kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অ্যাম্বুল্যান্স নৈরাজ্য দেশজুড়ে

তৌফিক মারুফ   

১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



অ্যাম্বুল্যান্স নৈরাজ্য দেশজুড়ে

মুন্সীগঞ্জ থেকে আসা সরকারি হাসপাতালের এই লক্কড়ঝক্কড় অ্যাম্বুল্যান্সটিকে গতকাল ঢাকা মেডিক্যালের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ছবি : কালের কণ্ঠ

মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামনে থেমে আছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের একটি অ্যাম্বুল্যান্স। ভেতরে চালক নেই, রোগীও নেই।

কিছুক্ষণ পর চালক এসে পাশে দাঁড়ান। অ্যাম্বুল্যান্সটি এখানে কেন—জানতে চাইলে চালক বলেন, ‘কাজে আইছি’। ‘কী কাজ, কোনো রোগী নিতে এসেছেন?’ এবার চালক খেপে গিয়ে বললেন, ‘রোগী লইয়া কেউ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আহে? তাইলে তো হাসপাতালে যাইতাম। হাসপাতালের এক স্যারেরে লইয়া আইছি। উনি ভেতরে গেছেন। ’

কোন স্যার এসেছেন?—প্রশ্ন শুনে চালকের জবাব, ‘লাগলে আপনে খুঁইজ্যা লন। আমি কইতে পারুম না’, বলেই চালক হাতের মোবাইল ফোনে নম্বর টিপতে টিপতে পাশের বাজারের দিকে চলে যান। পরে আরো কিছুক্ষণ ওই অ্যাম্বুল্যান্সটির কাছে অপেক্ষা করেও চালক বা অন্য কোনো আরোহীর দেখা মেলেনি।

গতকাল রবিবার ওই সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভেতরে আরো তিনটি অ্যাম্বুল্যান্স দেখা যায়। চালকদের দেখা না মিললেও উপস্থিত অন্যান্য পরিবহনের চালকরা জানান, প্রতিদিনই বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা দাপ্তরিক বিভিন্ন কাজে এভাবে অ্যাম্বুল্যান্স নিয়ে আসেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে। একটু পরই অধিদপ্তরের প্রধান ফটকের বাইরের পার্কিংয়ে দেখা যায়, রাজধানীর গ্রিন রোডের লাইফ অ্যান্ড লাইট নামের একটি হাসপাতালের অ্যাম্বুল্যান্স। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভেতর থেকে এক ব্যক্তি বেশ কিছু ফাইলপত্র হাতে নিয়ে ওই অ্যাম্বুল্যান্সে উঠতেই সেটি ওই স্থান ত্যাগ করে।

গত শুক্রবার সকালে ভোলার চরফ্যাশন থেকে ভোলা সদরের দিকে যেতে দেখা যায়, ‘আলিফ অ্যাম্বুল্যান্স’ সার্ভিসের একটি নতুন গাড়ি। চরফ্যাশনের সিটি ডায়াগনস্টিকের নামে ব্যবহৃত ওই অ্যাম্বুল্যান্সটির ভেতরে রোগী থাকলেও চালক পথে অ্যাম্বুল্যান্স থামিয়ে ভোলাগামী একাধিক সাধারণ যাত্রী তোলেন।

অ্যাম্বুল্যান্সে কেন সাধারণ যাত্রী তুলছেন—প্রশ্ন করা হলে চালক বলেন, ‘এই গাড়িটি কেনা হয়েছিল রেন্ট-এ কারের ব্যবসার মাইক্রোবাস হিসেবে। কিন্তু মালিক মিজানুর রহমান পরে এটিকে অ্যাম্বুল্যান্সে রূপ দেন। এখন রোগীও টানা যায় আবার যাত্রীও টানা যায়। পথেঘাটে পুলিশের ঝামেলাও কম থাকে। সব দিক থেকেই লাভ হয়। ভাড়াও পাওয়া যায় সাধারণ মাইক্রোবাসের চেয়ে বেশি। ’

