধারালো অস্ত্রের কোপে আহত স্কুল ছাত্রী তাহমিনার অবস্থার কিছুটা উন্নতি ঘটেছে। গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকার একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তার মাথার সিটিস্ক্যান করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার শেষ রাতে তার জ্ঞান ফিরেছে। তাহমিনা এখন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসারত অবস্থায় তার জ্ঞান ফেরায় পরিবারের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। এ ঘটনায় গতকাল অজ্ঞাতপরিচয় তিনজনকে আসামি করে সিরাজদিখান থানায় একটি মামলা করেছেস তাহমিনার বাবা মো. তফিজ উদ্দিন হাওলাদার। তবে আসামি শনাক্ত না হওয়ায় পরিবারের সদদ্যদের মাঝে দেখা দিয়েছে হতাশা।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিরাজদিখান উপজেলার চোরর্মদ্দন গ্রামে দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে তাহমিনা আক্তার নামের এক স্কুল ছাত্রীকে কুপিয়ে যখম করে। রশুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে ওই রাতেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাহমিনা এসএসসি টেস্ট পরীক্ষা শেষে স্কুল থেকে বাড়িফেরার পরপরই এ ঘটনা ঘটে। তখনো সে স্কুল ড্রেস পরা অবস্থায়ই ছিল।

পরিবার সূত্র জানায়, ঘটনার সময় তাহমিনার বাবা ব্যবসার কাজে সিরাজদিখান বাজারে ছিলেন। আর মা নিজের চিকিৎসার জন্য ডাক্তারখানায় ছিলেন।

গতকাল সন্ধ্যায় তাহমিনার চাচাতো ভাই সাগর কালের কণ্ঠকে জানান, তাহমিনা অল্পস্বল্প কথা বলতে পারলেও এখনো কথা পরিষ্কার হচ্ছে না। চিকিৎসকরা এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না। তবে আগের চেয়ে অবস্থার উন্নতি ঘটেছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন। বাকিটা সিটিস্ক্যানের পর বলবেন বলে জানিয়েছেন।

এদিকে চাচাতো ভাই সাগর চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানান, জ্ঞান ফেরার পর তাহমিনা মৃদুস্বরে ঘটনা সম্পর্কে চিকিৎসকদের জানিয়েছে, দুজন সন্ত্রাসী তার ওপর হামলা চালিয়েছে। তার গলায় ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা চালানো হয়েছে। তাহামিনা একজনের হাতে কামড় ও আরেকজনকে ধাক্কা দিয়ে ঘর থেকে দৌড়ে বের হয়ে যায়। দুষ্কৃতকারীদের গামছা দিয়ে মুখ বাঁধা থাকায় তাদের সে চিনতে পারেনি।

এদিকে গতকাল সকাল ১১টায় সহকারী পুলিশ সুপার (শ্রীনগর সার্কেল) মো. সামসুজ্জামান বাবু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। এদিকে এক দিন পেরিয়ে গেলেও হামলাকারীদের শনাক্ত বা আটক করতে পারেনি পুলিশ। এ নিয়ে পরিবারের মাঝে দেখা দিয়েছে হতাশা। হামলাকারী যুবকদের পরিচয় সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া হতে পারেনি পুলিশ। তবে তাহমিনার সহপাঠীদের কাছ থেকে জানা গেছে, তাহের নামের এক বখাটে কিছুদিন আগে তাহমিনাকে প্রেম নিবেদন করেছিল। কিন্তু তাহমিনা তাতে সাড়া দেয়নি। সে ক্ষেত্রে তাহের এমনটি ঘটিয়েছে কি না—এ নিয়ে সহপাঠীদের মাঝে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাহমিনার এক সহপাঠী জানায়, তাহের প্রায়ই তাহমিনাকে প্রেম নিবেদন করত। স্কুলে যাওয়া-আসার সময় নানাভাবে উত্ত্যক্ত করত।


মন্তব্য