kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


শেখ হাসিনা-নরেন্দ্র মোদি বৈঠক

বাংলাদেশ-ভারত একে অন্যের পাশে থাকবে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



বাংলাদেশ-ভারত একে অন্যের পাশে থাকবে

গোয়ায় গতকাল বিমসটেক রিট্রিটের আগে করমর্দন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি : সংগৃহীত

উন্নয়নের প্রশ্নে একে অন্যের পাশে থাকবে দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী ভারত ও বাংলাদেশ। গতকাল রবিবার ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রাজ্য গোয়ায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই প্রতিশ্রুতি এসেছে।

ব্রিকস-বিমসটেক আউটরিচ সামিট শেষে আনুষ্ঠানিকা নৈশ ভোজের পর রাতে হোটেল লীলায় এ বৈঠক হয়।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব শহীদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘উন্নয়নের প্রশ্নে বাংলাদেশ ভারতের পাশে থাকবে। আর ভারতও বাংলাদেশের পাশে থাকবে। ’

এর আগে ব্রিকস-বিমসটেক আউটরিচ সামিটে দেওয়া ভাষণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রিকস-বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর টেকসই উন্নয়ন, শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য সংস্থা দুটির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় এই দুই সংস্থার সদস্য দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

একে অন্যের পাশে থাকবে : শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদির বৈঠক ‘অত্যন্ত’ সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে জানিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশের সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থানের প্রশংসা করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চেয়েছেন যে তিনি কিভাবে সফল হয়েছেন। ’

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জনসচেতনতার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে পারিবারিকভাবে সচেতনতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। মসজিদের ইমামরা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। জনগণের কাছ থেকেও সাড়া পাওয়া যাচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে উল্লেখ করেন। ’

পররাষ্ট্রসচিব বলেন, “বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সরকারপ্রধানকে বলেছেন, ‘উন্নয়নের পথে আমরা এক সাথে যাত্রা শুরু করেছি। ’ এ জন্য এক সাথে কাজ করার কথাও বলেন নরেন্দ্র মোদি। ”

বৈঠকে দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে থাকা তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে শহীদুল হক বলেন, “বৈঠকে এ বিষয়ে তেমন আলোচনা হয়নি। তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, ‘আমরা সব সমস্যা এক সাথে সমাধান করব’। ” বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘তিস্তার বিষয়ে আমরা আশাবাদী। ’

আরেক প্রশ্নের জবাবে শহীদুল হক বলেন, আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারতে দ্বিপক্ষীয় সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

টেকসই উন্নয়ন ও সন্ত্রাস দমনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে :  টেকসই উন্নয়ন, শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ব্রিকস ও বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে তিনি সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় এই দুই সংস্থার সদস্য দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। এ ছাড়া নিম্ন আয়ের দেশগুলোর সুযোগ-সুবিধার দিকে বিশেষ নজর দিতে ব্রিকস নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

গতকাল রবিবার ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিম রাজ্য গোয়ায় ব্রিকস-বিমসটেক আউটরিচ সামিটে দেওয়া ভাষণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব আহ্বান জানান। দুই সংস্থার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা স্থাপনে সুনির্দিষ্ট তিনটি প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেছেন, সহযোগিতার জন্য পারস্পরিক সম্ভাব্যতা ও যৌথ কর্মপন্থা নির্ধারণের এটাই সময়।

প্রধানমন্ত্রীর এই তিন প্রস্তাব হলো—১. মানসম্পন্ন ও টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া, ২. বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের জন্য বৃহত্তর সহযোগিতা কর্মসূচি চালু এবং ৩. স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে দুই জোটের মধ্যে সংলাপের আয়োজন করা।

টেকসই উন্নয়নের জন্য শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘টেকসই উন্নয়নে আমাদের সব প্রচেষ্টা শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর নির্ভরশীল। ’ তিনি আরো বলেন, ‘বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের যেকোনো কর্মকাণ্ডে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে। এই সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদ দমনেও আমাদের হাত মেলাতে হবে। ’