গত শনিবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে একটি বেসরকারি অ্যাম্বুল্যান্সচাপায় চারজনের প্রাণহানির ঘটনার পর অ্যাম্বুল্যান্স সার্ভিসের হালচাল নিয়ে প্রশ্ন ওঠে সবার মধ্যে। কৌতূহল জাগে অ্যাম্বুল্যান্সগুলো কিভাবে চলছে না চলছে তা নিয়ে। এসব অ্যাম্বুল্যান্স প্রকৃতপক্ষে অ্যাম্বুল্যান্স কি না তা নিয়েও চলে আলোচনা। এসব অনুসন্ধানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যেতেই দেশের স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনার কেন্দ্রীয় দপ্তরেই চোখে পড়ে অ্যাম্বুল্যান্সের অপব্যবহারের চিত্র। শুধু তাই নয়, সারা দেশেই সরকারি বিভিন্ন হাসপাতালের অ্যাম্বুল্যান্সগুলো বেশির ভাগ সময়ই ব্যক্তিগত পরিবহন হিসেবে ব্যবহার করেন অনেক কর্মকর্তা। ফলে জরুরি প্রয়োজনে রোগীরা তা পায় না। বেসরকারি অনেক হাসপাতাল ও ক্লিনিকের কর্মকর্তারাও একইভাবে ব্যক্তিগত গাড়ির মতো এখানে-সেখানে নিয়ে যান অ্যাম্বুল্যান্স। এমনকি কোনো কোনো প্রাইভেট হাসপাতালের বাজারের পণ্য আনা-নেওয়ার কাজেও ব্যবহার করতে দেখা যায় অ্যাম্বুল্যান্স। মাদকদ্রব্য বহনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে অ্যাম্বুল্যান্স আটকের ঘটনাও ঘটেছে কয়েক স্থানে। আবার রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় হরতাল বা অবরোধের মধ্যে অ্যাম্বুল্যান্সে প্রকাশ্যেই যাত্রী বহন করতে দেখা গেছে ঢাকা মহানগরীতে।

অন্যদিকে সরকারি হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় অ্যাম্বুল্যান্স না পেয়ে রোগীরাও ঝুঁকে পড়ে প্রাইভেট অ্যাম্বুল্যান্স সার্ভিসের দিকে। ফলে রোগীর সেবার চেয়ে এখন প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ঘিরে জমে উঠেছে অ্যাম্বুল্যান্সের রমরমা ব্যবসা। রোগীদের জিম্মি করে এসব অ্যাম্বুল্যান্সে ইচ্ছেমতো টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায় অহরহ। আর লাশ টানার ক্ষেত্রে ভাড়া বেড়ে যায় আরো বেশি।

তবে এসব অ্যাম্বুল্যান্সের বেশির ভাগই নামসর্বস্ব বলে জানান জরুরি সেবা বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে অ্যাম্বুল্যান্সের ভেতরে যেসব উপকরণ থাকা জরুরি, বেশির ভাগেরই তা নেই। কেবল ওপরে লাল-নীল বাতি আর সাইরেন এবং ভেতরে দায়সারা ধরনের একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার রেখে দিয়েই চালানো হয় অ্যাম্বুল্যান্স। দিনে দিনে বেড়ে চলছে প্রাইভেট অ্যাম্বুল্যান্স সার্ভিসের ব্যবসা। এর অনেক অ্যাম্বুল্যান্সেরই নেই প্রয়োজনীয় নিবন্ধন। মাইক্রোবাসকেই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অ্যাম্বুল্যান্স বানিয়ে চালানো হয়। সরকারি কোনো কোনো হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও এসব প্রাইভেট অ্যাম্বুল্যান্সের মালিক এবং ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এমনকি গত শনিবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যে অ্যাম্বুল্যান্সের চাপায় প্রাণহানি ঘটেছে সেটির মালিক ওই হাসপাতালেরই এক কর্মচারী বলে জানায় হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরাই।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, অ্যাম্বুল্যান্স পরিচালনার ব্যাপারে একটি নীতিমালা করতে ইতিপূর্বে চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু সফল হওয়া যায়নি। এখন আবার নতুন করে সেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করা যায়, দ্রুত সময়ের মধ্যে নীতিমালা হলে সমস্যার অনেকটাই সমাধান হয়ে যাবে। এ ছাড়া ‘১৬২৬৩’ নম্বরে ফোন করলে যখন তখনই অ্যাম্বুল্যান্স পাওয়া যায়।

