kalerkantho


মাশরাফি ও সাব্বিরের জরিমানা

বাটলারকে ভৎর্সনা

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

১১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



মাশরাফি ও সাব্বিরের জরিমানা

ম্যাচ উত্তেজনার পারদ আকাশ ছুঁলে ক্রিকেটারদের মেজাজ-মর্জিতেও সুর কেটে যায়। বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে যেমন ঘটেছে।

আউট হওয়ার পরই ইংলিশ অধিনায়ক জস বাটলার এবং বাংলাদেশ দলের কয়েক সদস্যের বাদানুবাদ যেমন হলো। তবে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) আইনে এমন আচরণ অগ্রহণযোগ্য। তাই শাস্তিও দেওয়া হয়েছে বাটলার এবং বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা ও সাব্বির রহমানকে।

শাস্তিতে অবশ্য তারতম্য আছে। মাশরাফি ও সাব্বিরকে তাঁদের ম্যাচ ফির ২০ শতাংশ জরিমানা করেছেন ম্যাচ রেফারি জাভাগাল শ্রীনাথ। জস বাটলার পার পেয়ে গেছেন মৌখিক সতর্কতা শুনেই। অবশ্য কোড অব কন্ডাক্টে সংযুক্ত হওয়া আচরণগত পয়েন্ট কর্তন আইনে ১ পয়েন্ট করে কেটে নেওয়া হয়েছে তিন ক্রিকেটারেরই। তাতে সবচেয়ে বিপাকে সাব্বির রহমান। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে আম্পায়ারকে উদ্দেশ করে অসৌজন্যমূলক ভাষা ব্যবহার করায় আগেই তাঁর ২ পয়েন্ট কেটে নেওয়া হয়েছিল।

তাতে আর ১ পয়েন্ট কাটা গেলেই একটি টেস্ট অথবা দুটি করে ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টিতে দর্শক হয়ে থাকতে হবে সাব্বিরকে। শাস্তি নির্ধারিত হবে আন্তর্জাতিক সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে। দুই বছরের মধ্যে ৪ পয়েন্ট কাটা গেলে এমন শাস্তির বিধানই রয়েছে।

আইসিসির পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে, শুনানির পর মাশরাফি ও সাব্বিরকে কোড অব কন্ডাক্টের ২.১.৭ ধারায় অভিযুক্ত করেছেন ম্যাচ রেফারি। সে ধারায় বলা রয়েছে, ‘ব্যাটসম্যানকে আউট করার পর এমন কোনো ভাষা কিংবা অঙ্গভঙ্গি করা যাবে না, যা উসকানিমূলক। ’ আর বাটলারের বিপক্ষে অভিযোগ আচরণবিধির ২.১.৪ ধারা ভঙ্গের। এ ধারার অপরাধ চিহ্নিত আছে, ‘আপত্তিকর, আক্রমণাত্মক অথবা অপমানজনক ভাষা ব্যবহার কিংবা অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন। ’ এ ব্যাপারে ম্যাচ রেফারি জাভাগাল শ্রীনাথের বক্তব্য, ‘জস বাটলারের উইকেট নেওয়ার আনন্দ প্রকাশে সীমা লঙ্ঘন করেছেন বাংলাদেশের দুই ক্রিকেটার। এর পরিপ্রেক্ষিতে আউট হওয়া ব্যাটসম্যানও অগ্রহণযোগ্য আচরণ করেছেন। ’

ম্যাচ রেফারির দৃষ্টি অবশ্য অন্য আরেকটি ঘটনা এড়িয়ে গেছে। ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড়দের হাত মেলানোর রীতি রয়েছে। সেসময়ই কাণ্ডটি ঘটে, যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভাইরাল’ হয়ে গেছে। ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, জনি বেয়ারস্টোর সঙ্গে হাত মেলাতে গিয়ে চকিতে ছিটকে গিয়ে তামিম ইকবাল বলছেন, ‘হোয়াট আর ইউ ডুয়িং?’ তাঁর কথা শেষ হওয়ার আগেই ইংল্যান্ডের সহ-অধিনায়ক বেন স্টোকস এগিয়ে এসে ধাক্কা দিয়েছেন তামিমের বুকে। এরপর দুই তরফে বাদানুবাদ হয়েছে আরেক দফা।

অবশ্য ম্যাচ রেফারির দৃষ্টি এড়িয়ে গেলেও এ নিয়ে নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে ‘গল্প’ ফেঁদেছেন স্টোকস। তিনি লিখেছেন, ‘দারুণ জয়ের জন্য বাংলাদেশকে অভিনন্দন, তারা একতরফা জিতেছে। কিন্তু যেটা মানতে পারছি না, তা হলো কেউ একজন আমার এক সতীর্থের সঙ্গে হাত মেলাতে চাচ্ছে না!’ স্টোকস এটা বলছেন; কিন্তু ভিডিও ফুটেজে পরিষ্কার দেখা গেছে যে হাত বাড়িয়েছিলেন তামিম ইকবাল। কিন্তু সেসময় এমন একটা কিছু ঘটেছিল যে তাৎক্ষণিক হাত সরিয়ে নিয়েছিলেন বাংলাদেশের বাঁহাতি ওপেনার। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, তামিমের বাড়ানো হাত নাকি মুচড়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বেয়ারস্টো! সে কারণেই ওভাবে ছিটকে গিয়ে তামিম জানতে চেয়েছিলেন, ‘হোয়াট আর ইউ ডুয়িং!’ পরের ফ্রেমেই বেন স্টোকস এসে বুকে ধাক্কা দেন তামিমের।

ব্রিটিশ মিডিয়ায় এ ঘটনার অনুপুঙ্খ বর্ণনা আসেনি। তবে এর পরিপ্রেক্ষিতে বেন স্টোকসের শাস্তি হতে পারে—এমন আশঙ্কার কথা লিখেছে ডেইলি মেইল, ‘বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের উসকানিমূলক আচরণের পরিপ্রেক্ষিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখানোয় জস বাটলার ও বেন স্টোকসকে শাস্তি দিতে পারেন ম্যাচ রেফারি জাভাগাল শ্রীনাথ। ’ তবে ম্যাচ রেফারির দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে ম্যাচ-পরবর্তী ঘটনাটি। সে কারণে শুনানি হয়নি, শাস্তির ঘটনাও ঘটেনি।

তবে সিরিজের ভাগ্য নির্ধারণী ম্যাচটাকে ঘিরে রোমাঞ্চের নতুন মাত্রা ঠিকই যোগ করেছে রবিবার রাতের মিরপুর। ব্যাট-বলের লড়াইয়ের সঙ্গে ‘কথা হবে’ চোখে-চোখেও!


মন্তব্য