kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আটকে গেছেন ট্রাম্প

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



আটকে গেছেন ট্রাম্প

কঠিন সময় পার করছেন রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রথম বিতর্কের পরের সপ্তাহটিকে তাঁর জন্য সবচেয়ে বাজে সময় হিসেবে এত দিন উপস্থাপন করা হতো।

তবে গত সপ্তাহের পর স্পষ্ট, এত দ্বন্দ্বময়, কঠিন ও জটিল সময় প্রচার শুরুর পর থেকে তাঁকে আর পার করতে হয়নি। বন্ধুহারা হয়ে একা হয়ে যাচ্ছেন তিনি। দল থেকে সহযোগিতা ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হচ্ছে। এমনকি তাঁর রানিং মেট মাইক পেন্সও প্রকাশ্যে তাঁর মতের বিরোধিতা করছেন। আস্থার সংকট তাঁর শুরু থেকেই ছিল, সেটাই নির্বাচনের মাত্র তিন সপ্তাহ আগে  এমন একটা পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে যে আর হয়তো পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। আটকে গেছেন তিনি। ওয়াশিংটন পোস্টের ভাষায়, ‘ট্রাম্প তাঁর সীমায় পৌঁছে গেছেন। তাঁর আর কিছুর সম্ভাবনা নেই।

মুসলমানদের ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন তিনি। ফলে ট্রাম্পপ্রেম এই গোষ্ঠীর মধ্যে নেই। বাকি সংখ্যালঘু—লাতিন, কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যেও তিনি সাড়া ফেলতে পারেননি। সঙ্গে যোগ হয়েছে নারী ভোটার এবং কলেজ পড়ুয়া শ্বেতাঙ্গরা। জাতীয়ভাবে করা জরিপে দেখা যাচ্ছে, প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের তুলনায় দুই অঙ্কের সংখ্যায় পিছিয়ে পড়েছেন তিনি। ইলেকটোরাল ভোটের হিসাবেও এই পিছিয়ে পড়া অবস্থা পুনরুদ্ধার শুধু কঠিনই নয়, প্রায় অসম্ভব।

মুসলমানদের ট্রাম্পভীতি : ৯/১১-এর সময়টাকে যুক্তরাষ্ট্রের মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে ভীতিকর সময় হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। তবে সিএনএন পরিচালিত এক সাক্ষাৎকারমূলক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ওই সময়ের চেয়েও মুসলমানরা বেশি ভয় পাচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উত্থানের এই বছরটিকে। সিএনএনের তরফ থেকে ক্রমবর্ধমান মুসলিম অধ্যুষিত মিনেপলিস, নর্থ ভার্জিনিয়া ও স্টাটেন আইল্যান্ডের অধিবাসীদের সঙ্গে আলাপচারিতা থেকে উঠে এসেছে এ তথ্য। তারা প্রায় প্রত্যেকেই বলেছে, ৯/১১-এর চেয়ে কঠিন সময় পার করছে তারা। হামসা ওয়ারফা নামের এক ব্যক্তি বললেন, ‘আমার মেয়ে একদিন আমাকে বলল, বাবা, স্কুলে সবাই আমাকে স্কার্ফ পরা নিয়ে প্রশ্ন করছে। বিষয়টি হলো ৯/১১-এর পর মুসলিম বিদ্বেষ ছড়ানোর জন্য কোনো মোড়ল ছিল না। কিন্তু এখন আছেন। ঘৃণা ছড়ানোর ক্ষেত্রে যাঁকে চ্যাম্পিয়ন বলা যায়। ’ একসময় সোমালি উদ্বাস্তু বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নগরিক ওয়ারফা ‘মোড়ল’ বলতে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বুঝিয়েছেন। ট্রাম্প তাঁর প্রচার শুরুই করেছিলেন ঘৃণা ছড়িয়ে। গত ডিসেম্বরে তিনি মুসলমানদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দেন।

সিএনএন যেসব মুসলমানের সঙ্গে কথা বলেছে তারা প্রায় সবাই অবিশ্বাস, ক্ষোভ ও ভয়ের মধ্যে বাস করছে বলে জানিয়েছে। তারা বলছে, ট্রাম্পের কথা যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানদের অবস্থানকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। আবদি রহমান কাহিন নামের এক সোমালি আমেরিকান বললেন, ‘আমরা দুইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। একে তো ৯/১১-এ যা ঘটেছে, আর দ্বিতীয়ত এখন যা হচ্ছে। সবাই আমাদের দিকে সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকায়। যেন আমরা সবাই সন্ত্রাসী। ’ হাশেন আল-মেলিঙ্গি নামের এক মিসরীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান বললেন, ‘আমি হিলারিভক্ত নই। তিনি যা বলেন সবই বেদবাক্য—এমন মনে করি না। তবে তিনি ঐক্যের ডাক দিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন আর এই বিষয়টিই মুসলিম আমেরিকানদের আকৃষ্ট করেছে। ’

