kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জঙ্গি আকাশের নেতৃত্বে বড় হামলার পরিকল্পনা ছিল

এস এম আজাদ ও শরীফ আহমেদ শামীম   

১০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



জঙ্গি আকাশের নেতৃত্বে বড় হামলার পরিকল্পনা ছিল

গাজীপুরের নোয়াগাঁও পাতারটেক এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে আস্তানা গড়ে তোলা ফরিদুল ইসলাম ওরফে জয়নাল আবেদীন ওরফে আকাশ ওরফে প্রভাত ওরফে কমান্ডার আকাশের (২৫) পুরো পরিবারই নব্য জেএমবির সঙ্গে জড়িত। সিরাজগঞ্জের কাজীপুরের বাড়ি থেকে গত ৫ সেপ্টেম্বর আকাশের মা, বোনসহ চারজনকে জঙ্গি-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

তার বাবা আবু সাঈদ প্রায় এক বছর ধরে নিখোঁজ। সিরাজগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে ডিপ্লোমা পাস করে বাড়ি ছাড়ে আকাশ। নব্য জেএমবির সমন্বয়ক তামিম আহমেদ চৌধুরীর দুই আস্থাভাজন সহযোগীর মধ্যে একজন ছিল ওই আকাশ। সে ঢাকা অঞ্চলের অপারেশনাল কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করছিল। নূরুল ইসলাম মারজানকে গুলশানের হলি আর্টিজানে এবং আকাশকে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় হামলার দায়িত্ব দেওয়া হয়। হামলা চালানোর আগে রাজধানীর শেওড়াপাড়া ও কল্যাণপুরের আস্তানায় ছিল আকাশ। জয়নাল আবেদীন আকাশ নাম ধারণ করে শোলাকিয়ায় হামলার ঘটনার পর সে সর্বশেষ গাজীপুরে গিয়ে অবস্থান নেয়। শোলাকিয়ায় হামলার পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে না পারায় সংগঠনে তাকে ভর্ত্সনাও করা হয়। গত শনিবার পুলিশ ও র‌্যাবের অভিযানে ১২ জঙ্গি নিহতের ঘটনার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও সাভারের স্থানীয় পুলিশ ও র‌্যাবের পাশাপাশি পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছেন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, তিন মাস আগে শোলাকিয়ায় হামলার পর গাজীপুরের পাতারটেকে বাসা ভাড়া নিয়ে আস্তানা গড়ে তোলে আকাশ। ওই আস্তানায় প্রশিক্ষণ দিয়ে ঢাকা বা ঢাকার উপকণ্ঠে আরেকটি বড় হামলা চালানোর পরিকল্পনা ছিল এই দলটির। তাদের প্রধান টার্গেট ছিল বিদেশিরা। আকাশের আস্তানায় অবস্থান নেওয়া সাত জঙ্গির মধ্যে চারজন নতুন জঙ্গি ছিল। গতকাল রবিবার পর্যন্ত নিহত সাতজনের মধ্যে চারজনের পরিচয়ের ব্যাপারে অনেকটাই নিশ্চিত হয়েছেন গোয়েন্দারা। বাকি তিনজনের মধ্যে মিরপুর থেকে নিখোঁজ হওয়া আহমেদ রাফিদ আল হাসান ও আয়াদ হাসান খান নামের দুই খালাতো ভাই আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে শনাক্তরা হলো সিরাজগঞ্জের কাজীপুরের গান্ধাইল ইউনিয়নের পশ্চিম বরইতলী গ্রামের আবু সাঈদের ছেলে ফরিদুল ইসলাম ওরফে আকাশ, গাইবান্ধার আবু শামার ছেলে হাফেজ সানাউল্লাহ ওরফে সানোয়ার (২২), পুরান ঢাকার চকমোগলটুলীর ৫৪ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা আজিমউদ্দিনের ছেলে ইব্রাহিম (১৯) ও মেকানিক ছদ্মনামের আরেক জঙ্গি। ইব্রাহিম গত ৮ আগস্ট নিখোঁজ হলে ৯ আগস্ট তার বাবা বংশাল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। গতকাল রাত পর্যন্ত ছবি ও তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নিহত জঙ্গিদের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছিল।

