kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মিয়ানমারে বিজিপি ঘাঁটিতে হামলা

টেকনাফ-মংডু ট্রানজিট বন্ধ সতর্ক বিজিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার ও টেকনাফ প্রতিনিধি   

১০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



টেকনাফ-মংডু ট্রানজিট বন্ধ সতর্ক বিজিবি

বাংলাদেশের সীমান্তের কাছে মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে (রাখাইন) সে দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর তিনটি ঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। এ ঘটনার পর টেকনাফ ও মংডুর মধ্যে নৌ ও স্থলপথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

বাংলাদেশের সীমান্তে সতর্কতা জারির পাশাপাশি টহল জোরদার করেছে বিজিবি।

গত শনিবার দিবাগত রাতে আরাকান রাজ্যে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) তিনটি ঘাঁটিতে (স্থাপনায়) বিদ্রোহীরা হামলা চালায়। হামলায় মংডুর কাউয়ার বিলের তানাইছ, নাফফুরা ও রাশিদং ঘাঁটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এরপর হামলাকারীদের সঙ্গে বিজিপির সংঘর্ষ শুরু হয়, যা গতকাল রবিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত চলে বলে সীমান্তের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তবে বিজিপি ঘাঁটিতে অতর্কিতে হামলা এবং হামলাকারীদের সঙ্গে লড়াইয়ে প্রাণহানির সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি। প্রাথমিক খবরে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জনা দশেক জওয়ান মারা যাওয়ার কথা শোনা গেছে।

আরাকান রাজ্যের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, এই হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৯ জনই মিয়ানমারের পুলিশ কর্মকর্তা। খুব ভোরে এই হামলা চালানো হয় বলে কর্মকর্তারা জানান। কারা এই হামলা চালিয়েছে সেটি এখনো পরিষ্কার নয়। তবে রাজ্যের একজন কর্মকর্তা হামলার জন্য বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপ রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন বা আরএসওকে দায়ী করেছেন। কর্মকর্তারা বলেছেন, হামলাকারীরা অস্ত্রশস্ত্র লুট করে নিয়ে গেছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছর মে মাসে টেকনাফের একটি আনসার ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে একজনকে হত্যা এবং ১১টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৬৭০টি গুলি লুটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রোহিঙ্গা জঙ্গিগোষ্ঠী আরএসও জড়িত বলে সন্দেহ করা হয়।

আরাকান রাজ্যের এই ঘটনার পরপরই মিয়ানমারের বিজিপি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে জরুরি বার্তা পাঠায়। সীমান্ত দিয়ে যাতে সে দেশের কোনো গুলিবিদ্ধ বা আহত বিদ্রোহী কোনোভাবেই অনুপ্রবেশ করতে না পারে সেই ব্যবস্থা নিতে বিজিবিকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

টেকনাফের বিজিবি-২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুজার আল জাহিদ গতকাল কালের কণ্ঠকে এ তথ্য দিয়ে বলেন, ‘আমরা আরাকান রাজ্যের ঘটনার কথা জানার পরপরই সীমান্তে সতর্কতা জারি করেছি। সেই সঙ্গে বিজিবির টহলও জোরদার করা হয়েছে। ’ আরাকানের ঘটনার পর থেকে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের নৌ ও স্থলপথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে রয়েছে। গতকাল কক্সবাজারের টেকনাফ ও মিয়ানমারের বন্দর শহর মংডুর মধ্যে পণ্য ও যাত্রী আসা-যাওয়া বন্ধ ছিল বলে জানিয়েছেন টেকনাফ বন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা আবদুল মান্নান।

সীমান্তের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আরাকানে সরকারি বাহিনীর ঘাঁটিতে হামলায় জড়িত বিদ্রোহীদের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি ও আরাকান লিবারেশন ফোর্স এ হামলায় জড়িত। কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী টেকনাফ ও উখিয়ার শরণার্থী শিবিরে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সঙ্গে স্বদেশের আত্মীয়স্বজনের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।

এসব রোহিঙ্গার কয়েকজন জানিয়েছে, মিয়ানমারের সরকারি বাহিনী প্রথমে হামলার জন্য সে দেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সন্দেহ করেছিল। এ রকম সন্দেহে গতকাল সকালে কাউয়ার বিলের একটি পাড়ার রোহিঙ্গা বসতিতেও সরকারি বাহিনী হামলা চালায়। আরাকানের রোহিঙ্গারা জানিয়েছে, ঘটনার পর সেখানকার গ্রামগুলোতে শত শত সেনা টহল দিচ্ছে। কোনো লোকজনকে ঘরের বাইরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।

এদিকে আরাকানের ঘটনায় কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। লোকজন আশঙ্কা করছে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটতে পারে।

এ বিষয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা সবর্তোভাবে সতর্ক রয়েছি। আমাদের সীমান্ত দিয়ে কোনো বিদেশি লোকজন যাতে অনুপ্রবেশ করতে না পারে সে জন্য সবাইকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ’

 


মন্তব্য