kalerkantho


আর হাল ছাড়ে না বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

১০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



আর হাল ছাড়ে না বাংলাদেশ

সেসব দিন ছিল বটে! অবাস্তব আশা নিয়ে দিন কাটত সবার, কিন্তু আশা পূরণ হতো না। দিন বদলে এলো হঠাৎ জয়ের পর্ব। এখন অনেকটাই নিয়মিত। তাই আশা, প্রত্যাশা বদলে গেছে দাবিতে। তবে এ দাবি মারমুখী নয়। মাশরাফি বিন মর্তুজারা এই দাবি পূরণ করলে গ্যালারিতে হাসি ফোটে, ব্যর্থ হলে পরেরবার উৎসব করার অঙ্গীকার নিয়ে ঘরে ফেরে দর্শক। কাল সিরিজে ১-১ সমতা ফেরার পর এ দাবির মিছিল এখন চট্টগ্রামমুখী—সিরিজ জয়ের। ঘরের মাঠে টানা সপ্তম সিরিজ জয়ের হাতছানি বাংলাদেশ দলের সামনে; আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের টাইম মেশিনে বছর কয়েক পেছন থেকে আজকের বাংলাদেশ দলকে দেখলে বিস্ময়ে চোয়াল ঝুলে পড়াই স্বাভাবিক! যে দল তখন টানা সাতটি ম্যাচ জেতার স্বপ্ন দেখত না, সে দলটিই কিনা...!

এ পরাবাস্তব কোনো ঘটনা নয়। প্রত্যাশিত বলেই ইনিংসব্রেকে ড্রেসিংরুমে টিমমেটদের মাশরাফি জানিয়ে দেন, ‘প্রথমেই উইকেট নিতে হবে। ’ সে কথা তো আর ড্রেসিংরুমের বাইরে আসার কারণ নেই। তবু প্রেসবক্স বিড়বিড় করে, ‘২৩৮ রানও অনেক, ঠিক জিতে যাবে বাংলাদেশ!’ এবং জিতে যায়ও। মাত্রই ৪৮ ঘণ্টা আগে হৃদয়ভাঙা হারের বেদনা ভুলে মরণপণ ঝাঁপ দেয় মাশরাফির দল। তাই প্রথম ম্যাচে ৩০৯ রান করা ইংলিশরা উইকেট হারাতে থাকে নিয়মিত বিরতিতে। শেষ দুটি উইকেট জুটিতে কিছু রান সাধারণের মনে মৃদু উদ্বেগ ছড়িয়েছে বটে, তবে সেটি হারের আশঙ্কায় রূপ নেয়নি কখনোই। উদ্বেগ মুছে দিয়ে সিরিজে ফেরার উৎসবটা এলো এমনভাবে, যা গতকালের ম্যাচের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিতও। শেষ ব্যাটসম্যান জ্যাক বলকে নিয়ে আদিল রশিদ ইংল্যান্ডকে দুই শ পার করে নিয়ে যান, তখনই আরেকটা স্পেলে আবির্ভাব মাশরাফির। চতুর্থ বলেই ম্যাচের ফল নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ক্রিকেট বিধাতাও কি ব্যাটে ৪৪ রানের পর শুরুর স্পেলে ইংল্যান্ডের গায়ে আঁচড় কাটা মাশরাফিকে দিয়ে ম্যাচটা শেষ করাতে চাচ্ছিলেন? হতেও পারে!

২৩৮ রান করেও ইংল্যান্ডকে হারানোর স্বপ্ন উঁকি দিয়েছে অতীত থেকে। ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে জানালেন মাশরাফিই, ‘একবার ইংল্যান্ডে ২৩৪ (আসলে ২৩৬) রান করেও জিতেছিলাম। সেবারও তাড়াতাড়ি উইকেট পেয়েছিলাম। রুবেল (হোসেন) ব্রেক থ্রু দিয়েছিল। আজকে ড্রেসিংরুমে সবাই সেটা বলেছিলাম যে শুরুতে উইকেট পেলে ম্যাচটা জেতা সম্ভব। ’ সে ম্যাচে রুবেল শুরু করলেও ম্যাচসেরা হয়েছিলেন মাশরাফি। গতকালও তাই। ইংলিশ অধিনায়ক জস বাটলার তো বলেই গেছেন, ‘মাশরাফি অবশ্যই ব্যবধান গড়ে দিয়েছে। ওর ব্যাটিংটা না হলে বাংলাদেশকে ১৯০ রানের মধ্যে আটকে রাখা যেত। ’ এরপর বোলিংয়ে ৪ উইকেট—ম্যাচসেরা হতে আর কী লাগে!