পুলিশ ও স্থানীয়রা বলছে, গাজীপুর ও টাঙ্গাইলের বাসা থেকে নিহত জঙ্গিরা বাইরে বের হতো না। এমনকি তাদের কেউ দেখেনি বলেও দাবি করছে। এদিকে র‌্যাবের দুই অভিযানে নিহতদের মধ্যে চার জঙ্গি মিথ্যা নাম-পরিচয় দিয়ে বাসা ভাড়া নিয়েছিল। গতকাল পর্যন্ত তাদের স্থানীয় পরিচয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে পুরো পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে তিন আস্তানায় অভিযানের ঘটনায় গাজীপুর ও টাঙ্গাইলে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৯ জঙ্গি এবং টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দুই জঙ্গির লাশ ময়নাতদন্ত শেষে সেখানকার মর্গে পড়ে আছে।

সিটিটিসি ইউনিটের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘স্থানীয় পুলিশ নিহতদের পরিচয়সহ আইনগত প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সূত্র ও তথ্যের মাধ্যমে এসব জঙ্গির পরিচয় ও কর্মকাণ্ড নিয়ে আমরা তদন্ত করছি। কয়েকজনের ব্যাপারে প্রাথমিকভাবে পরিচয়সহ আরো কিছু তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। ’ জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, ‘আকাশ অপারেশনাল কমান্ডার ছিল। সে শোলাকিয়ার ঘটনাটি ঘটিয়ে গাজীপুরের ওই আস্তানায় কিছু সহযোগী নিয়ে নতুন করে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছিল। তাদের মধ্যে তেমন কোনো বড় মাপের জঙ্গি ছিল বলে এখনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ’

সিটিটিসি সূত্র জানায়, তামিম চৌধুরীর আস্থাভাজন দুই সহযোগীর মধ্যে একজন ছিল আকাশ। গুলশানের হামলায় মারজানকে দায়িত্ব দেওয়ার পর শোলাকিয়ার হামলায় তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে ওই হামলায় সহযোগীদের ধরা পড়া ও নিহত হওয়ার ঘটনায় আকাশকে ভর্ত্সনা করে তামিম। কল্যাণপুরের আস্তানা থেকেই শোলাকিয়ায় হামলার পরিকল্পনা করা হয়। ঘটনার পর ওই আস্তানা থেকে গাজীপুরে চলে যায় আকাশ। তার সঙ্গে সানোয়ার ও মেকানিক ছিল। পরে ওই ডেরায় আরো চারজন যায়। তবে স্থানীয়ভাবে আস্তানাটিতে চারজন ছিল বলে তথ্য মিলেছে। অন্য সহযোগীরা সেখানে আসা-যাওয়া করত। সূত্র মতে, সিরাজগঞ্জে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে নব্য জেএমবির একটি দলের সক্রিয় হয়ে ওঠার তথ্য মেলে। গত ৫ সেপ্টেম্বর ফরিদুল ইসলাম ওরফে আকাশের মা ও বোনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। ওই সময় তার বাবা আবু সাঈদ এক বছর ধরে নিখোঁজ আছেন বলেও জানা যায়।

গান্ধাইল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ইসমাইল হোসেন জানান, সিরাজগঞ্জ পলিটেকনিকে কম্পিউটার বিভাগ থেকে ডিপ্লোমা পাস করে চাকরির কথা বলে ঢাকায় যায় আকাশ। দেড় বছর ধরে তাকে আর এলাকায় দেখা যায়নি। তার পরিবারের সঙ্গে কারো বিরোধ না থাকলেও তাদের সঙ্গে কেউ মিশত না।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, বিভিন্ন জায়গা থেকে নারীরা এসে আকাশের বাড়িতে তালিম নিত। বিষয়টি নিয়ে আগে কখনো সন্দেহ না হলেও গোয়েন্দা পুলিশ তার মা ও বোনকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর গ্রামবাসী জানতে পারে এই পরিবারের সঙ্গে জেএমবির সম্পৃক্ততার কথা।

সিরাজগঞ্জ ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মো. ওহেদুজ্জামান জানান, আকাশের বিরুদ্ধে কাজীপুর ও উল্লাপাড়া থানায় দুটি মামলা রয়েছে। সে পলাতক ছিল। দীর্ঘদিন ধরেই তার খোঁজে পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়েছে। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে তার মা, বোনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তারা বিচারকের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আকাশের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানায়। তাদের পরিবারের সবাই জঙ্গিসংশ্লিষ্ট। আকাশের বাবা আবু সাঈদও দীর্ঘদিন ধরে পলাতক রয়েছেন।

