kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


স্ত্রী বললেন ট্রাম্প ভদ্রলোক

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



স্ত্রী বললেন ট্রাম্প ভদ্রলোক

রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডুবতে থাকা নৌকাকে টেনে তীরে নেওয়ার চেষ্টা শুরু করেছেন তাঁর স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নারীদের যৌন হেনস্তার অভিযোগ উঠতে শুরু করার পর দেওয়া প্রথম সাক্ষাৎকারে মেলানিয়া বলেন, ‘ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা।

আমি আমার স্বামীকে বিশ্বাস করি। তিনি ভদ্রলোক। কখনোই এমন কিছু করতে পারেন না। ’

সিএনএন গত সোমবার এই সাক্ষাৎকার প্রচার করে। এমন একটি সময় মেলানিয়া এই ইস্যুতে সামনে এলেন যখন নির্বাচনে ট্রাম্পের সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমের দাবি, পরাজয় নিশ্চিত জেনেই নির্বাচনী ব্যবস্থাকেই জালিয়াতিপূর্ণ বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের কাজকে ‘শয়তানের কারখানা’ হিসেবে অভিহিত করে ভোটারদের মনে বিষ ঢালার জন্য গণমাধ্যমকে দায়ী করেছেন তিনি।

নির্বাচনের আর মাত্র ১৯ দিন বাকি। এ অবস্থায় দাঁড়িয়ে রোজই নানা সংস্থা জরিপ করছে। সব জরিপেই এখন পিছিয়ে ট্রাম্প। আর হিলারির সঙ্গেও তাঁর ব্যবধান প্রতিদিনই বাড়ছে। এ অবস্থায় মেলানিয়া ট্রাম্পকে কতটা সহায়তা করতে পারবেন তা নিয়ে সন্দেহ আছে।

তবে তেমন একটি প্রত্যাশা নিয়েই মেলানিয়াকে সামনে নিয়ে এসেছে ট্রাম্প শিবির। মেলানিয়ার সাক্ষাৎকারটি সোমবার সিএনএন এবং গতকাল ফক্স নিউজে প্রচার করা হয়। সাক্ষাৎকারে মেলানিয়া বলেন, টেপের ‘ওই কথাগুলো আমাকে ভীষণভাবে আহত করেছে। এ ধরনের কথা বলা তাঁর ঠিক হয়নি। এর জন্য তিনি (ট্রাম্প) আমার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। আমি তাঁকে ক্ষমা করে দিয়েছি। আমি যে ট্রাম্পকে চিনি তাঁর সঙ্গে এসব মেলে না। ’ ভিডিওর কথাগুলোকে তিনি ‘ছেলেমানুষী’ আলাপ বলেই মনে করেন। আর এসব কথা এভাবে বলার জন্য টিভি উপস্থাপক বিলি বুশকে দায়ী করেন তিনি। ওই টেপ ফাঁসের পর এনবিসি চ্যানেল থেকে বিলি বুশের চাকরি চলে যায়।

মেলানিয়া বলেন, ‘আমি জানি তিনি (ট্রাম্প) নারীদের সম্মান করেন। তার পরও তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করছেন। কারণ তারা (যৌন হেনস্তার অভিযোগকারীরা) মিথ্যা বলছে। ’ ওই টেপ প্রকাশের পর অন্তত ১৫ জন নারী ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন।

তবে এই অভিযোগগুলো ‘পরিকল্পিত’ এবং ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের প্রচার শিবির ও গণমাধ্যম ‘প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ট্রাম্পের ক্ষতি করতে একজোট হয়ে এসব করছে বলেও মন্তব্য করেন মেলানিয়া। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী নারীদের কাছ থেকে গণমাধ্যম যেসব তথ্য পেয়েছে, তারা কি কখনো ওই সব নারীর অতীত খোঁজ করেছে?’

