kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অর্থনীতিতে নোবেল

চুক্তিতত্ত্বে অবদানের স্বীকৃতি পেলেন হার্ট ও হোলস্ত্রম

সাব্বির রহমান খান সুইডেন থেকে   

১১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



চুক্তিতত্ত্বে অবদানের স্বীকৃতি পেলেন হার্ট ও হোলস্ত্রম

থিওরি অব কন্ট্রাক্ট বা চুক্তিতত্ত্বে অবদানের জন্য ২০১৬ সালের দ্য ব্যাংক অব সুইডেন পুরস্কার তথা অর্থনীতির নোবেল পুরস্কার পেলেন দুজন অর্থনীতিবিদ। তাঁরা হলেন যুক্তরাজ্যের অলিভার হার্ট ও ফিনল্যান্ডের বেঙত হোলস্ত্রম।

হার্ট ও হোলস্ত্রমের গবেষণালব্ধ পদ্ধতি প্রয়োগ করে আর্থিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করা যায়। চুক্তির ‘নিয়ন্ত্রণ অধিকার’, ‘সম্পদের অধিকার’ ও ‘সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার’ প্রভৃতি বিষয়ের বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।

গতকাল সোমবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয় স্টকহোমের দ্য রয়াল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস থেকে।

একাডেমির পারমান্যান্ট সেক্রেটারি গোরান কে হ্যানসন  বিজয়ীদের নাম ঘোষণার সময় তাঁদের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে বলেন, ‘আমাদের দৈনন্দিন জীবনে দৃশ্যমান বিভিন্ন ধরনের চুক্তির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও কাঠামো বুঝতে সাহায্য করেছে তাঁদের গবেষণা। সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতে চুক্তি ও এর প্রাতিষ্ঠানিকতা কী হবে, সে ব্যাপারে আমাদের ভাবনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন তাঁরা। ’

আধুনিক অর্থনীতিতে অগণিত চুক্তির প্রসঙ্গ রয়েছে। এসবের বাস্তবিক রূপ ও প্রাতিষ্ঠানিকতা বুঝতে এবং চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে নেতিবাচক বিষয়গুলো এড়াতে সাহায্য করে হার্ট ও হোলস্ত্রমের তত্ত্বীয় পদ্ধতি। শেয়ারহোল্ডারদের সঙ্গে কম্পানি পরিচালকদের, বীমা কম্পানির সঙ্গে গাড়ি বা বাড়ির মালিকদের বা সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরবরাহকারীদের সম্পর্ক চুক্তিনির্ভর। সমাজের সব ক্ষেত্রেই চুক্তির সম্পর্ক রয়েছে। চুক্তিবদ্ধ পক্ষগুলোর মধ্যে স্বার্থের দ্বন্দ্ব থাকে। এসব দ্বন্দ্ব এড়ানোর জন্য চুক্তির কাঠামো এমনভাবে করা হয়, যাতে সব পক্ষই চুক্তির বিষয়ে উৎসাহ বোধ করে এবং সব পক্ষই লাভবান হয়। হার্ট ও হোলস্ত্রমের পদ্ধতির সাহায্যে চুক্তিপূর্ব ধারণার কাঠামো তৈরি করা যেতে পারে এবং চুক্তিবিষয়ক বিভিন্ন জটিল ও সূক্ষ্ম প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যেতে পারে।

পুরস্কার ঘোষণার পরই প্রেসরুম থেকে টেলিফোনে (লাউড স্পিকারে) বেঙত হোলস্ত্রমকে সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ পান সাংবাদিকরা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থেকেছি, যাতে বাস্তবতাপ্রসূত জ্ঞান অর্থনীতির গবেষণায় প্রয়োগ করতে পারি। অর্থনীতির তত্ত্বের সঙ্গে বাস্তবতার যোগাযোগ থাকা জরুরি। ’

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ পুরস্কারের জন্য তিনি মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না। তিনি খুবই অবাক হয়েছেন তাঁকে পুরস্কারের অংশীদার করায়। এ জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অলিভার হার্ট ১৯৪৮ সালে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি অর্জন করেন তিনি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতির অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।

বেঙত হোলস্ত্রম ১৯৪৯ সালে ফিনল্যান্ডের হেলসিংফোর্সে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি লাভ করেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে অর্থনীতি ও ব্যবস্থাপনার অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।

প্রসঙ্গত, অর্থনীতিতে পুরস্কার দেওয়ার কথা আলফ্রেড নোবেল তাঁর উইলে বলেননি। ১৯৬৮ সালে প্রবর্তিত হয় এ পুরস্কার। নোবেলের স্মৃতির উদ্দেশে দ্য ব্যাংক অব সুইডেন এটি দেয়। মর্যাদায় ও অর্থমূল্যে অন্যান্য নোবেল পুরস্কারের মতো বলে এটি অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার হিসেবে খ্যাত।

আগামী ১০ ডিসেম্বর আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে এক অনুষ্ঠানে দুই বিজয়ীর হাতে একটি মানপত্র, একটি স্বর্ণপদক ও প্রাইজমানি হিসেবে ৮০ লাখ সুইডিশ ক্রোনারের চেক তুলে দেওয়া হবে। প্রাইজমানি সমান ভাগ করে নেবেন তাঁরা।


মন্তব্য