গত শনিবার গোয়ায় শুরু হওয়া অষ্টম ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেন এই জোটের সদস্য দেশ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট মিশেল তেমের, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর বিসমটেকভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দহল, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান-ওচা, আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানি, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চি আউটরিচ সামিটে অংশ নেন। সার্কভুক্ত দেশের মধ্যে শুধু পাকিস্তানকে ডাকা হয়নি এই সম্মেলনে।

এই সম্মেলনে যোগ দিতে গতকাল সকালে গোয়ায় পৌঁছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ব্রিকস ও বিমসটেকের নেতাদের একই টেবিলে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানান।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই দুই গ্রুপের মধ্যে সহযোগিতার লক্ষ্যে পারস্পরিক সম্ভাব্যতা ও যৌথ কর্মপন্থা আমরা কিভাবে নির্ধারণ করব তার স্বাক্ষর রাখার এটা এক সুযোগ ও যথার্থ সময়। ’

১৯৯৭ সালে বিমসটেক গঠনের উদ্দেশ্যের কথা উল্লেখ করে সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শেখ হাসিনা বলেন, সম্ভাবনাময় বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকার মানোন্নয়নে এই ফোরাম গঠন করা হয়। তিনি বলেন, এই অঞ্চল কৌশলগতভাবে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ অঞ্চলের দেশগুলোতে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। এ অঞ্চলে রয়েছে কর্মক্ষম যুবশক্তি, যা আগামী কয়েক দশক পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

শেখ হাসিনা বলেন, বিমসটেক অঞ্চলে ৩০০ গিগাওয়াটের বেশি হাইড্রোইলেকট্রিক এবং বঙ্গোপসাগরের বিপুল সমুদ্র সম্পদের সম্ভাবনা রয়েছে। এই সমুদ্র সম্পদের এখনো আহরণ ও বিশদ বর্ণনা তৈরি করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘টেকসই উন্নয়নের জন্য আমরা রূপান্তরের এজেন্ডা ২০৩০ বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ, উন্নয়ন, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বিমসটেক দেশগুলোর অর্থায়নে একই ধরনের সুযোগ রয়েছে। সম্ভাবনার সুযোগ গ্রহণে এবং আমাদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্রিকস ও বিমসটেক উভয়ের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ’

শেখ হাসিনা বলেন, বিমসটেকের বৃহত্তম অংশের জন্য মানসম্মত ও স্থিতিস্থাপক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রয়োজন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর প্রয়োজন এফডিআই থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ, উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন ইকুইটি বিনিয়োগ এবং পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি)।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন দেশব্যাপী ১০০ অর্থনৈতিক জোন (ইজেডএস) উন্নয়ন করছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। হাইটেক পার্ক, সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, ইলেকট্রনিক সিটির কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে, সেখানে বিনিয়োগকারীরা বিপুল সম্ভাবনার সুযোগ নিতে পারেন।

ব্রিকস কাঠামোর অধীন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নিম্ন আয়ের দেশগুলোর সম্ভাবনার প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার জন্য ব্রিকস দেশগুলোর প্রতি তিনি আহ্বান জানান।

বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনী সক্ষমতার উন্নয়নে বিমসটেক অঞ্চলের নজর দেওয়া প্রয়োজন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব এখন জ্ঞানার্জনের প্রতি দৃষ্টি নিবন্ধ করেছে। আমাদের বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য চাষাবাদে প্রযুক্তি সুবিধা, পানি, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজন। জলবায়ু পরিবর্তন মেকাবিলায় আমাদের উন্নত প্রযুক্তি গ্রহণ করা প্রয়োজন। ’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ব্রিকস ও বিমসটেক উভয়ই টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে আলাপ-আলোচনায় যুক্ত হতে পারে। এটি বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনের প্রবণতা রীতির সঙ্গে আমাদের মূল্য ও বাজার সমতার সংযোগের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে। ’

