kalerkantho


নিহত জঙ্গি রহমান ছিলেন সাতক্ষীরার শিবির নেতা

তায়েফুর রহমান, সাভার   

১০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



নিহত জঙ্গি রহমান ছিলেন সাতক্ষীরার শিবির নেতা

আশুলিয়ায় র‌্যাবের অভিযানে নিহত নব্য জেএমবির অর্থ জোগানদাতা আব্দুর রহমান ওরফে নাজমুল হক ওরফে আইনুলের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলায়। র‌্যাব জানিয়েছে, রহমান সাতক্ষীরা সদর এলাকার ছাত্রশিবিরের নেতা ছিলেন।

সাতক্ষীরা থেকে চলে এসে নব্য জেএমবির বিভিন্ন কাজে অর্থ সরবরাহ দিতে শুরু করেন। তাঁর স্ত্রী শাহনাজ আক্তার রুমি ও তিন সন্তানকে আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র‌্যাব-৪-এর নবীনগর ক্যাম্পের ডিএডি হুমায়ন কবীর বাদী হয়ে গতকাল রবিবার বিকেলে আশুলিয়া থানায় শাহনাজ আক্তার রুমিকে আসামি করে দুটি মামলা দায়ের করেছেন। অস্ত্র আইন এবং সন্ত্রাস দমন ও বিস্ফোরক আইনে মামলা দুটি করা হয়।

র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, রুমির জঙ্গি কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এ ছাড়া তাঁরা যে বাড়িতে ছিলেন সেখান থেকে জঙ্গিদের অভিযানের ম্যাপ, মোবাইল ফোন জ্যামার ও নাইটভিশন বাইনোকুলার জব্দ করা হয়েছে।

আহত অবস্থায় আটক হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া আব্দুর রহমানের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গতকাল সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাভার মডেল থানার ওসি এস এম কামরুজ্জামান।

র‌্যাব-৪-এর নবীনগর ক্যাম্পের এএসপি উনু মং জানান, নিহত আব্দুর রহমান মূলত সাতক্ষীরা সদর এলাকার শিবির নেতা ছিলেন। সাতক্ষীরা থেকে চলে এসে নব্য জেএমবির বিভিন্ন মিশনে অর্থ সরবরাহ শুরু করেন। বর্তমানে পুলিশের বিশেষ শাখার সদস্যরা সাতক্ষীরায় আব্দুর রহমানের বিষয়ে আরো তথ্য সংগ্রহের কাজ করছে। তাঁর সহযোগীদেরও গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে। এএসপি উনু মং বলেন, আব্দুর রহমানের স্ত্রী তাঁর স্বামী সম্পর্কে কোনো তথ্য দিচ্ছেন না।

র‌্যাব-৪-এর নবীনগর ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর মাসুদুর রহমান জানান, আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকার যে বাড়িতে শনিবার অভিযান চালানো হয়েছিল সেখান থেকে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র, বিস্ফোরক ও গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করা হয়েছে। পরে বাড়িটি থেকে আব্দুর রহমানের স্ত্রী শাহনাজ আক্তার রুমি ও তাঁর তিন সন্তান লাবন্য (১১), তাহমিদ (৭) ও জাওয়াতকে (৫) র‌্যাব হেফাজতে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রুমির জঙ্গি কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁকে গতকাল বিকেলে আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরে রুমিকে আসামি করে দুটি মামলা করা হয়েছে। রুমির পৈতৃক বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ থানার চন্দুরিয়া গ্রামে।

বাইপাইলের ওই বাড়ির কেয়ারটেকার তারিকুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানায় র‌্যাব।

উদ্ধার করা ম্যাপে অভিযানের স্থান চিহ্নিত : র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ বলেন, ‘আব্দুর রহমান সব অভিযানে তার সঙ্গে উন্নতমানের একটি নাইটভিশন বাইনোকুলার ব্যবহার করত। এটা দিয়ে সে রাতের বেলায় দূরের লক্ষ্যবস্তু সহজেই দেখতে পেত। এ ছাড়া মোবাইল ফোন জ্যামার ব্যবহার করত সে। কোনো অভিযানে গেলে সে এসব ডিভাইস ব্যবহার করত। তার কক্ষ থেকে একটি ম্যাপ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই ম্যাপে সে বেশকিছু স্থান চিহ্নিত করে রেখেছে। এর ভেতর কয়েকটি স্থানে তারা অভিযানও করেছে। ’

মুফতি মাহমুদ গত শনিবার রাতে জানান, নব্য জেএমবির অর্থদাতা আব্দুর রহমান ওরফে নাজমুল হক ওরফে আইনুল হক সপরিবারে প্রায় ছয় মাস ধরে আশুলিয়ার বাইপাইলে টেক এলাকার শাহীন মৃধার ভবনের পাঁচতলার ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন। সেখানে তিনি ওষুধ কম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি পরিচয়ে ভাড়া নিয়েছিলেন। গোপনে সংবাদ পেয়ে র‌্যাব-৪-এর কয়েকটি টিম শনিবার দুপুরের পর ভবনটির আশপাশে অবস্থান নেয়। ওই সময় আব্দুর রহমান র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পাঁচতলার জানালার গ্রিল কেটে কৌশলে পালাতে গিয়ে নিচে পড়ে যান। পরে র‌্যাব সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে সাভার এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে আব্দুর রহমান মারা যান।

মুফতি মাহমুদ বলেন, ‘আইনুল তার সাংগঠনিক নাম হলেও গ্রামের মানুষ তাকে রকিবুল নামেই চেনে। তবে পাসপোর্ট ও ড্রাইভিং লাইসেন্স অনুযায়ী তার নাম আব্দুর রহমান। আইনুল নামেই সে বাসাটি ভাড়া নিয়েছিল। ’

আশুলিয়া থানার ওসি মহসীন কাদির জানান, ভবন মালিককে খোঁজা হচ্ছে। তাঁর বাড়ির ভাড়াটিয়াদের তথ্য তিনি সংরক্ষণ করেছেন কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


মন্তব্য