kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


১,৮৩৮ কোটি টাকা পাচারে ৫৬২ প্রতিষ্ঠান

ফারজানা লাবনী   

২০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



১,৮৩৮ কোটি টাকা পাচারে ৫৬২ প্রতিষ্ঠান

সাভারের মির্জানগরের ‘মাব স্পিনিং লিমিটেড’ রপ্তানিমুখী কারখানা হিসেবে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানি করতে পারে। ব্যাংকের মাধ্যমে এলসি (ঋণপত্র) খুলে পণ্য আমদানি-রপ্তানি করে তারা।

প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক অনিয়মে জড়িত—এমন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তদন্তে নামেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) টাস্কফোর্সের কর্মকর্তারা। উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, ব্যাংকের এলসি-সংক্রান্ত সব তথ্য খতিয়ে দেখার পর ধরা পড়ে প্রতিষ্ঠানটি ছয় কোটি ৫০ লাখ টাকা অনিয়ম করেছে। মূলত এ অর্থ পাচার হয়েছে। এনবিআরের তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য।

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকার আজিজ সুপার গার্মেন্ট লিমিটেডও শুল্ক ছাড়াই কাঁচামাল আমদানি করতে পারে। তবে প্রতিষ্ঠানটি এ সুবিধা নিয়ে কী পরিমাণ কাঁচামাল আমদানির সুযোগ পাবে—তা নির্ধারণ করে দেয় তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। ব্যাংকের মাধ্যমে এলসি খুলে আজিজ সুপার গার্মেন্ট কাঁচামাল কিনতে বিদেশে অর্থ পাঠায়। একপর্যায়ে অভিযোগ ওঠে প্রতিষ্ঠানটি কাঁচামাল আমদানির তুলনায় রপ্তানি কম করছে। এনবিআর চেয়ারম্যান জরুরি ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন। এনবিআর টাস্কফোর্সের কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানটির কারখানা, বন্ডেড ওয়্যারহাউস, ব্যাংক, বন্দরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সরেজমিনে পরিদর্শন করে তথ্য-প্রমাণ জোগাড় করে নিশ্চিত হন আজিজ সুপার গার্মেন্ট বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে ১৭ কোটি পাঁচ লাখ ৫০ হাজার ১৭ টাকা অনিয়ম করেছে। এ অর্থও আসলে পাচার হয়েছে।

শুধু এ দুই প্রতিষ্ঠান নয়, উৎপাদনে থাকা এ রকম চার হাজার ৫৮টি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অনিয়মের বিষয় তদন্তে নিশ্চিত হয়েছে এনবিআরের টাস্কফোর্স। এর মধ্যে কেবল ৫৬২টি প্রতিষ্ঠানই এক হাজার ৮৩৮ কোটি ২১ লাখ ৯ হাজার ৩৯৯ টাকার অনিয়ম করেছে। আমদানি-রপ্তানিতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ব্যাংকিং চ্যানেলে এ অর্থ পাচার করা হয়েছে। অর্থপাচারকারী প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগই তৈরি পোশাক খাতের প্রতিষ্ঠান। ইতিমধ্যে অনিয়মে জড়িতদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এনবিআর মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শতভাগ রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে চার হাজার ৫৮ প্রতিষ্ঠান এনবিআরের বন্ড সুবিধাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে। বন্ড সুবিধার আওতায় প্রতিষ্ঠানগুলো কারখানায় ব্যবহারের জন্য শুল্কমুক্তভাবে কাঁচামাল আমদানির সরকারি সুবিধা পায়।

অর্থপাচার-সংক্রান্ত তদন্ত পরিচালনায় এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা শাখা (সিআইসি), শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, শুল্ক মূল্যায়ন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর, ট্রান্সফার প্রাইজিং সেল, ট্যাক্সেস অ্যান্ড লিগ্যাল এনফোর্সমেন্ট শাখার কর্মকর্তাদের নিয়ে ৩২ সদস্যের টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়। এক বছর ধরে কারখানা, ব্যাংক, বন্দর, বন্ডেড ওয়্যারহাউস থেকে তথ্য-প্রমাণ জোগাড় করে যাচাই-বাছাই শেষে এ প্রতিবেদন তৈরি করে কমিটি।

টাস্কফোর্সের কর্মকর্তারা গত ৪ অক্টোবর আর্থিক অনিয়মে জড়িত চার হাজার ৫৮টি প্রতিষ্ঠানের নাম এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমানের দপ্তরে জমা দিয়েছেন। পর্যায়ক্রমে এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অনিয়মের পরিমাণ নির্ধারণ ও জড়িতদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। প্রধম ধাপে চার হাজার ৫৮ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৬২টি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অনিয়মের পরিমাণ উল্লেখ করে ২১৭ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এনবিআর চেয়ারম্যানের নির্দেশে ইতিমধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের ২৪১ জন পরিচালকের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্ত পরিচালকদের নাম-ঠিকানা, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নাম, ভ্যাট নিবন্ধন নম্বর, রাজস্ব দপ্তর, অনিয়ম করা অর্থের পরিমাণ এবং ব্যবসার লাইসেন্স সম্পর্কে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা উল্লেখ আছে।