জরুরি সেবা নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা বলেন, ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল সার্ভিসের মধ্যে সবার আগে হচ্ছে প্রি-হসপিটাল কেয়ার। এরপর হলো হসপিটাল কেয়ার। রোগীকে হাসপাতালে প্রবেশ করানোর আগের চিকিৎসাটুকু খুবই জরুরি। এটির অভাবে বছরে বহু লোকের মৃত্যু ঘটে। একটি অ্যাম্বুল্যান্সে ভেন্টিলেটর, অক্সিজেন, কার্ডিয়াক মনিটর, ইমার্জেন্সি ড্রাগসহ অন্যান্য জীবন রক্ষাকারী উপকরণ ও আইসিইউ-ইনটেনটিভ কেয়ার ইউনিট থাকা জরুরি। দেশের কিছু অ্যাম্বুল্যান্সে এগুলো থাকলেও বেশির ভাগেরই এসবের কিছুই নেই। অ্যাম্বুল্যান্সে একজন প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও একজন নার্স থাকাও জরুরি। তবে এ দেশে জনবল সংকটের কথা বিবেচনায় রেখে কমপক্ষে অ্যাম্বুল্যান্সে একজন প্যারামেডিক্স থাকা অপরিহার্য।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআরটিএ সূত্র জানায়, চলতি বছরের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত হিসাবে সারা দেশে নিবন্ধনকৃত অ্যাম্বুল্যান্সের সংখ্যা চার হাজার ৫২৭টি। এর মধ্যে ঢাকাতেই রয়েছে দুই হাজার ৬৩৯টি। এর মধ্যে ২০১০ সাল পর্যন্ত নিবন্ধিত ছিল দুই হাজার ৭৯৩টি, বাকি এক হাজার ৭৩৪টির নিবন্ধন হয়েছে পরবর্তী সময়ে। এর মধ্যে একই বছরে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ৪৮০টি অ্যাম্বুল্যান্স নিবন্ধন নেয় ২০১৫ সালে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেসরকারি অ্যাম্বুল্যান্স ব্যবসা পরিচালনার সঙ্গে জড়িতদের কাছ থেকে জানা যায়, মাইক্রোবাস বা জিপে যন্ত্রাংশ লাগিয়ে অ্যাম্বুল্যান্স বানানো হচ্ছে। পুরান ঢাকা ও বাংলামোটরসহ বিভিন্ন এলাকায় এখন মোটর যন্ত্রাংশের দোকানগুলোতে লাইট ও সাইরেনের যন্ত্রাংশ পাওয়া যায়। এ ছাড়া স্ট্রেচার, অক্সিজেন সিলিন্ডার লাগিয়ে অল্প টাকা খরচ করলেই একটি মাইক্রোবাসকে অ্যাম্বুল্যান্স বানিয়ে ফেলা যায়। ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের জন্য নিবন্ধিত মাইক্রোবাসও অ্যাম্বুল্যান্স হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি গতকাল স্বাস্থ্য অধিপ্তরের ভেতরে দুটি পরিবহনের গায়ে অ্যাম্বুল্যান্স লেখা না থাকলেও ওপরে অ্যাম্বুল্যান্সের আদলেই শব্দ যন্ত্র ও লাইট লাগানো দেখা যায়। স্ট্রেচার, অক্সিজেন সিলিন্ডার লাগিয়ে ৫০-৬০ হাজার টাকা খরচ করলেই একটি মাইক্রোবাসকে অ্যাম্বুল্যান্স বানিয়ে ফেলা যায়।

বিআরটিএ সূত্র জানায়, সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠান নিজেদের নামে অ্যাম্বুল্যান্স নিবন্ধন করায়। এ ছাড়া শ্রমিক-কর্মীদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং শিল্প-কারখানাও প্রতিষ্ঠানের নামে অ্যাম্বুল্যান্স নিবন্ধন করায়। অ্যাম্বুল্যান্সের নিবন্ধন পাওয়ার শর্তাবলি সাধারণ যানবাহন নিবন্ধনের মতোই। নিবন্ধন ফিও সাধারণ যানের মতো। ফলে খুব সহজেই একটি মাইক্রোবাস বা জিপ অ্যাম্বুল্যান্স হিসেবে চলাচলের অনুমতি পেয়ে যায়। ১৯৮৩ সালে মোটরযান বিধি প্রণয়নের সময় অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যাপক প্রচলন ছিল না। ফলে ওই বিধিতে অ্যাম্বুল্যান্স নিবন্ধনের বিষয়ে আলাদা নিয়ম উল্লেখ নেই। যদিও নিবন্ধনের আওতায় দেশে ২০ ধরনের সড়ক পরিবহনের মধ্যে সবার প্রথমেই রয়েছে অ্যাম্বুল্যান্সের নাম।

