kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রতিবেদন

মেয়েদের সুযোগ সূচকে ১১১তম বাংলাদেশ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



মেয়েদের সুযোগ সূচকে ১১১তম বাংলাদেশ

‘মেয়েদের সুযোগ সূচক’ বা গার্লস অপরচুনিটি ইনডেক্স অনুযায়ী বিশ্বের ১৪৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১১১তম। মেয়েদের বেড়ে ওঠার, বিকশিত হওয়ার সুযোগ বিচার করে সেভ দ্য চিলড্রেন গত সোমবার এ সূচক প্রকাশ করেছে।

এই তালিকায় সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে আফগানিস্তান ছাড়া সবাই বাংলাদেশের ওপরে।

সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রতিবেদনে মেয়েশিশুদের সুস্থ-স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহকে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে বলা হয়, বিশ্বে প্রতি সাত সেকেন্ডে ১৫ বছরের নিচের একটি মেয়ের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেয়েশিশুদের জন্য বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে কঠিন দেশ নাইজার (১৪৪)। সেখানে  বাল্যবিবাহের হার ৭৬ শতাংশ। প্রতি পাঁচজন কিশোরীর মধ্যে গড়ে একজন ওই বয়সেই মা হয়। এরপর রয়েছে যথাক্রমে চাদ (১৪৩), সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক (১৪২), মালি (১৪১), সোমালিয়া (১৪০), সিয়েরা লিওন (১৩৯), মালাওয়ি (১৩৮), গিনি (১৩৭), নাইজেরিয়া (১৩৬) ও আইভরি কোস্ট (১৩৫)।

আর মেয়েদের জন্য সবচেয়ে বেশি সুযোগ তৈরি করতে পেরেছে সুইডেন। এর পর রয়েছে ফিনল্যান্ড (২), নরওয়ে (৩), নেদারল্যান্ডস (৪), বেলজিয়াম (৫),  ডেনমার্ক (৬), স্লোভেনিয়া (৭), পর্তুগাল (৮), সুইজারল্যান্ড (৯) ও ইতালি (১০)।

সূচকে সবচেয়ে ভালো অবস্থায় থাকা দেশগুলোর প্রায় সব ইউরোপীয় রাষ্ট্র। আর সবার পেছনে পড়ে থাকা দেশগুলো সাব সাহারান আফ্রিকার। সূচকে যুক্তরাজ্যের অবস্থান ১৫ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ৩২।

সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে মেয়েশিশুদের পরিস্থিতি সবচেয়ে ভালো মালদ্বীপে। সূচকে দেশটি রয়েছে ৫০তম অবস্থানে। এ ছাড়া শ্রীলঙ্কা তালিকার ৬০, ভুটান ৮০, নেপাল ৮৫, পাকিস্তান ৮৮, ভারত ৯০ ও আফগানিস্তান ১২১তম অবস্থানে রয়েছে।

জাতিসংঘ ও বিশ্বব্যাংকের সংগ্রহ করা গত এক বছরের তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে সেভ দ্য চিলড্রেন। কোন দেশের কী অবস্থা তা যাচাইয়ে পাঁচটি সূচক ব্যবহার করা হয়েছে। সেগুলো হলো বাল্যবিবাহ, কিশোরী বয়সে মাতৃত্ব, প্রসূতি মৃত্যুর হার, সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব এবং নিম্ন মাধ্যমিক স্কুলে ছাত্রীদের ঝরে পড়ার হার।   

সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ক্যারোলিন মাইলস বলেন, বাল্যবিবাহের মধ্য দিয়ে একটি মেয়ের জীবনে অনেক ক্ষতির শুরু হয়। জোর করে বিয়ে দেওয়া মানে তার স্কুলজীবনের ইতি টানা। অনেক ক্ষেত্রে সে পারিবারিক সহিংসতা, নির্যাতন এমনকি ধর্ষণেরও শিকার হয়। শরীর ও মন তৈরি হওয়ার আগেই তাকে সন্তান ধারণ করতে হয়। তার ও তার সন্তানের স্বাস্থ্যের জন্য এর ফল হয় মারাত্মক।   

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে সিইও ক্যারোলিন বলেন, ‘কিছুদিন আগেই আমি বাংলাদেশে গিয়েছিলাম। সেখানে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগেই এক-তৃতীয়াংশ মেয়ের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। ’ তিনি বলেন, অনেক দেশেই এটাকে সামাজিক সংস্কৃতির অংশ হিসেবে দেখা হয়, সরকারি নীতির অংশ হিসেবে নয়। সূত্র : থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশন।


মন্তব্য