এনবিআরের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের ৩৬৯ হুক্কুর সুপার মার্কেটের বি অ্যান্ড সি ফ্যাশনস লিমিটেড আমদানি-রপ্তানিতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে এক কোটি ১২ লাখ ২৬ হাজার ৬৮২ টাকা অনিয়ম করেছে। এ অর্থের কোনো হদিস মেলেনি। এ ছাড়া রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকার বাব টেক্স লিমিটেডের তিন কোটি ৪১ লাখ ৯১ হাজার ৬৭৭ টাকা, মালিবাগের (চৌধুরীপাড়া ৭২/সি) শান্তা গার্মেন্ট ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের এক কোটি ৩৯ লাখ ৯৯ হাজার ২৫৯ টাকা, মিরপুরের (ব্লক ১০/সি, এভিনিউ ২, বাড়ি নম্বর ৩) সাস গার্মেন্ট লিমিটেডের ৩৩ কোটি ১১ লাখ ৯২ হাজার ২২২ টাকা অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের তারাবোর টাকি মৌজার (প্লট নম্বর ৯৯, ১০০, ১০১ ও ২৭৯) থাই পলি সাওয়ান (বিডি) লিমিটেড দুই কোটি ১২ লাখ ১০ হাজার ৮৪৭ টাকা ও ফতুল্লার মেসার্স ফিউচার অ্যাক্সেসরিজ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এক হাজার ১২৪ টন আর্টকার্ড ও ডুপ্লেক্স বোর্ড আমদানিতে পাঁচ কোটি ৫১ লাখ ৫৬ হাজার ৯৬৭ টাকার অনিয়ম করেছে। ফিউচার অ্যাক্সেসরিজের বিরুদ্ধে গত ২০ জুন মামলা করেছে কাস্টমস।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট, চান্দগাঁওয়ের লিবার্টি অ্যাক্সেসরিজ দেড় হাজার টন প্লাস্টিক দানা আমদানিতে ১৭ কোটি টাকার অনিয়ম করেছে। প্রতিষ্ঠানটি গার্মেন্ট অ্যাক্সেসরিজ তৈরি করে রপ্তানির উদ্দেশ্যে এসব প্লাস্টিক দানা আনে। দীর্ঘদিন ধরে আমদানি-রপ্তানিতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে তারা আর্থিক অনিয়ম করছিল।

অনিয়মের বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, অর্থপাচারকারীদের বিরুদ্ধে এনবিআর কঠোর অবস্থানে আছে। অর্থপাচারে জড়িত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো কী পরিমাণ অর্থ পাচার করছে তা পর্যায়ক্রমে তদন্ত করা হচ্ছে।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমও বলেছেন, এলসিতে সবচেয়ে বেশি মিথ্যা তথ্য দিয়ে ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাচার করা হচ্ছে। সাধারণত বিল অব এন্ট্রিতে যে পণ্যের কথা উল্লেখ থাকে প্রকৃতপক্ষে তার চেয়ে কম মূল্যের পণ্য আমদানি করে তারা। এভাবে পণ্যের মূল্যের চেয়ে কৌশলে বেশি অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়।

এনবিআরের টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উৎপাদনে থাকা চার হাজার ৫৮টি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন থেকেই আমদানি-রপ্তানিতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আর্থিক অনিয়ম করেছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান সরেজমিন পরিদর্শন করে তথ্য-প্রমাণ খতিয়ে দেখে তাদের অর্থপাচারকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আবার রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি করছে—বন্দর থেকে সংশ্লিষ্ট শুল্ক শাখার কর্মকর্তাদের এমন তথ্যের ভিত্তিতেও কিছু প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম তদন্ত করা হয়। টাস্কফোর্স কিছু প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত তদন্তে গিয়েও বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম পেয়েছে।

প্রসঙ্গত, রপ্তানিতে আগ্রহী করতে সরকার শতভাগ রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানের পণ্য উৎপাদনে ব্যবহূত কাঁচামাল শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানির সুযোগ দিয়েছে। এ সুযোগ বন্ড সুবিধা নামে পরিচিত। তবে বন্ড সুবিধা পাওয়া বা বহাল রাখার কিছু শর্ত রয়েছে। সে অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে উৎপাদনে থাকতে হবে, বিনা শুল্কে আমদানি করা কাঁচামালের পুরোটাই কারখানার উৎপাদনে ব্যবহার করতে হবে; খোলাবাজারে বিক্রি করা যাবে না, আমদানি-রপ্তানিতে মিথ্যা তথ্য দেওয়া যাবে না এবং হিসাব অনুযায়ী রপ্তানি করা পণ্যের রাজস্ব পরিশোধ করতে হবে। শর্ত ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বন্ড সুবিধা ও ব্যবসার লাইসেন্স বাতিল এবং আমদানি-রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে। পাশাপাশি অর্থদণ্ড, ব্যাংক হিসাব জব্দ ও মামলা করা হবে।