বাংলাদেশের বোলিং সাফল্যের শুরু এবং শেষটা তাঁকে দিয়েই। তবু গতকাল বেশি আলোচিত হলেন ব্যাটসম্যান মাশরাফি। কিন্তু ব্যাটিংয়ের প্রসঙ্গ এলেই দুষ্টু হাসি। একজন কারণটাও জানতে চাইলেন, বিমুখ করেননি অধিনায়ক নিজেও, ‘আসলে গত কিছুদিন এমন ব্যাটিং করছিলাম যে... (হাসি)। আসলে মনে হয় বেশি চিন্তা করছিলাম। আজকে অনেক ফ্রি খেলেছি, যেটা আমি সবচেয়ে ভালো পারি। ’ এরপর সহাস্যে ঘোষণাও দিলেন, ‘এই মানসিকতা নিয়েই আমার ব্যাটিং করা উচিত। আমি ঠিক করেই নেমেছিলাম যে নেমে স্লগ করব। ’

তবে যত সহজে বলা, কাজটা ছিল তার চেয়েও কঠিন। প্রথম ম্যাচে হারের শোকে যে পুরো দল গতকাল খেলা শুরুর আগেও কাতর! ‘ওই রকম একটা হারের ধাক্কা সামলে ওঠা কঠিন। গতকাল (শনিবার) রাতে প্রায় ৩টা পর্যন্ত আমরা সিনিয়ররা আড্ডা দিচ্ছিলাম। কিন্তু বারবারই ঘুরেফিরে আসছিল প্রথম ওয়ানডে হারের কথা। আজকে (গতকাল) ওয়ার্ম আপের সময়ও মনে হয়েছে ওই কষ্ট দলের ভেতরে রয়ে গেছে। ৩০ রানের মধ্যে ওদের ৪ উইকেট তুলে ফেলার পর মনে হয়েছে, ম্যাচটা জিততে যাচ্ছি। ’

সিরিজে ফেরার সূত্র ধরে সিরিজ জয়ের প্রত্যাশাও জানানো হলো অধিনায়ককে। মাশরাফি নিরাশ করেননি, ‘সুযোগ অবশ্যই আছে। হবে কি না, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে এমন একটি জয়ের পর সবারই মানসিকভাবে চাঙ্গা থাকার কথা। এখন সবাই যদি ফিট থাকি, চট্টগ্রামে ভালো প্রস্তুতি নিতে পারি, তাহলে ভালো সুযোগ থাকবে। ’ আর নিজের ম্যাচসেরার স্বীকৃতি নিয়ে এতটুকু বাড়তি উচ্ছ্বাস নেই মাশরাফির কণ্ঠে, ‘দল জিতলে একজন না একজন ম্যাচসেরা হয়। আজকে যেমন আমি জিতেছি। তবে ভালো লাগছে ম্যাচটা জিততে পেরেছি বলে। ’

এ আনন্দের দিনে সামান্য ‘ক্ষতি’ও হয়েছে মাশরাফির। জস বাটলার আউট হওয়ার পর যেভাবে উদ্যাপন করেছেন তিনি, সেটি পছন্দ হয়নি ম্যাচ রেফারির। তাই মাশরাফির আচরণের ‘ঝুলি’ থেকে ১ পয়েন্ট কেটে নেওয়া হয়েছে। শাস্তি হয়েছে সাব্বির রহমানেরও, ইংলিশ অধিনায়ককে যে অভব্য ভাষায় ‘মার্চিং অর্ডার’ দিয়েছিলেন তিনি!


মন্তব্য