মিনিপলিসের মসজিদ আল নূর-এ জুমার নামাজপূর্ব খুদবায় কোনো প্রার্থী নয়, ইমাম শুধু সবাইকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছিলেন। কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে আমেরিকান মুসলমানরা কাকে ভোট দেবেন সে বিষয়ে সন্দেহের কোনো কারণ নেই। এ কারণেই ভোটের দিন যেন একজন মুসলমান ভোটারও বাদ না যান সেদিকে দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছিলেন তিনি। ইউএস মুসলিম কাউন্সিলের মতো বহু সংগঠনই এ বছর ভোটার নিবন্ধনে কাজ করছে। সংগঠনটি জানায়, এ বছর শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই অন্তত পাঁচ লাখ মুসলমান ভোটারের নিবন্ধন তারা সম্পন্ন করেছে। এ বছর মুসলিম ভোটারদের নিবন্ধনের হার অন্য যেকোনো বছরের বা সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি।

৯/১১-এর পর সে সময়ের প্রেসিডেন্ট হয়ে বুশ মুসলমানদের প্রতি ঘৃণা কমাতে উদ্যোগী হয়েছিলেন। ওই সময় বুশ বলেন, ইসলাম নয় সমস্যা হলো সন্ত্রাস। রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের সেই সুরেই এখন কথা বলছেন হিলারি।

জরিপে ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছেন ট্রাম্প : প্রায় সব জরিপেই এখন ট্রাম্প পিছিয়ে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা একক সংখ্যায়, বাকিগুলো দুই অঙ্কের সংখ্যায়। জর্জ ওয়াশিংটন ইউনির্ভাসিটি পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, আট পয়েন্টে এগিয়ে হিলারি (৪৭%-৩৯%)। এনবিসি/ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের জরিপে ১০ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন হিলারি। ট্রাম্পকে সমর্থনকারী ফক্স নিউজের জরিপেও ট্রাম্প সাত পয়েন্টে পিছিয়ে। জাতিগোষ্ঠীভিত্তিক এনবিসির আরেক জরিপে দেখা যায়, নারীদের মধ্যে হিলারির প্রতি সমর্থন ৫৫ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে ট্রাম্প ২০ পয়েন্টে পিছিয়ে। শেতাঙ্গদের মধ্যে ট্রাম্প এগিয়ে থাকলেও শিক্ষিত শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে হিলারির সমর্থন বেশি। লাতিনোদের প্রথম পছন্দ হিলারি (৭০%)। আফ্রিকান আমেরিকানদের মধ্যেও তাই (৭৭%)।

নির্বাচনের ফল মেনে নেবেন পেন্স : মাত্র দুই দিন আগেই নির্বাচন ব্যবস্থাকে জালিয়াতিপূর্ণ বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তবে তাঁর রানিংমেট মাইক পেন্স তাঁর সঙ্গে একমত নন এবং নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ তিনি নির্বাচনব্যবস্থাকে ত্রুটিপূর্ণ মনে করেন না। এর আগে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের রিপাবলিকান স্পিকার পল রায়ানও একই কথা বলেন।

পাঁচ দিনের প্রস্তুতি হিলারির : পরবর্তী ও শেষ প্রেসিডেনশিয়াল বিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৯ অক্টোবর লসএঞ্জেলেসে। বিতর্কটি সামনে রেখে ইতিমধ্যেই পাঁচ দিনের প্রস্তুতি শুরু করেছেন হিলারি ক্লিনটন। প্রচার সভা-সমাবেশও বন্ধ রেখেছেন তিনি। এর আগের দুটি বিতর্কেও লম্বা সময় নিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তিনি। ফলও পেয়েছেন। জরিপ বলছে, দুটিতেই তিনি জয় পেয়েছেন।

এমনিতেই ট্রাম্পের নানামুখী কেলেঙ্কারিতে হিলারি শিবির কিছুটা চাপমুক্ত। আর মাত্র ২২টি দিন নিয়ে কালক্ষেপণই তাদের বড় লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি অর্থাৎ ট্রাম্প এমন বেকায়দা অবস্থানে থাকলে চূড়ান্ত জয়ও তাদের ঝুলিতে আসবে বলেই ধারণা তাদের।


মন্তব্য