সিটিটিসি সূত্র জানায়, পাতারটেক আস্তানায় নিহতদের মধ্যে ছিল গাইবান্ধার হাফেজ সানাউল্লা ওরফে সানোয়ার। এই যুবক ছিল আকাশের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। অনেক আগেই বাড়ি ছাড়ে সে। ছবি দেখে তাকে শনাক্ত করা হয়েছে। এখন পরিবারে যোগাযোগ করে অন্য বিষয়গুলো শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

রাজধানীর বংশালের ঠিকাদার আজিম উদ্দিনের ছেলে ইব্রাহিম গত ৮ আগস্ট নিখোঁজ হয়। ৯ আগস্ট তার বাবা বংশাল থানায় জিডি করেন, যার নম্বর ৫৬৩। চকমোগলটুলীর ৫৪ নম্বর বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে থাকত ইব্রাহিম। গতকাল নিহতদের ছবি দেখে প্রাথমিকভাবে একজনের সঙ্গে ইব্রাহিমের চেহারার মিল পাওয়া গেছে। তার স্বজনদের লাশ দেখিয়ে পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে ছদ্মনামের জঙ্গি মেকানিকের সঙ্গে নিহত এক জঙ্গির চেহারার মিল পাওয়া গেছে। তার প্রকৃত পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।

দুই তরুণের ছবি মিলিয়ে দেখা হচ্ছে : মিরপুর মনিপুরের ধনাঢ্য পরিবারের দুই তরুণ এ-লেভেল পাস আহমেদ রাফিদ আল হাসান ও আয়াদ হাসান খান। তারা পরস্পর খালাতো ভাই। গত আগস্ট মাসে দুজনই হঠাৎ নিখোঁজ হয়। এরপর মিরপুর থানায় জিডি করে স্বজনরা। সিটিটিসি সূত্র জানায়, এ দুই তরুণের সঙ্গে নিহত দুজনের চেহারার কিছুটা মিল পাওয়া গেছে। তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দুই তরুণের দূর সম্পর্কের মামা আরেফিন ইসলামের মাধ্যমে তারা জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হয়েছে বলে জানা গেছে। আরেফিনকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি বিভাগের অষ্টম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিল। রাফিদ আল হাসান মিরপুরের পূর্ব মনিপুরের ১২৭০ নম্বর বাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকত। তার বাবা প্রকৌশলী তৌফিক হাসান এবং মা নিলুফার ইয়াসমীন গৃহিণী। এদিকে আয়াদ হাসান তার পরিবারের সঙ্গে মনিপুরের ১৩০৭/২ নম্বর বাসায় থাকত।

মামলা দায়ের, ৯ লাশের ময়নাতদন্ত : এদিকে পাতারটেকে জঙ্গিদের ভাড়া বাসার নিচতলার ফ্ল্যাটের ভাড়াটে আসমা বেগম গতকাল বলেন, ‘আগস্ট মাসের শেষ দিকে ভাড়াটিয়া হিসেবে ওঠে চার যুবক। দরজা-জানালা বন্ধ করে প্রায় সারাক্ষণ রুমেই থাকত তারা। এমনকি জুতাও ঘরের ভেতরে রাখত। চারজনের মধ্যে বাইরে বের হতো দুজন। তাও আবার শুধু বাজারসদাই করতে। তবে তাদের সঙ্গে কোনো দিন কথাবার্তা হয়নি। ’ অভিযান প্রসঙ্গে আসমা বলেন, সকাল ৮টার দিকে সাদা পোশাকে চার ব্যক্তি তাঁর কাছে জানতে চান ওপরে পূর্ব দিকে চার যুবক থাকে কি না। তিনি হ্যাঁ উত্তর দিলে তাঁরা মোবাইল ফোনে কার সঙ্গে কথা বলেন এবং দৌড়ে ওপরে গিয়ে বাইরে থেকে দরজা লাগিয়ে দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিপুলসংখ্যক পুলিশ বাড়ির চারপাশ ঘিরে ফেলে। তখন পুলিশ ওই ভবনে জঙ্গি রয়েছে জানিয়ে তাঁদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বলে। এর কিছুক্ষণ পরই ভবন থেকে গুলির শব্দ পান। র‌্যাব সূত্র জানিয়েছে, তাদের অভিযানে গাজীপুরের হাড়িনালের লেবুবাগান এলাকায় নিহত রাশেদ মিয়া ও তৌহিদুল ইসলাম নিহতের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তিন সদস্যের একটি চিকিৎসক দল ৯ জঙ্গির ময়নাতদন্ত করে।