এর আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী লক্ষ্মীকান্ত পারসেকারের দেওয়া মধ্যাহ্ন ভোজে অংশ নেন। ব্রিকস ও বিমসটেক নেতাদের সম্মানে এ মধ্যাহ্ন ভোজের আয়োজন করা হয়। মধ্যাহ্ন ভোজে শেখ হাসিনার সঙ্গে বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর নেতারা শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

বিমসটেক এফটিএ বাস্তবায়নে জোর : এদিকে বিকেলে বিমসটেক নেতাদের রিট্রিটে শেখ হাসিনা বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য বাড়াতে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (এফটিএ) গঠনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ‘এফটিএ বাস্তবায়নের পক্ষে আমাদের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকা প্রয়োজন। কারণ এতে আন্তআঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে এবং বিমসটেক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাবে। আগামী বছর বিমসটেকের ২০তম বার্ষিকীতে এফটিএ সম্পর্কিত চারটি চুক্তি চূড়ান্ত অনুমোদনের লক্ষ্যমাত্রা আমরা নির্ধারণ করতে পারি। ’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘গত ২০ বছরে আমাদের দুই অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগে আমরা অগ্রগতি অর্জন করেছি। তবে অগ্রগতি মন্থর হলেও আমরা গ্রাউন্ডওয়ার্ক সম্পন্ন করেছি। এখন সময় এসেছে এ প্রক্রিয়াকে সংহত করা। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিমসটেককে কিভাবে আরো কার্যকর ও ফলপ্রসূ করতে চাই এখন তা চিন্তা করার সময় এসেছে। বিমসটেকের আওতায় আমরা ১৪টি সহযোগিতার খাত চিহ্নিত করেছি। আমি মনে করি, আগামী পাঁচ বছর বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি, যোগাযোগ এবং সন্ত্রাস দমনের মতো বিষয়গুলোর প্রতি আরো বেশি আলোকপাত করা দরকার। এ জন্য এসব গুরুত্বপূর্ণ খাতে নিয়মিত মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক জরুরি। ’

গোয়ার লীলা হোটেলে এই রিট্রিটের আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিসমটেকভুক্ত দেশগুলোর নেতাদের স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে একে একে সবার সঙ্গে তিনি করমর্দন করেন এবং ছবি তোলেন। এরপর সবাই মিলে গ্রুপ ফটোসেশন হয়।

গোয়ায় শেখ হাসিনাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা : এদিকে ব্রিকস-বিমসটেক লিডারস আউটরিচ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে গতকাল সকালে গোয়ায় পৌঁছলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

সকাল ৮টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। বিমানটি ভারতের স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ১০টায় গোয়ায় নেভাল বেইজ এয়ারপোর্টে অবতরণ করে। সেখানে তাঁকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। ভারতের কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর, গোয়া রাজ্য সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী এলিনা সালদানহা, গোয়া সরকারের সচিব (কো-অপারেশন) পদ্মা জেসওয়াল, দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী, মুম্বাইয়ে ডেপুটি হাইকমিশনার সামিনা নাজ বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। সেখানে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল শেখ হাসিনাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। তাঁর সম্মানে আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনার।

শেখ হাসিনা আতিথেয়তা গ্রহণ করায় আমি সম্মানিত : মোদি

ব্রিকস-বিমসটেক আউটরিচ সম্মেলনে যোগ দেওয়ায় বাংলায় টুইট করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গতকাল শেখ হাসিনা গোয়া রাজ্যে পৌঁছার পর পরই মোদির ওই টুইট আসে।

টুইটে মোদি লিখেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার আতিথেয়তা গ্রহণ করায় আমি সম্মানিত। ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে মজবুত করার জন্য আপনার ভূমিকাকে ধন্যবাদ জানাই। ’ দুই দিনের সফর শেষে আজ সোমবার শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। সূত্র : বাসস ও বিডিনিউজ।


মন্তব্য