kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


হিলারির মুখোমুখি ‘দলবিচ্ছিন্ন’ ট্রাম্প

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



হিলারির মুখোমুখি ‘দলবিচ্ছিন্ন’ ট্রাম্প

এত বিতর্কিত, নিন্দিত, সমালোচিত, প্রস্তুতিহীন কোনো প্রার্থী এবারই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেনশিয়াল লড়াইয়ের মঞ্চে। আপাতত রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের লক্ষ্য নির্বাচনে জয় নয়, টিকে থাকা।

ট্রাম্প এমন একটি সময়ে দাঁড়িয়ে যখন খোদ রিপাবলিকান নেতারাও তাঁর পাশে দাঁড়াতে লজ্জা পাচ্ছেন, দীর্ঘ হচ্ছে ছেড়ে যাওয়া নেতাদের নামের তালিকা।

তবে লড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল ট্রাম্প। ওয়াশিংটন পোস্ট গত শুক্রবার ট্রাম্পের যে ভিডিওটি প্রকাশ করে তারপর ট্রাম্পের সমালোচনা করা ছাড়া কারো সামনেই আর কোনো পথ খোলা নেই। এমনকি ট্রাম্পের স্ত্রী ম্যালানিয়া ট্রাম্পেরও। তিনি মনঃক্ষুণ্ন হওয়ার কথা জানিয়েও স্বামীর জন্য সমর্থন চেয়েছেন। আছেন ট্রাম্পের রানিংমেট মাইক পেন্স। তবে তাঁদের দুজনের অবস্থানই এমন যে তাঁরা চাইলেই ট্রাম্পকে ছাড়তে পারেন না। আর যাঁরা এই বাধ্যবাধকতার মধ্যে নেই তাঁরা কিন্তু ট্রাম্পের সঙ্গে থাকছেন না। এই তালিকায় রয়েছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কন্ডোলিৎসা রাইস, ইডাহো সিনেটর মাইক ক্র্যাপো, নিউ হ্যাম্পশায়ার সিনেটর

 ক্যালি আয়োত্তে, আরিজোনার সিনেটর জন ম্যাককেইন, আরিজোনার সিনেটর লিসা মুরকোওয়াস্কি, মেইনের সিনেটর সুসান কলিন্সসহ আরো অনেকে। এখানে নারী সিনেটরদের সংখ্যাই বেশি। তাঁদের মধ্যে কন্ডোলিৎসা রাইস বলেছেন, ‘যথেষ্ট হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়া ঠিক নয়। তাঁর উচিত সরে দাঁড়ানো। ’ আর সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ম্যাককেইনের মতে, ‘শর্ত সাপেক্ষেও ট্রাম্পকে আর সমর্থন দেওয়া যাচ্ছে না। ’

এমন বিতর্কের মধ্যে মিসৌরির সেন্ট লুইস টাউনহলে যুক্তরাষ্ট্র সময় গতকাল সন্ধ্যায় (বাংলাদেশ সময় আজ সকাল ৭টায়) দ্বিতীয় বিতর্কের মঞ্চে হিলারির মুখোমুখি হচ্ছেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের ন্যক্কারজনক ভিডিও প্রকাশের পর দেড় লাইনের এক টুইট দিয়েই একেবারে নীরব হয়ে গেছেন ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন। তাঁর শিবির থেকে বলা হচ্ছে, বিতর্কের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। কাজেই ধারণা করা হচ্ছে, নারীদের নিয়ে ট্রাম্পের নোংরা কথাগুলোর বিষয়ে মঞ্চে উঠেই প্রশ্ন তুলবেন তিনি। ‘প্রেসিডেন্ট হওয়ার মতো মেজাজ ট্রাম্পের নেই’ বলে হিলারি এত দিন ধরে যে অভিযোগ করে আসছিলেন, শুক্রবারের ভিডিওটি তারই পক্ষে প্রমাণ হাজির করেছে। হিলারির সহযোগীদের ধারণা, এই লড়াইয়ে আর ফিরতে পারবেন না ট্রাম্প। ইতিমধ্যেই পরাজিত হয়েছেন তিনি।    

তাঁদের এই ভাবনা অযৌক্তিক নয়। শুক্রবার ভিডিও প্রকাশের আগে থেকেই ট্রাম্পের চারপাশের দেয়াল ছোট হয়ে আসছিল। এলোমেলো মন্তব্য, সাবেক বিশ্ব সুন্দরীর স্বাস্থ্য নিয়ে কটূক্তি, রাত ৩টায় অশ্লীল ইঙ্গিতপূর্ণ টুইট করে আগেই পিছিয়ে পড়েছিলেন তিনি। এরপর বিবাহিত এক নারীর সঙ্গে জোর করে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা, তাঁর চুমুর চৌম্বকীয় শক্তি, তারকা হলে মেয়েদের সঙ্গে যা ইচ্ছা তাই করা যায় এবং কাজটি তিনি খুব ভালোই পারেন বলে মন্তব্যের পর তাঁর সামনে ক্ষমা চাওয়া ছাড়া কোনো পথ খোলা ছিল না। তবে ক্ষমা চেয়েও কূল পাচ্ছেন না তিনি। অন্তত অর্ধডজন রিপাবলিকান হিলারিকে ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন।

তবে সংকট শুধু এখানেই না, বিতর্কের জন্যও ট্রাম্প প্রস্তুত নন। প্রথম বিতর্কে ব্যর্থতার পর বারবার তাঁর দল থেকেই বলা হচ্ছিল কম প্রস্তুতির কারণেই তাঁর পারফরম্যান্সে এই সংকট তৈরি হয়েছে। তবে এবারও যথাযথ প্রস্তুতি নেননি ট্রাম্প। তাঁকে প্রস্তুত করার জন্য যে দলটি কাজ করছে সেটিও গোছালো নয়, আবার এ দলে উপদেষ্টাদের সংখ্যাও পর্যাপ্ত নয়। তারপর শেষ মুহূর্তের এই ভিডিও তাঁকে প্রস্তুত হওয়ার শেষ সুযোগটুকুও দেয়নি। অন্যদিকে হিলারির উপদেষ্টার সংখ্যা যেমন বেশি, দলটির পরিকল্পনাও স্পষ্ট। একই সঙ্গে হিলারি নিজেও প্রস্তুতিতে প্রচুর সময় দিয়েছেন।


মন্তব্য