kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

স্বাগত শি চিনপিং

আরিফুর রহমান   

১৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



স্বাগত শি চিনপিং

দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিতে ২২ ঘণ্টার ঝটিকা সফরে আজ সকালে ঢাকায় পা রাখছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং। বাংলাদেশে আসার আগের দিন কম্বোডিয়াতে গিয়েও একই বার্তা দিয়েছেন তিনি।

৩০ বছর পর মন্ত্রী, ব্যবসায়ীসহ ২২০ জন প্রতিনিধি নিয়ে ঢাকায় আসছেন চীনের কোনো প্রেসিডেন্ট। ফলে সরকারি দল, রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, সুধীসমাজসহ বিভিন্ন মহলে তৈরি হয়েছে নতুন এক প্রত্যাশা। তাঁর এই সফরে ২৫টিরও বেশি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার আভাস দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, যার আর্থিক পরিমাণ হবে কয়েক বিলিয়ন ডলার। আজ শুক্রবার বিকেল ৪টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সব চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাগ্রিমেন্ট সই হবে। এর আগে সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চীনের প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানাবেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতে, শি চিনপিংয়ের ঢাকা সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা নতুন যুগে পা রাখবে। বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু এ দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরদার হবে। চীনের একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

১৯৮৬ সালে দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট লি জিয়ানিয়েন সর্বশেষ ঢাকা সফর করেছিলেন। এরপর দুই দেশের মধ্যকার ৪০ বছরের কূটনৈতিক সম্পর্ক উদ্যাপন উপলক্ষে গত বছর শি চিনপিংয়ের ঢাকায় আসার কথা থাকলেও পরে তা পেছানো হয়। তাঁর এই সফরকে পর্যবেক্ষণে রেখেছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র। ভূরাজনৈতিক কারণে এখন বিশ্বের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। বঙ্গোপসাগরসহ এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ রাখতে সবাই বাংলাদেশকে কাছে চায়। এ সফরে শি চিনপিং রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ছাড়াও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে কথা রয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায় ঢাকা থেকে বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে যাবেন তিনি।

শি চিনপিংয়ের সফর ঘিরে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও নীতিনির্ধারকদের মধ্য দেখা দিয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য ও উদ্দীপনা। তাঁরা বলছেন, তাঁর ঢাকা সফর মাইলফলক হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত সড়কে শি চিনপিংয়ের যে পোস্টার লাগানো হয়েছে, তাতে বিশ্ব অর্থনীতিতে দ্বিতীয় শক্তিধর দেশ চীনকে আখ্যা দেওয়া হয়েছে ‘সময়ের পরীক্ষিত বন্ধু’ হিসেবে।

জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, শি চিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরের প্রধান আকর্ষণই থাকবে অবকাঠামো উন্নয়নে দেশটি কী করতে চায়, এর ওপর। কারণ, তিনি এর আগে পাকিস্তান, মিয়ানমারসহ আফ্রিকার যেসব দেশে গিয়েছেন, সেসব দেশে অবকাঠামো উন্নয়নে বড় ধরনের চুক্তি করেছেন। দেলোয়ার হোসেন বলেন, এ সফরে গভীর সমুদ্রবন্দর একটা পর্যায়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা অব্যাহত আছে। এখন অর্থনৈতিক সহযোগিতা কতটুকু এগিয়ে নেওয়া যায়, সেটিই দেখার বিষয়। তাঁর মতে, আঞ্চলিক রাজনীতির অংশ হিসেবে বলা যেতে পারে, ভারতের সঙ্গে বর্তমান সরকারের সম্পর্ক অনেক ভালো। তাই ভারতকে এড়িয়ে সরকার চীনের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করতে চাইছে, এমনটি ভাবা ঠিক হবে না।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, শি চিনপিংয়ের ঢাকা সফরে ২৫টিরও বেশি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। কর্মকর্তারা আশা করছেন, এর ফলে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার আরো বাড়বে। এ ছাড়া ভৌত অবকাঠামো বিশেষ করে সড়ক, সেতু, রেল যোগাযোগ, কৃষিসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরো গভীর হবে। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে সমুদ্রসম্পদ আহরণসহ দুর্যোগ মোকাবিলা, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে নতুন মাত্রা যোগ হবে।

দুই দেশের শীর্ষ নেতার উপস্থিতিতে আজ বেশ কয়েকটি চুক্তি সই হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কর্ণফুলী নদীর নিচ দিয়ে টানেল নির্মাণ প্রকল্প। এতে চীন সরকার সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে। ঢাকা থেকে টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে শেখ হাসিনা ও শি চিনপিং এর ভিত্তিপ্রস্তর উন্মোচন করবেন। এ ছাড়া পদ্মা নদী থেকে পানি শোধন করে রাজধানীতে সরবরাহের জন্য নেওয়া পদ্মা-যশলদিয়া প্রকল্প ও বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের জন্য ছয়টি জাহাজ কেনা প্রকল্পের ঋণচুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। বিদ্যুতে ডিপিডিসি আর পিজিসিবিকে শক্তিশালীকরণে চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনের জন্য ৭৭৪ একর জমির ওপর অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজও শেখ হাসিনা ও শি চিংপিংয়ের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।

বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারকও সই হবে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো যেকোনো দুর্যোগ প্রতিরোধে পারস্পরিক সহযোগিতা। অন্যগুলোর মধ্যে রয়েছে শিল্প উৎপাদনবিষয়ক রূপরেখা, বিনিয়োগ উৎপাদনশীলতা সক্ষমতা বাড়ানো এবং তিনটি সেতু নির্মাণ। বাংলাদেশের জন্য আট কোটি ডলারের একটি অনুদান চুক্তিও হওয়ার কথা রয়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্র বলছে, এ অর্থ বাংলাদেশ সরকার যেকোনো খাতে খরচ করতে পারবে। এর আগে ২০১০ সালে বাংলাদেশকে পাঁচ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছিল দেশটি। আজকের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে চীনের কাছে ২৫ প্রকল্পে দুই হাজার কোটি ডলার বা এক লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা চাইবে বাংলাদেশ। দুই দেশের নীতিনির্ধারকদের বৈঠক শেষে এ বিষয়ে একটি ঘোষণা আসতে পারে। ২৫ প্রকল্পের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সীতাকুণ্ড-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ এক্সপ্রেসওয়ে ও কোস্টাল সুরক্ষা, ঢাকা-সিলেট চার লেন মহাসড়ক ও ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবেই ভালো। চীন বিশ্বের দ্বিতীয় অর্থনৈতিক শক্তি। ফলে দেশটির প্রেসিডেন্টের সফরের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে ইতিবাচক সাড়া পড়বে। সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, অর্থনীতির পাশাপাশি এ অঞ্চলে চীনের রাজনৈতিক শক্তিও আছে। তবে এ সফরে রাজনীতির চেয়ে অর্থনৈতিক বিষয়টিই বেশি প্রাধান্য পাবে। সে ক্ষেত্রে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশ যেসব চুক্তি ও এমওইইউ করবে, তাতে একটু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যাতে দেশের স্বার্থ বজায় থাকে। একই সঙ্গে নিরাপত্তার বিষয়টিও দেখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র বলছে, চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের বাইরে বেশ কিছু বিষয় নিয়ে দুই দেশের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আলোচনা হবে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর এবং বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যে (বিসিআইএম) অর্থনৈতিক করিডর। চীনের প্রেসিডেন্ট ২০১৩ সাালে ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। যার আগের নাম ছিল ‘সিল্ক রোড’। বাংলায় যার নাম ‘রেশম পথ’। এটি নির্মিত হলে এশিয়ার সঙ্গে ইউরোপের সড়ক ও রেল যাতায়াত সহজ হয়ে যাবে। ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড প্রকল্পে ৬০টি দেশ সম্পৃক্ত। আজ শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোডের বিষয়ে সহযোগিতা চাইবেন শি চিনপিং। এ ছাড়া পটুয়াখালীর পায়রায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণেও আগ্রহ দেখাবে চীন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ-চীন, মিয়ানমার ও ভারতের মধ্যকার অর্থনৈতিক করিডরের বিষয়েও সরকারের সহযোগিতা চাইবেন দেশটির প্রেসিডেন্ট।

শি চিনপিংয়ের সফরে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার বিষয়েও আলোচনা হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, বর্তমানে চীন থেকে ৯০০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করে বাংলাদেশ। আর চীন বাংলাদেশ থেকে কেনে মাত্র ৭২ কোটি ডলারের পণ্য। পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চীন থেকে আমাদের আমদানি বেশি হবে—এটাই স্বাভাবিক। তবে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে চীনের ব্যবসায়ীদের এ দেশে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। ’

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চীনের দেওয়া ঋণের সুদ কমানোর অনুরোধ জানানো হবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। বর্তমানে এ হার ২ শতাংশ। এ ছাড়া কমিটমেন্ট ও ম্যানেজমেন্ট ফি আরো দশমিক ৫০ শতাংশ। সুদের হার দেড় শতাংশে নামিয়ে আনার অনুরোধ করবে ঢাকা। একই সঙ্গে চীন থেকে ঠিকাদার নিয়োগের যে শর্ত রয়েছে, সেটিও শিথিলের অনুরোধ থাকবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ৪০ বছর পেরিয়ে গেছে। এ সময়ের মধ্যে এখনই দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক। এখনই সময় বিরাজমান সম্পর্ককে আরো বাড়ানো। তাই শি চিনপিংয়ের ঢাকা সফর বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ বলেও মত দেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) জ্যেষ্ঠ গবেষক ড. মোহাম্মদ ইউনূস কালের কণ্ঠকে বলেন, চীন যদি অবকাঠামো উন্নয়নে বড় ধরনের বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়, তাহলে তা বাংলাদেশের জন্য বেশি উপকারী হবে। তিনি বলেন, বিসিআইএমের বিষয়ে সব দেশ একমত নয়। তাই চীন সরকারের উচিত হবে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে সড়ক ও রেলপথ তৈরি করা। কারণ চীনের কথা শুনবে মিয়ানমার। এটি বাস্তবায়িত করতে পারলে দুই দেশই লাভবান হবে।

