kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ঢাবি ভর্তি পরীক্ষায় তবু ৯০% ফেল

রফিকুল ইসলাম   

১১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ঢাবি ভর্তি পরীক্ষায় তবু ৯০% ফেল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি করা হয় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠ্য বইয়ের বিষয়বস্তু থেকেই। কিন্তু উভয় পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েও ভর্তি পরীক্ষায় পাস করতে পারছে না বেশির ভাগ শিক্ষার্থী।

এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় বেশির ভাগ ইউনিটে বাংলা ও ইংরেজিতে আলাদাভাবে পাস করতে হয়। উভয় বিষয়ে ৩০ নম্বরের মধ্যে পাসের জন্য অন্তত ৮ নম্বর প্রয়োজন। অথচ সেই নম্বর তুলতেও ব্যর্থ ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী।  

এ বছর কলা অনুষদের অধীন ‘খ’ ও বাণিজ্য অনুষদের অধীন ‘গ’ ইউনিটের  ভর্তি পরীক্ষার পর ফলাফলে দেখা গেছে, খ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্র ১১ শতাংশ পাস নম্বর তুলতে পেরেছে। বাকি ৮৯ শতাংশই ফেল করেছে। ‘গ’ ইউনিটে পাস করেছে ৫.৫২ শতাংশ শিক্ষার্থী, ফেল করেছে ৯৪.৪৮ শতাংশ। যদিও পাস করা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে না। কলা অনুষদের ১৭টি বিভাগে আসন আছে দুই হাজার ৩৩৩টি। বাণিজ্য অনুষদে আসন এক হাজার ২৫০টি।

বাণিজ্য অনুষদের অনুত্তীর্ণদের বড় অংশই ইংরেজিতে পাস নম্বর পায়নি। এ অনুষদে ইংরেজিতে ৩০ নম্বরের মধ্যে ১০ পেলে পাস ধরা হয়।

ভর্তি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভর্তি পরীক্ষায় খ ও গ ইউনিটে বিষয়ভিত্তিক বাংলা ও ইংরেজিতেই বেশির ভাগ পরীক্ষার্থী ফেল করে। ইংরেজি ও বাংলা ব্যাকরণ অংশের বেশির ভাগ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে না তারা। ব্যাকরণ থেকে কিছু সূক্ষ্ম প্রশ্ন থাকে, যা উচ্চ মাধ্যমিকে বা সৃজনশীল সিলেবাসে শিক্ষার্থীরা পড়ে না। উচ্চ মাধ্যমিকের ক্ষেত্রে সৃজনশীল পদ্ধতির পরীক্ষায় সূক্ষ্ম প্রশ্নের উত্তর কাছাকাছি হলেও নম্বর পাওয়া যায়। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষায় যথাযথ উত্তর না দিতে পারলে নম্বর পাওয়া যায় না। ভুল উত্তরের জন্য নম্বরও কাটা যায়।

গত কয়েক বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ ও গ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১০-১৫ শতাংশের বেশি পাস করতে পারেনি। এ বছর খ ইউনিটে ৩৩ হাজার ২৫৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে বাংলা ও ইংরেজিতে পাস নম্বরসহ উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র তিন হাজার ৮০০ জন। বাকি ৩১ হাজার শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। গ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৪০ হাজার ২৩৪ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ইংরেজিতে পাস নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে দুই হাজার ২২১ জন। ৩৮ হাজার ১০ জন পরীক্ষার্থীই ফেল করেছে। ২০১৫ সালে গ ইউনিটে পাসের হার ছিল ১৭.৫৬ শতাংশ, ২০১৪ সালে ছিল ২০.৬১ শতাংশ এবং ২০১৩ সালে ছিল ১১.৪০ শতাংশ।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে জিপিএ ৫ পেলেও শিক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষায় কেন উত্তীর্ণ হতে পারছে না, তা নিয়ে নানা কথা হচ্ছে। কেউ কেউ বলছে, সৃজনশীল প্রশ্নে নির্দিষ্ট কিছু অধ্যায় পড়ে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেয়। পুরো বিষয় আয়ত্বে না থাকায় ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন বুঝতে পারে না তারা। এক ঘণ্টার পরীক্ষায় ১০০টি প্রশ্নের উত্তর করার সময় চাপে জানা উত্তরও ভুল করে শিক্ষার্থীরা। ভুল উত্তরের জন্য নম্বর কেটে নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত পাস নম্বর পায় না অনেকে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ২০০ নম্বরের মধ্যে ১২০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের ফলের ভিত্তিতে বাকি ৮০ নম্বর নির্ধারিত হয়। খ ইউনিটে ১২০ নম্বরের পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান—এ তিন বিষয়ে প্রশ্ন থাকে। বাংলায় ৩০, ইংরেজিতে ৩০ এবং সাধারণ জ্ঞানে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক মিলে ৬০ নম্বর থাকে। তিনটি বিষয়ে প্রশ্ন এলেও বাংলা ও ইংরেজিতে পৃথকভাবে বাধ্যতামূলক পাস করতে হয়। এ ইউনিটে বাংলা ও ইংরেজিতে পাস নম্বর ৮,  সব মিলিয়ে পাসের জন্য ৪৮ নম্বর পেতে হয়। গ ইউনিটের পরীক্ষায় ইংরেজিতে পাস নম্বর ১০। ১০০টি প্রশ্নের প্রতিটির মান ১.২। একটি প্রশ্নের ভুলের জন্য ০.৫ নম্বর কেটে নেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্ন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভর্তি পরীক্ষায় বাংলা অংশে বাংলা ব্যাকরণ ও পাঠ্য বই, ইংরেজি অংশে ইংরেজি ব্যাকরণ ও পাঠ্য বই এবং সাধারণ জ্ঞান অংশে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে চলমান কিংবা ইতিহাস বিষয়ে প্রশ্ন থাকে। ইংরেজি অংশে পাঠ্য বই ও ব্যাকরণের বাইরে একটি অনুচ্ছেদ দেওয়া হয়। সেই অনুচ্ছেদ পড়ে শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের সমাধান করতে হয়, যা উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিখে আসে শিক্ষার্থীরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ভর্তি পরীক্ষায় পাসের হার কম হওয়ায় বিষয়টি নানা প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। কিন্তু এক ঘণ্টার পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের মেধা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে না। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা চাপের মধ্যে থাকে। জানা বিষয়ের উত্তরও ভুল হতে পারে। উচ্চ মাধ্যমিকের সিলেবাস থেকেই প্রশ্ন করা হয়। প্রশ্নপত্র তৈরির সময় খুব সতর্ক থাকা প্রয়োজন। ভালো ফল থাকা সত্ত্বেও প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করে। ’


মন্তব্য