দলের প্রধান ডা. রফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানান, নিহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলির চিহ্ন রয়েছে। তবে পা, পেট ও মাথায় বেশি গুলি লেগেছে। গুলিবিদ্ধ ও রক্তক্ষরণে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন-অর-রশিদ জানান, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত, সন্ত্রাসের পরিকল্পনা ও সৃষ্টি এবং অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে ওই সাত যুবকের বিরুদ্ধে জয়দেবপুর থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা হয়েছে। তাদের লাশের খোঁজে কেউ আসেনি, পরিচয়ও জানা যায়নি। লাশ নিতে কেউ না এলে পরিচয় জানার জন্য লাশের ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। তাই সংরক্ষণের জন্য জঙ্গিদের লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে। জয়দেবপুর থানার ওসি রেজাউল করিম রেজা জানান, সেই বাড়ির মালিক সোলায়মান সরকার সৌদিপ্রবাসী। তাঁর বড় ভাই কালীগঞ্জের জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের সিদ্দিকিয়া আলিম মাদ্রাসার প্রভাষক ওসমান গনি সরকার দোতলা বাড়িটি দেখাশোনার সুবাদে জঙ্গিদের কাছে দোতলার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া দিয়েছিলেন। অভিযানের পর থেকে তাঁকে পাওয়া যাচ্ছে না।

দুজনের পরিচয় নিশ্চিত নয় : গাজীপুরের হাড়িনালের লেবুবাগানে র‌্যাবের অভিযানে নিহত তৌহিদুল ইসলাম ও রাশেদের পরিচয় পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গতকাল ডুয়েটের গবেষণা ও সম্প্রসারণ দপ্তরের সহকারী পরিচালক কামরুন নাহার বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, র‌্যাবের অভিযানে নিহত দুই জঙ্গির মধ্যে তৌহিদুল ইসলাম গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) শিক্ষার্থী এবং বাড়ি নরসিংদী জেলায় বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। প্রকৃৃতপক্ষে এই তৌহিদুল ইসলাম ডুয়েটের ছাত্র নয়। ডুয়েটের একাডেমিক শাখা থেকে বর্তমান সব ছাত্রের নথি ঘেঁটে সাতজন তৌহিদুল ইসলামের নাম পাওয়া গেছে। তাদের কারো বাড়িই নরসিংদী নয়।

টাঙ্গাইলের দুজনের পরিচয়েও ধোঁয়াশা : টাঙ্গাইল শহরের কাগমারাতে জঙ্গি আস্তানায় নিহত দুই জঙ্গির পরিচয় নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। নিহতরা রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার নিমপাড়া গ্রামের লতিফুর রহমানের ছেলে আতিকুর রহমান এবং একই উপজেলার ইউসুফপুর গ্রামের জুনায়েদ হোসাইনের ছেলে সাগর হোসাইন। গতকাল নিহত দুই জঙ্গির ময়নাতদন্ত টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হয়েছে। লাশও সেখানকার মর্গে রয়েছে। তাদের মৃত্যুর ঘটনায় গতকালই টাঙ্গাইল মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান র‌্যাব-১২ সিপিসি-৩-র কম্পানি কমান্ডার মুহাম্মদ মহীউদ্দিন ফারুকী। এদিকে রাজশাহীর চারঘাট থানার ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মণ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দুজনের নাম-পরিচয় জানার পর থেকেই তাদের পরিবারের সন্ধানে আমরা দুটি গ্রামে ব্যাপক তল্লাশি করেছি। কিন্তু এ ধরনের নাম ও তাদের বাবার নামের সঙ্গে মিলিয়ে ওই দুই গ্রামে কোনো ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ’

র‌্যাব জানায়, টাঙ্গাইল শহরের কাগমারা এলাকায় মির্জা মাঠের কাছে আজহারুল ইসলামের তিনতলা বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষ গত ২৭ সেপ্টেম্বর ভাড়া নেয় দুই যুবক। তারা দুজন নিজেদের ছাত্র পরিচয় দেয়। তবে বাড়ি ভাড়া নিতে এলে তাদের কাছে পরিচয়পত্রসহ বিস্তারিত তথ্য চাইলে তারা সাত দিনের সময় নেয়। শনিবারই তারা পরিচয়পত্র দিতে চেয়েছিল বলে বাড়ির মালিক জানান। সেদিন সকালেই র‌্যাবের অভিযান হয়।

 

(প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন রাজশাহীর নিজস্ব প্রতিবেদক রফিকুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি অসীম মণ্ডল ও টাঙ্গাইল প্রতিনিধি অরণ্য ইমতিয়াজ)


মন্তব্য