বিআরটিএর তথ্য মতে, অ্যাম্বুল্যান্স হিসেবে নিবন্ধিত গাড়িগুলো ‘ছ’ সিরিয়ালের হয়। তবে পথেঘাটে সহজেই চোখে পড়ে ‘গ’ ও ‘চ’ সিরিয়ালের অ্যাম্বুল্যান্স লেখা মাইক্রোবাস। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, মিটফোর্ড হাসপাতাল, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, পঙ্গু হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালের আঙিনায় বা সামনে ভিড় করে থাকে এমন নামসর্বস্ব অনেক অ্যাম্বুল্যান্স। এগুলোর মধ্যে অনেকগুলোয় আবার সতর্কীকরণ বাতি, সাইরেন, অক্সিজেন সিলিন্ডারও নেই। শুধু একটি স্ট্রেচার রাখা। কয়েকটি আবার পুরনো, লক্কড়ঝক্কড়।

ঢাকার কয়েকটি সরকারি হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, হাসপাতাল গেটে দাঁড়িয়ে থাকা বেশির ভাগ অ্যাম্বুল্যান্সেই সতর্কীকরণ বাতি, সাইরেন, অক্সিজেন সিলিন্ডার নেই। অনেক অ্যাম্বুল্যান্সে শুধু একটি স্ট্রেচার রাখা হয়েছে। এসব অ্যাম্বুল্যান্সে ডাক্তার দূরে থাক, একজন নার্সেরও উপস্থিতি নেই। দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালেও মাইক্রোবাস বা জিপে যন্ত্রাংশ বসিয়ে অ্যাম্বুল্যান্সে রূপান্তর করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি কিছু ভালো হাসপাতালের অ্যাম্বুল্যান্সে আধুনিক ও উন্নত ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এসব অ্যাম্বুল্যান্স ব্যয়বহুল হওয়ায় সবার পক্ষে ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়ে।

জানতে চাইলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসাপতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিজানুর রহমান কালের কণ্ঠকে জানান, শনিবারের ঘটনার পর পত্র-পত্রিকার খবর অনুসারে ইতিমধ্যেই হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারীকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি একটি তদন্ত কমিটিও করা হয়েছে। তবে হাসপাতালের কেউ ওই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে কোনো অভিযোগ বা প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

মিজানুর রহমান জানান, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সরকারি অ্যাম্বুল্যান্স আছে মাত্র পাঁচটি। কিন্তু রোগী ও লাশের জন্য প্রতিদিন কমপক্ষে ৫০-৬০টি অ্যাম্বুল্যান্স দরকার, যা সরকারের একার পক্ষে একটি হাসপাতালে সরবরাহ দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে প্রাইভেট অ্যাম্বুল্যান্সগুলোর সহায়তা নেয় রোগী ও তাদের স্বজনরা। এ ক্ষেত্রে এগুলোর মান নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। কিন্তু এটা এককভাবে কোনো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাজ নয়। এ জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া দরকার।

ডাক্তার-কর্মকর্তাদের অ্যাম্বুল্যান্স ব্যবহারের বিষয়ে পরিচালক বলেন, এটা ঠিক হচ্ছে না, সেটা বুঝি। কিন্তু যে কর্মকর্তারা এগুলো জরুরি প্রয়োজনে নেন তাঁদের অন্য কোনো পরিবহন দেওয়া হয়নি। আমি এ জন্য বহুবার মন্ত্রণালয়ে লেখালেখি করেও কোনো সাড়া পাচ্ছি না। নিরুপায় হয়ে মাঝেমধ্যে তাই এগুলো ব্যবহার করেন কোনো কোনো কর্মকর্তা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, সরকারি অ্যাম্বুল্যান্সের সংকট কমানোর চেষ্টা চলছে। কাল (আজ) কয়েকটি অ্যাম্বুল্যান্স দেওয়া হবে বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে।


মন্তব্য