kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


‘সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে’

মুহম্মদ খান   

২০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



‘সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের উদ্বোধন শেষে বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। ছবি : বাসস

বুধবার সকাল ১১টা ৩৫ মিনিট। ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার ১ নম্বর হলের মঞ্চের সামনে বসা ছোট্ট একটি রোবট প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাল।

প্রধানমন্ত্রী তার অনুরোধ রক্ষার্থে একটি বাটনে চাপ দিলেন। উদ্বোধন হয়ে গেল ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৬’। আর এভাবেই শুরু হলো চতুর্থবারের মতো আয়োজিত তিন দিনব্যাপী তথ্য-প্রযুক্তি খাতের মহোৎসব।

উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনের পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংস্থা আইটিইউয়ের সদস্যপদ লাভ করে। তিনি ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশে বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) প্রতিষ্ঠা করেন। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা দেশের প্রথম শিক্ষা কমিশনের দায়িত্ব দিয়েছিলেন ড. কুদরাত-এ-খুদার মতো বিজ্ঞানীর হাতে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে তিনি বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ও গবেষকদের দেশে ফিরিয়ে আনারও উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু দেশে টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তি বিকাশের জন্য বেতবুনিয়ায় দেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র স্থাপন করেন। আমাদের দুর্ভাগ্য, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যা করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পালা শুরু হয়। আমাদের অগ্রযাত্রা স্তম্ভিত হয়ে যায়। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে পুনরায় জনগণের সেবা করার সুযোগ পায়। আমরা সরকার গঠন করে মানুষকে উন্নত জীবন যাপন করার সুযোগদানের প্রতিজ্ঞা করি। তারই অংশ হিসেবে টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি খাতকে ঢেলে সাজানো হয়। ’

‘ফোন করলেও ১০ টাকা ধরলেও ১০ টাকা’—মোবাইল কলের সেই মনোপলি ভেঙে দেওয়ার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তিতে ব্যাপক পরিবর্তনের ধারা সূচিত হয়। ২০০৮ সালে নির্বাচনী ইশতেহারে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা পেশ করি। জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে ২০০৯ সালে সরকার গঠন করার পর সবক্ষেত্রে বিএনপি-জামায়াতের রেখে যাওয়া লুটপাটের চিহ্ন মুছে ফেলে উন্নয়নের এক মহাপরিকল্পনা আমরা গ্রহণ করি। ’

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় বলেন, ‘আমরা ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট-২০১৬ প্রণয়ন করতে যাচ্ছি। এর আওতায় বাংলাদেশে বিশ্বমানের ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন, সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি গঠন, সাইবার ইন্সিডেন্স রেসপন্স টিম (সিইআরটি) প্রতিষ্ঠা এবং উচ্চ পর্যায়ের ডিজিটাল সিকিউরিটি কাউন্সিল গঠন করা হবে। ’

অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা সফরে থেকেও ৫১টি ফাইলে ইলেকট্রনিক্যালি স্বাক্ষর করেছেন প্রধানমন্ত্রী। ডিজিটাল বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আমরা যে বহুদূর এগিয়েছি, এটি সারা বিশ্বের কাছে একটি উদাহরণ। ’ ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ইমরান আহমেদ বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছি তাতে সোনার বাংলা গড়তে বেশি সময় লাগবে না। ’

বেসিস সভাপতি মোস্তাফা জব্বার তাঁর বক্তব্যে দেশের তথ্য-প্রযুক্তি পণ্য রপ্তানিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ভর্তুকি চান। তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন ও দেশের তথ্য-প্রযুক্তি উন্নয়নে কোনো বিদেশির প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের যে রিজার্ভ চুরি হয়েছে সেটি আমাদের দেশের ছেলেরা থাকলে হতো না। ’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশনের (এটুআই) প্রকল্প পরিচালক কবির বিন আনোয়ার এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের পরিচালক এস এম আশরাফুল ইসলাম।

এবারের ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে ৫০টি স্টার্টআপ কম্পানি অংশ নিয়েছে। এ ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ৪০০ প্রদর্শক রয়েছে। উদ্বোধনী দিনে আটটি দেশের মন্ত্রীদের অংশগ্রহণে মিনিস্ট্রিয়াল কনফারেন্স হয়। ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে সফটওয়্যার শোকেসিং ছাড়াও ই-গভর্ন্যান্স, মোবাইল ইনোভেশন অ্যান্ড গেইমিং, ই-কমার্স নিয়ে তিনটি স্বতন্ত্র মেলা চলছে। উদ্যোক্তাদের জন্য আছে স্টার্টআপ জোন। থাকছে ই-গভর্ন্যান্স, ই-হেলথ, ই-এডুকেশন, ই-কমার্স, এম-কমার্স, অ্যাকসেস টু ফিন্যান্স, উইমেন ইন আইটি, মোবাইল অ্যাপস ও গেমস, সোশ্যাল মিডিয়া, সাইবার সিকিউরিটি, এক্সপোর্ট মার্কেট গ্রোথ, লোকাল মার্কেটসহ তথ্য-প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেমিনার।

এ ছাড়া মাইক্রোসফট, ফেসবুক, একসেন্সার, বিশ্বব্যাংক, জেডটিই, হুয়াওয়েসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ৪৩ জন বিদেশি বক্তাসহ দুই শতাধিক বক্তা ১৮টি সেশনে অংশ নিচ্ছেন।

থাকছে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আইটি ক্যারিয়ার বিষয়ক সম্মেলন, ডেভেলপার সম্মেলন, ডেভেলপমেন্ট পার্টনারস কনফারেন্স এবং তথ্য-প্রযুক্তি এডুকেশন সম্মেলন।

‘ননস্টপ বাংলাদেশ’ স্লোগানে শুরু এই উৎসবের মূল আয়োজক তথ্য-প্রযুক্তি বিভাগ। সহযোগী হিসেবে আছে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস), প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন প্রোগ্রামসহ (এটুআই) বিভিন্ন তথ্য-প্রযুক্তি সংগঠন ও সংস্থা।

সবার জন্য উন্মুক্ত এই ই-প্রযুক্তি উৎসব সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে। পর্দা নামবে শুক্রবার।


মন্তব্য