নারীদের সঙ্গে গত কয়েক বছরে ট্রাম্প কখনোই অসংগত আচরণ করেননি বলেও জোর দিয়ে বলেছেন মেলানিয়া। তিনি বলেন, ‘বরং সাধারণত নারীরাই, এমনকি আমার সামনেও আমার স্বামীকে তাদের ফোন নম্বর দিতে চায় এবং অসংগত ব্যবহার করে। ’

ভিডিও টেপটি নিয়ে স্বামীকে কিছু বলেছিলেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মেলানিয়া বলেন, ‘আমি আমার স্বামীকে বলেছি, তুমি জান তুমি যে ভাষা ব্যবহার করেছ তা খুবই অসংগত এবং এটা মেনে নেওয়া যায় না। ’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি খুবই অবাক হয়েছিলাম। কারণ আমি যে মানুষটিকে চিনি তিনি এমন নন। ’

নারীদের নিয়ে নিজের অশ্লীল মন্তব্যের দোষ ঢাকতে প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটনের স্বামী সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের নারী কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গ তোলেন ট্রাম্প। অনেকে ট্রাম্পের এ কৌশলের সমালোচনা করলেও মেলানিয়া মনে করেন তাঁর স্বামী ঠিক কাজই করেছেন।

জরিপে পিছিয়ে : সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে চালানো কয়েকটি জরিপে দেখা গেছে, হিলারির সঙ্গে ট্রাম্পের ব্যবধান ক্রমেই বাড়ছে। মনমাউথ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, দেশজুড়ে ট্রাম্পের চেয়ে ১২ পয়েন্টে (৫০%-৩৮%) এগিয়ে আছেন হিলারি। কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিপে ঝুঁকিপূর্ণ রাজ্য কলোরাডো, ফ্লোরিডা ও পেনসিলভানিয়ায় এগিয়ে আছেন হিলারি। ওহাইয়োতে তাঁর ও ট্রাম্পের পয়েন্ট সমান সমান। তবে সিএনএন পরিচালিত জরিপ বলছে, ৪ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন ট্রাম্প। নর্থ ক্যারোলিনা ও নাভাদায় এগিয়ে আছেন হিলারি। রিয়েল ক্লিয়ার পলিটিক্সের জরিপে হিলারিকে ৬.৪ পয়েন্টে এগিয়ে রাখা হয়েছে।

প্রথম বিতর্কের পর থেকেই ট্রাম্পের পিছিয়ে পড়া শুরু হয়েছে। বিতর্কে তাঁর বাজে পারফরম্যান্সের সঙ্গে যোগ হয় এক বিশ্বসুন্দরীকে নিয়ে কটূক্তি, যৌন কেলেঙ্কারির টেপ ফাঁস এবং একের পর এক নারী বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ। এই পরিস্থিতির মধ্যেই স্থানীয় সময় আজ সন্ধ্যায় (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা) তৃতীয় ও শেষ বিতর্কে মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন হিলারি ও ট্রাম্প।

‘শয়তানের কারখানা’ : নির্বাচনে হিলারির প্রচার তৎপরতাকে ‘শয়তানের কারখানা’ বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। গত সোমবার উইসকনসিনের গ্রিন বে-তে নির্বাচনী সভায় ভাষণ দেওয়ার সময় এ মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে হিলারির ব্যক্তিগত সার্ভারে আদান-প্রদানের বিষয়টিও উঠে আসে। গত সোমবার এফবিআই জানায়, পররাষ্ট্র দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হিলারির একটি মেইল ‘অতি গোপনীয়’ স্তরে না রেখে প্রকাশ করে দেওয়ার অনুরোধ জানান। এ প্রসঙ্গ তুলেই এমন মন্তব্য করেন ট্রাম্প। সভায় তিনি আবারও নির্বাচনী ব্যবস্থায় গলদ আছে বলে মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প টাওয়ারের সামনে নারীদের বিক্ষোভ : আমাদের নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি জানিয়েছেন, নারীদের প্রতি ট্রাম্পের বিভিন্ন সময় করা কটূক্তির প্রতিবাদে এই রিপাবলিকান প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে কয়েকটি সংগঠন। স্থানীয় সময় সোমবার নিউ ইয়র্কে ট্রাম্প টাওয়ারের সামনে তারা এ বিক্ষোভ করে।

বিক্ষোভে ট্রাম্পের ছবিতে সতর্কীকরণ চিহ্ন আঁকা এবং বিভিন্ন লেখাসংবলিত ব্যানার হাতে বিক্ষোভকারীরা জমায়েত হন। এসব ব্যানারের কোনোটিতে ট্রাম্পের নির্বাচনী স্লোগানের প্যারোডি করে ‘স্ত্রীবিদ্বেষ আবারও বাড়িয়ে দিন’ লেখা ছিল। আবার কোনোটাতে লেখা ছিল ‘ট্রাম্প নারীদের অবমাননাকারী’।


মন্তব্য