সফরসূচিতে যা আছে

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো জানায়, শি চিনপিং আজ সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। তাঁকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানাবেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। এর আগে বাংলাদেশের আকাশসীমায় প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর দুটি জেট বিমান গণচীনের প্রেসিডেন্টকে বহনকারী বিমানটিকে এসকর্ট করে নিয়ে আসবে। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ২১ বার তোপধ্বনির পর সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস দল শি চিনপিংকে গার্ড অব অনার প্রদান করবে।

শি চিনপিং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুপুর ২টা ৫৫ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ২০ মিনিট পর্যন্ত শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন। এক ঘণ্টা ২৫ মিনিটকালের এ বৈঠকের পর ২৫টির বেশি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শি চিনপিং সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যাবেন। এ ছাড়া জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গেও তাঁর সাক্ষাতের কথা রয়েছে।

শি চিনপিং রাতে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের দেওয়া রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে অংশ নেবেন। সেখান থেকে তিনি আসবেন খিলক্ষেত এলাকায় অবস্থিত হোটেল লা মেরিডিয়ানে। সেখানেই তিনি রাত্রিযাপন করবেন।

শনিবার সকাল ১০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে বিদায় জানাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কড়া নিরাপত্তা বলয়

চীনের প্রেসিডেন্টের সফর উপলক্ষে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে রাজধানীর বড় একটি অংশ। বিমানবন্দর সড়কে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে পুলিশ। সড়ক বিভাজনের দুটি অংশ ভেঙে অস্থায়ী ইউ টার্ন তৈরি করা হয়েছে। সড়কে থাকা গতিরোধকও তুলে ফেলা হয়েছে। আজ সকাল ১০টা থেকে আগামীকাল শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত বিমানবন্দর সড়কের খিলক্ষেত ক্রসিং থেকে পদ্মা অয়েল ক্রসিং পর্যন্ত সড়কের পশ্চিম অংশ দিয়ে যান চলাচল বন্ধ থাকবে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ট্রাফিক) অতিরিক্ত কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত নির্দেশনা জারি করা হয়।

চীনের দূতাবাস ও নিরাপত্তা সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী শি চিনপিং যেসব স্থানে যাবেন সেখানে চার স্তরের নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে।

পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক গতকাল বলেন, চীনের প্রেসিডেন্টের সফর উপলক্ষে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, আজ সকাল ১০টা থেকে শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত বিমানবন্দর সড়কের খিলক্ষেত ক্রসিং থেকে মুনমুন কাবাব (পদ্মা অয়েল) ক্রসিং পর্যন্ত রাস্তার পশ্চিম অংশ (আউটগোয়িং) বন্ধ থাকবে। তবে পূর্ব অংশ দিয়ে গাড়ি আসা-যাওয়া করতে পারবে। ওই সময়ে দূরপাল্লার বাস ও ট্রাক বিমানবন্দর সড়কে চলতে পারবে না। তার বদলে আব্দুল্লাহপুর ও ধউর থেকে বেড়িবাঁধ-মাজার রোড অথবা গাবতলী সড়ক ব্যবহার করে বাস-ট্রাক চলবে।

ঢাকা সেজেছে

চীনের প্রেসিডেন্টের সফর উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাকে সাজানো হয়েছে নতুন রূপে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হয়ে কারওয়ানবাজার পর্যন্ত সড়কে টাঙানো হয়েছে বিভিন্ন আকারের ব্যানার-ফেস্টুন ও পোস্টার। যাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে শোভা পাচ্ছে শি চিনপিংয়ের ছবি। আবার কোথাও কোথাও আলাদা ছবি। আজ শুক্রবার রাতের ঢাকাকে দেখা যাবে ভিন্নরূপে। প্রধান প্রধান সড়কের লাইটপোস্টের খুঁটিতে জ্বলবে হরেক রকমের বাতি। বিমানবন্দর থেকে কারওয়ানবাজার পর্যন্ত রাতে জ্বলবে লাল-নীল ও সাদা বাতি। কদম ফোয়ারায় চীনের প্রেসিডেন্টের বিশাল আকারের কয়েকটি কাট আউট বসানো হয়েছে।

 


মন্তব্য