kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ডাকাতি-ছিনতাইয়ে পুরনো জেএমবি

৬৭ ভরি সোনাসহ গ্রেপ্তার ৭

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



৬৭ ভরি সোনাসহ গ্রেপ্তার ৭

নিষিদ্ধ সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) পুরনো ধারার জঙ্গিরা তহবিল সংগ্রহের জন্য ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো অপকর্ম চালাচ্ছে। আপাতত বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা ছেড়ে তারা কারাবন্দি নেতাদের জামিনে ছাড়িয়ে আনার চেষ্টা করছে।

তাতে ব্যর্থ হলে ২০১৪ সালে ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রিজন ভ্যান থেকে তিন আসামি ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটানোর পরিকল্পনা নিয়েছে তারা। আর এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অর্থ সংগ্রহের জন্য ডাকাতি ও ছিনতাইয়ে জড়িয়েছে সংগঠনটির সদস্যরা। জেএমবিকে সংগঠিত করার কাজটি করছে ভারতে পলাতক জঙ্গি সালাউদ্দিন সালেহীন ওরফে সানি।

রাজধানীতে দুটি ডাকাতির ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তারের পর এমন তথ্য মিলেছে বলে দাবি করেছেন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত সোমবার রাতে তেজগাঁও এলাকা থেকে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এলআইসি শাখার সহায়তায় জেএমবির সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলো কাশেম ওরফে কাউসার ওরফে কাশু, নাজমুল হাসান নয়ন ওরফে নরেশ, রাশেদ ওরফে কাকলির বাবা, সেন্টু হাওলাদার ওরফে জাহিদ, আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে শুভ্র ওরফে আকাশ, আবদুল বাছেদ ও জুয়েল সরকার ওরফে সোহরাব ওরফে সরকার। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৬৭ ভরি স্বর্ণালংকার, ছয় লাখ টাকা, চারটি পিস্তল, পাঁচটি ম্যাগাজিন, ১০ রাউন্ড গুলি, ৯টি চাপাতি, চারটি ল্যাপটপ, টেলিভিশন, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন লুটের মাল। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত আসামিদের তেজগাঁও থানার মামলায় ছয় দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।  

ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে সিটিটিসি ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃতরা পুরনো জেএমবির সদস্য। জেএমবির আমির মাওলানা সাঈদুর রহমান গ্রেপ্তারের পর তার ছেলে আবু তসলিম সংগঠনটির নেতৃত্ব দেয়। ২০১৪ সালে তসলিম গ্রেপ্তারের পর ত্রিশাল থেকে ছিনতাই হওয়া জঙ্গি সালেহীন ওরফে সালাউদ্দিন জেএমবির ভারপ্রাপ্ত আমিরের ভূমিকায় রয়েছে। প্রতিবেশী দেশে পালিয়ে থেকে সে জেএমবির নেতৃত্ব দিচ্ছে। ’

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃতরা আগে তেজগাঁও এলাকায় ডাকাতি করে। পরে গত জুনে তারা বনানীতে ডাকাতি করে। এই গ্রুপের আরো কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মনিরুল বলেন, ‘কারাবন্দি নেতাদের জামিনে ছাড়িয়ে নিতে মামলার খরচ জোগানোই জেএমবির সদস্যদের ডাকাতির মূল উদ্দেশ্য। ওই কাজে সফল না হলে ত্রিশালের মতো জঙ্গি ছিনতাইয়ের পরিকল্পনাও ছিল তাদের। অন্য কোনো নাশকতার পরিকল্পনা পুরনো জেএমবির এখনো নেই। ’ নব্য জেএমবির সঙ্গে পুরনো জেএমবির সম্পর্কের ব্যাপারে মনিরুল বলেন, ‘জেএমবির দুই ধারার মধ্যে অর্থ বা অন্য কোনো সম্পর্ক এখনো পাওয়া যায়নি। তবে পুরনো জেএমবি আনসার আল ইসলামের সঙ্গে মিলে একই ছাতার নিচে কাজ করতে চায় বলে তথ্য পাওয়া গেছে। ’

মনিরুল ইসলাম পরে কালের কণ্ঠকে বলেন, ১৯৯৮ সালে সংগঠনটি গঠনের পর বিভিন্ন সময়ে জেএমবি সদস্যরা ডাকাতি ও ছিনতাইয়ে জড়িত হয়েছে। তাদের নেতা মাওলানা সাইদুর রহমান ধর্মের বিকৃত ব্যাখ্যা দিয়ে ডাকাতিকে বৈধতা দিতেন। পুরনো জেএমবির সদস্যরা এখনো আগের সেই কাজেই জড়িত রয়েছে। সালেহীনের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সে ভারতে আছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। সেখানে পালিয়ে থেকেই সে পুরনোদের সংগঠিত করার চেষ্টা করছে। ’

সিটিটিসি সূত্র জানায়, গত ১ জুন দক্ষিণ বনানী থানার মহাখালীতে এক বাড়িতে ১৫-১৬ জন মিলে ডাকাতি করে। ডাকাতরা প্রায় ৮০ ভরি স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিস লুট করে। তদন্তে ওই ঘটনায় জেএমবির সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়।

তেজগাঁও থানার ওসি মাযহারুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেড়-দুই মাস আগে পশ্চিম নাখালপাড়ার একটি বাসায় লুটপাটের ঘটনা ঘটে। তদন্তে নেমে জানা যায়, এর সঙ্গে জেএমবির  সদস্যরা জড়িত। পরে ১০ অক্টোবর মামলা দায়ের করা হয়। ’

আমাদের আদালত প্রতিবেদক জানান, গত ১০ অক্টোবর তেজগাঁও থানায় দায়েরকৃত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, সিটিটিসি ইউনিটের উপপরিদর্শক সাইফুল ইসলাম গতকাল আসামিদের ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করেন। ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে মহানগর হাকিম খুরশীদ আলম আসামিদের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।


মন্তব্য