kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

পবিত্র আশুরা আজ

হোসেনি দালান ঘিরে কড়া নিরাপত্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



পবিত্র আশুরা আজ

আজ ১০ মহররম, পবিত্র আশুরা। মুসলিম বিশ্বে দিনটি ত্যাগ ও শোকের প্রতীক।

পাশাপাশি বিশেষ পবিত্র দিবসও। দেশে দেশে ধর্মপ্রাণ মুসলিম সম্প্রদায় বিশেষ ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করবে। বাংলাদেশেও দিবসটি পালনে নানামুখী আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুরান ঢাকায় গতকাল মঙ্গলবারও বের হয়েছে তাজিয়া মিছিল। কারবালার প্রান্তরে শহীদদের স্মরণে হয়েছে মাতম। দিবসটিতে যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে পুরান ঢাকার হোসেনি দালান ঘিরে নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা। পাশাপাশি শোক পালনের নামে অতিরঞ্জন ও বাড়াবাড়ি রকমের মাতম না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে গতকাল বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও পৃথক বাণী দিয়েছেন। এসব বাণীতে তাঁরা দিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে বলেছেন, সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় কারবালায় শহীদদের এই আত্মত্যাগ মুসলিম উম্মাহর জন্য এক উজ্জ্বল ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

মুসলমানদের কাছে তো বটেই, পবিত্র আশুরা অন্যান্য আসমানি ধর্মগ্রন্থের অনুসারীদের কাছেও বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। হিজরি ৬১ সনের এই দিনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হুসাইন (রা.) ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ইয়াজিদের সেনাদের হাতে কারবালার ময়দানে শহীদ হন। এ ছাড়া এই দিনে হজরত মুসা (আ.) ফেরাউনের জুলুম থেকে পরিত্রাণ লাভ করেছিলেন তাঁর অনুসারীদের নিয়ে নীল নদ পার হয়ে। তাঁদের পশ্চাদ্ধাবনকারী ফেরাউন সদলবলে নীল নদে ডুবে যায়। এমন আরো অনেক তাৎপর্যময় ঘটনা ঘটেছে এই দিনে।

দিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনুধাবন করে ইসলাম ধর্মাবলম্বী, বিশেষ করে শিয়া অনুসারীরা নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। অনেকে রোজা রাখে। আজ বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি নিয়েছে। পুরান ঢাকার হোসেনি দালান থেকে শিয়া সমপ্রদায়ের উদ্যোগে বের হবে তাজিয়া মিছিল। এ ছাড়া নগরীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর, পুরানা পল্টনসহ বিভিন্ন স্থান থেকে তাজিয়া মিছিল বের করা হবে। শিয়া সমপ্রদায়ের বিশেষত তরুণ-যুবকরা কারবালার সেই হৃদয়বিদারক ঘটনার স্মরণে আজ প্রতীকী দুলদুল ঘোড়া সাজিয়ে, বুক চাপড়ে, ধারালো ফলার আঘাতে নিজের শরীর রক্তাক্ত করবে তাজিয়া মিছিলে। সজল চোখে তারা ‘হায় হুসাইন, হায় হুসাইন’ বলে মাতম করবে। এ উপলক্ষে তিন দিন ধরেই রাজধানীর শিয়া সমপ্রদায়ের শত শত মানুষ তাদের পবিত্র স্থান হোসেনি দালানকে ঘিরে পালন করছে নানা আনুষ্ঠানিকতা। শোকের আবহে কালো পতাকা উড়ানো হয়েছে। ইমাম হুসাইন (রা.) স্মরণে আয়োজন করা হয়েছে বয়ান, জিকির, মাতম, শিরনি বিতরণসহ নানা কর্মসূচি।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে আজ বুধবার সরকারি ছুটি। জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলো প্রকাশ করেছে বিশেষ ক্রোড়পত্র। টিভি চ্যানেল ও বেতারে প্রচারিত হচ্ছে বিশেষ অনুষ্ঠান। আশুরা উপলক্ষে আজ পত্রিকা অফিস বন্ধ থাকবে। তাই আগামীকাল বৃহস্পতিবার পত্রিকা প্রকাশিত হবে না।

হোসেনি দালানের নিরাপত্তায় খুশি শিয়া সম্প্রদায় : পবিত্র আশুরায় যুগ যুগ ধরে চলে আসা ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল ঘিরে পুরান ঢাকার হোসেনি দালান এলাকা জমজমাট হয়ে ওঠে। গত বছরের দুঃখজনক ঘটনার পর এবার আগেভাগেই কড়া নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে এই এলাকায়। তাই এবার সেই জাঁকজমকপূর্ণ অবস্থা কিছুটা ম্রিয়মাণ। তবে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় খুশি শিয়া সম্প্রদায়ের নেতারা। তাঁরা জানিয়েছেন, এবার নিরাপত্তার স্বার্থে কর্মসূচিতে কিছুটা পরিবর্তন আনা হলেও সার্বিক আয়োজনে কোনো ঘাটতি নেই। আজ শোকাবহ তাজিয়া মিছিল শুরু হবে সকাল ১০টায়।

হোসেনি দালান ইমামবাড়ার অধীক্ষক এম এম ফিরোজ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত বছর দুঃখজনক ঘটনার পর আমরা সবাই ছিলাম শোকাহত। তাই এবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আমরা বেশ খুশি। আশা করি, সুষ্ঠু ও নিরাপদে সব অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে। ’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পুরান ঢাকার চানখাঁরপুল থেকে হোসেনি দালানের দিকে যেতে কয়েক স্তরে নিরাপত্তা চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। সড়কের সব গলিমুখে দায়িত্বরত পুলিশের সুসজ্জিত সদস্যরা। সড়কটিতে কোনো ভ্যান-রিকশা পর্যন্ত ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। মোটরসাইকেল ও আগত সবার দেহ তল্লাশি চলছে। যে স্থানে গত বছর বোমা হামলায় দুজন নিহত হয়েছিল সেখানে দেয়ালের ওপরে দেওয়া হয়েছে কাঁটাতারের বেড়া। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বসানো হয়েছে আর্চওয়ে ও সিসিটিভি।

ইমামবাড়া ব্যবস্থাপনা সাবকমিটির সদস্য সৈয়দ বাকের রেজা মজলুম গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, আগামীকাল (আজ) সকাল ১০টায় হোসেনি দালান থেকে তাজিয়া মিছিল বের করা হবে। তা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পাশ দিয়ে পলাশী মোড় ও আজিমপুর হয়ে জিগাতলায় গিয়ে শেষ হবে।

লোকজন আতঙ্কিত হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে মিছিলকারীদের। জিঞ্জির, দা, ছুরি, ব্লেড ইত্যাদি ধারালো জিনিস বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আতশবাজি, পটকা ফোটানোও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিবিকা রওজা, ধানমণ্ডি, মোহাম্মদপুর ও মিরপুরের ইমামবাড়ায় নেওয়া হয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা।

বায়তুল মোকাররমে মিলাদ মাহফিল : পবিত্র আশুরা উপলক্ষে গতকাল সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ‘আশুরার তাৎপর্য ও শিক্ষা’ শীর্ষক এই মাহফিলের আয়োজন করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। এতে ওয়াজ করেন জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ও ঢাকার তেজগাঁওয়ের মদিনাতুল উলুম কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আবদুর রাজ্জাক।


মন্তব্য