১৯৯৩ সাল থেকে পোশাক খাতে ইউডি (ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশন) ইস্যুর ক্ষমতা তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএকে দেওয়া হয়। এতে একটি প্রতিষ্ঠান কারখানায় ব্যবহারের জন্য কী পরিমাণ কাঁচামাল আমদানি করবে তা নির্ধারণ করে বিজিএমইএ। তবে ওই গার্মেন্ট ও বন্ডেড ওয়্যারহাউসের অস্তিত্ব, সঠিক হিসাবে আমদানি-রপ্তানি, আমদানি-রপ্তানির আড়ালে অর্থপাচার হচ্ছে কি না তা নজরদারি করে এনবিআর।

তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, অর্থপাচারে জড়িত চার হাজার ৫৮ প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই অনুমোদিত পরিমাণের তথ্য গোপন করে কম পরিমাণ ও কম মূল্যের পণ্য আমদানি করেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে কাগজে-কলমে দেওয়া মিথ্যা হিসাবমতো বিদেশে বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে অর্থ পাঠিয়েছে তারা। এভাবে কম পরিমাণ পণ্য আমদানি করলেও মিথ্যা তথ্য দিয়ে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি পরিমাণ অর্থ পাচার করেছে। অনেক সময় ভুয়া বা জাল কাগজপত্র ব্যাংক, বন্দর, এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জমা দিয়ে পণ্যের মূল্য পরিশোধে ব্যাংকিং চ্যানেলে এলসি খুলে অর্থ পাঠালেও বাস্তবে তারা পণ্য আমদানিই করেনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই বিদেশে বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের নামে অর্থ পাচার করেছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকরা নিজেদের সুবিধামতো একাধিক দেশে একাধিক নামে বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান খুলেছে। নিজস্ব মালিকানাধীন বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে পরবর্তী সময় দফায় দফায় পণ্য আমদানির নামে অর্থ পাচার করেছে তারা। মালিকদের অনেকের স্ত্রী, সন্তান বা পরিবারের অন্য সদস্যদের নামেও বিদেশে বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান খুলেছে। অনেক ক্ষেত্রে বিদেশে বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশ করে অর্থ পাঠিয়ে পরে নিজেরা তুলে নিয়েছে। একবারে বড় অঙ্কের অর্থ পাচার না করে কয়েক দফায় বিভিন্ন চালানের বিপরীতে অর্থ পাচার করা হয়েছে। অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পাশাপাশি এনবিআরের অসাধু কর্মকর্তারা অর্থপাচারে সহযোগিতা করেছেন। এসব কর্মকর্তা চিহ্নিত করতে কাজ করছে এনবিআরের টাস্কফোর্স কমিটি। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চার হাজার ৫৮ প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেকটির নিজস্ব বন্ডেড ওয়্যারহাউস আছে। সরেজমিন যাচাই-বাছাইয়ে সেগুলোতে আমদানি করা, কারখানায় ব্যবহূত ও রপ্তানি করা পণ্যের হিসাবে বড় ধরনের গরমিল পাওয়া গেছে।

বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি, রপ্তানিকারক সমিতি বাংলাদেশের সভাপতি ও তৈরি পোশাক শিল্পের প্রতিষ্ঠান এনভয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুস সালাম মুর্শেদী কালের কণ্ঠকে বলেন, বন্ডেড সুবিধার অপব্যবহার করে দেশের কিছু অসৎ ব্যবসায়ী সৎ ও প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বিপদে ফেলছে। সরকারকে বড় অঙ্কের অর্থ থেকে বঞ্চিত করছে তারা। এসব অসাধু ব্যবসায়ীকে শাস্তির আওতায় আনলে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবে। সরকারের আয়ও বাড়বে। এনবিআরের অসৎ কর্মকর্তারা সহযোগিতা করলে সহজে এ দুর্নীতি করা সম্ভব। তাই এ বিষয়েও নজরদারি বাড়াতে হবে।

দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, বন্ড সুবিধার অপব্যবহারসহ বাণিজ্যের আড়ালে বিভিন্ন অসাধু উপায়ে বড় অঙ্কের অর্থ পাচার করছে অনেকে। তবে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা অর্থপাচারে জড়িত নয়। ব্যবসায়ী নামধারী কিছু ব্যক্তি এ কাজ করছে। এ চক্র ভেঙে দেওয়া প্রয়োজন। এতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা লাভবান হবে, দেশও উপকৃত হবে।


মন্তব্য