kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বাংলাদেশ-চীন বিজনেস ফোরামের বৈঠক

১৩৬০ কোটি ডলারের চুক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



১৩৬০ কোটি ডলারের চুক্তি

চীনের অর্থায়নে বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্য চীনে রপ্তানি করে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৈষম্য দূর করা সম্ভব বলে মনে করেন বাংলাদেশ সফররত চীনের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডের (সিসিপিআইটি) ভাইস চেয়ারম্যান চেন জু। গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ-চায়না বিজনেস ফোরামের বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।

চীন ও বাংলাদেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক বাড়াতে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে এ বৈঠক হয়।

বৈঠকে দুই দেশে ১৫টি করে মোট ৩০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এক হাজার ৩৬০ কোটি ডলারের চুক্তি সই হয়। গতকাল রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে এ চুক্তি হয়। চুক্তির আওতায় অবকাঠামো, নির্মাণ, বিদ্যুৎ, যোগাযোগসহ বেশ কয়েকটি খাত রয়েছে।  

বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এবং চীনের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড (সিসিপিআইটি) এ বৈঠকের আয়োজন করে।

এফবিসিসিআই সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমাদের সভাপতিত্বে আয়োজিত বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। এতে চীনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সমপ্রসারণ বিষয়ক কাউন্সিলের (সিসিপিআইটি) ভাইস প্রেসিডেন্ট চেন জু ছাড়াও দেশটির ৭০টি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের ১০০ ব্যবসায়ী ও বাংলাদেশের ১৯টি প্র্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।

বাংলাদেশে চীনের একক কিংবা যৌথ বিনিয়োগের সম্ভাবনা উল্লেখ করে চেন জু বলেন, উৎপাদনশীল খাতসহ বাংলাদেশের বেশ কিছু খাতে চীনের বিনিয়োগ রয়েছে। বিসিআইএম ও এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকে (এআইআইবি) বাংলাদেশ ও চীনের যুক্ত থাকার সুবিধা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের রয়েছে প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনার দক্ষতা। এখানে চীনের একক কিংবা যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আস্থা নিয়ে এ দেশে বিনিয়োগ করব। আমাদের এ প্রতিনিধিদলে অনেক উদ্যোক্তা রয়েছেন, যাঁরা এ দেশে বিনিয়োগ করতে চান। নির্মাণ, টেক্সটাইল, জাহাজ নির্মাণ, অটোমোবাইলসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা রয়েছে। চীনের অর্থায়নে বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্য চীনে রপ্তানি করে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৈষম্য দূর করা সম্ভব। আমরা বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে সহায়তা করতে চাই। আমাদের প্রযুক্তি ও দক্ষতা বাংলাদেশের সঙ্গে শেয়ার করতে চাই। ’

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ চীনকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের বিনিয়োগনীতি উদার ও আকর্ষণীয়। এখান থেকে শতভাগ পুঁজি ফেরত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। চীনের জন্য চট্টগ্রামে বরাদ্দ দেওয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ করলে তারা লাভবান হবে। বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমারের সমন্বয়ে (বিসিআইএম) প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডর বাস্তবায়িত হলে চীন-বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্ভাবনা আরো উজ্জ্বল হবে। ’ বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চীন আমাদের অনেক পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছিল। তবে প্রায় সব পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে তারা ইতিবাচক মত দিয়েছে। তবে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বিশাল বাণিজ্য হলেও এর প্রায় পুরোটাই চীনের অনুকূলে। ’

বৈঠকে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী নেতারা এ দেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সুবিধা তুলে ধরে চীনকে বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের আহ্বান জানান। আব্দুল মাতলুব আহমাদ বলেন, ‘বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। আমাদের বিনিয়োগনীতিও উদার। বিদেশিদের বিনিয়োগের অর্থ বাংলাদেশে নিরাপদ। ’

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশে অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, আবাসনসহ অন্যান্য শিল্প খাতে চীনের বিনিয়োগ রয়েছে। একক কিংবা যৌথ উদ্যোগে গবেষণা ও উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, প্রযুক্তি, উৎপাদনমুখী শিল্প, সেবা খাত, ই-কমার্স, আবাসন ও পর্যটন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বরাদ্দ দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, চীনের উদ্যোক্তারা এতে বড় বিনিয়োগ করতে পারেন। এর মাধ্যমে উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের উপকৃত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিনিয়োগ কিংবা ব্যবসার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের মতবিরোধ দেখা দিলে তা সমাধান কী উপায়ে করা যাবে—চীনের একজন উদ্যোক্তার এমন প্রশ্নে মাতলুব আহমাদ বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এ দেশের আইন অনুযায়ী এবং অন্য দেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আদালতের মানদণ্ড অনুযায়ী বিরোধ নিষ্পত্তি হবে।

বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সব ধরনের সুবিধা পেয়ে থাকেন। এ সময় তিনি জানান, বাংলাদেশ চীনে ৮০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানির বিপরীতে আমদানি করে ৯৬৫ কোটি ডলারের পণ্য। এ বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

এ সময় বাংলাদেশের ওষুধ ও গার্মেন্ট খাতের অগ্রগতি তুলে ধরে আলাদা দুটি ভিডিও উপস্থাপনা তুলে ধরেন যথাক্রমে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মোক্তাদির ও ইপিলিয়ন গ্রুপের সিএসআর বিভাগের প্রধান রেজাউল কবির। অন্যদিকে চীনের ইলেকট্রিক ও মেশিনারি খাতের ওপরও বিস্তারিত তুলে ধরা হয় দেশটির ব্যবসায়ী নেতাদের পক্ষ থেকে।

এ সময় এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহসভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন ছাড়াও উভয় দেশের ব্যবসায়ী নেতারা বক্তব্য দেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে ১৮ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বাণিজ্য চুক্তি হয়।


মন্তব্য